নীলফামারীর জলঢাকায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জমি দান করে দশ বছর পর মালিকানা দাবী।রবিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা ও জানাযায় ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের নেকবক্ত বাজার এলাকার সিদ্ধেশ্বরী যাওয়ার সড়কের পাশে স্বাধীন বাংলা নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে। এই বালিকা বিদ্যালয়ে জমি দান করে দীর্ঘ ১০ বছর পর মালিকানা দাবী করে কোর্টে পিটিশন মামলা দায়ের করেছেন দাতা সদস্যের অংশীদার আব্দুল আজিজ ( ৫০) নামের এক ব্যক্তি।এ ঘটনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির যেমন সার্বিক উন্নয়ন কর্মকান্ড ব্যহত হয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে তেমনি প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দাতা সদস্যের টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।বিভিন্ন সুত্রে জানাযায় দীর্ঘ কয়েক বছর লবিংয়ের পর ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মানের বরাদ্দ হয়। এ দিকে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বাউন্ডারি নির্মান কাজ করতে গেলে দাতা সদস্য আকবার আলী নির্মান কাজ ভেঙে দিয়ে চলমান কাজে বাধাঁ প্রদান ও নিষেধ করেন।দাতা সদস্য আকবার আলীর অভিযোগ করে বলেন আমাকে না জানিয়ে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মান করছে কেন..! এতে প্রতিষ্ঠান প্রধানের সঙ্গে দাতা সদস্যের কথা কাটাকাটি হয়।প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক হালিমুর রহমান জানান, এক সপ্তাহ পর দাতা সদস্য আকবার আলী তার আপন ছোট ভাই আব্দুল আজিজ কে দিয়ে বিদ্যালয়ের নামে দানকৃত জমির মাঝ বরাবর ভাগ করে অংশী দারীত্বের অংশ হিসাবে জেলা কোর্টে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করে। যাহার নং এমআর ৩৬৪/২৫ (জল) ধারা১৪৪/১৪৫।মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জলঢাকা থানার এ.এস আই সিরাজুল ইসলাম কর্তৃক তদন্ত পূর্বক কোর্ট নোটিশ প্রেরণ করেন। এতে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মান কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।সুত্রমতে নেকবক্ত মৌজার জে.এল নং ৭০, এস. এ ১৭৮ খতিয়ানের ২৬৮৭ দাগে ৬৮ শতকের মধ্যে বিশ শতক জমি স্বাধীন বাংলা নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নামে দানপত্র করে দেন মৃত বছির উদ্দীনের ছেলে আকবার আলী। যার দলিলপত্র করে দেয় গত ২০১৭ সালের ২৩শে মে। অন্যদিকে দাতা সদস্য আকবার আলীর ছোট ভাই আব্দুল আজিজ গণমাধ্যমকে বলেন, জমি ৬৮ শতক ঠিক আছে। আমার বড় ভাই সামনের দিকে ধরেছে আমি পিছন নিবো একা। এটি হয় না। তাই আমি সামনের দিকে সমান বরাবর ভাগ চাই।এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি দ্বিখণ্ডিত হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে আব্দুল আজিজ জানান, এতে আমার কিছু যায় আসে না।আমি সামনের অংশ চাই।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক হালিমুর রহমান জানান, প্রতিহিংসা চরিতার্থে পরিকল্পিত ভাবে দাতা সদস্য আকবার আলী তার ছোট ভাইকে দিয়ে জমির ভাগ চেয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সম্মান নষ্ট করছে। এছাড়া এ বিদ্যালয়ের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত নয় ( ইব্রাহিম ও জয়নাল আবেদীন ) কে জড়িয়ে পিটিশন মামলা দায়ের করেছে। যা এলাকায় সমালোচনা হচ্ছে। এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জমি দান করে ১০ বছর পর জমি দাবী করা লজ্জা জনক ব্যাপার। জমি দানের সমস্ত কাগজপত্র প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত আছে। তদন্ত সাপেক্ষে আমরা প্রকাশ করবো। তিনি আরো জানান, অনেক কষ্টের পর এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে যখন সার্বিক উন্নয়ন হচ্ছে ঠিক সেই সময়ে প্রতিহিংসা পরায়নহয়ে একটি কুচক্রী মহল প্রতিষ্ঠানটি নষ্ট করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি রক্ষার্থে আমি স্থানীয় প্রশাসন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ এলাকাবাসীর সার্বিক সহায়তা কামনা করছি।

