ঢাকাবুধবার , ২১ অক্টোবর ২০২৬
  1. অনুসন্ধান প্রতিবেদন
  2. আইন ও অপরাধ
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম ও জীবন
  5. কৃষি ও অর্থনীতি
  6. খোঁজ-খবর
  7. জাতীয়
  8. জেলার খবর
  9. তথ্য প্রযুক্তি
  10. দুর্নীতি
  11. নগর ও মহানগর
  12. নির্বাচনীয় খবর
  13. পার্শ্ববর্তী দেশ
  14. ফিচার
  15. ফেসবুক থেকে
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সড়ক দখল ও বেপরোয়া অটোরিকশার বলি ফুটবলার হতে চাওয়া ১৩ বছরের আহনাফ

আনিস প্রধান :
অক্টোবর ২১, ২০২৬ ৩:১৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
​একটি সুনির্দিষ্ট স্বপ্নের পেছনে দৌড়ানোর কথা ছিল ১৩ বছরের কিশোর মুন্সী আহনাফ ইবনে কবীরের। অথচ আজ তাকে লড়াই করতে হচ্ছে হাসপাতালের হিমশীতল অপারেশন থিয়েটারে (ওটি), নিজের একটি পা সচল রাখার তাগিদে। মুগদা আইডিয়াল স্কুলের সপ্তম শ্রেণির এই ছাত্রের স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে দেশের একজন খ্যাতিমান ফুটবলার হওয়া। কিন্তু সড়ক দখলের অরাজকতা এবং অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল এক নিমিষেই থমকে দিয়েছে তার সেই স্বপ্নকে।
​ঘটনাটি তিন মাস আগের। মায়ের সাথে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় চড়ে বাবার বন্ধুর বাসায় যাচ্ছিল আহনাফ। মুগদা এলাকায় রাস্তার ওপর বেআইনিভাবে স্তূপ করে রাখা নির্মাণসামগ্রীর বালুতে রিকশাটি স্লিপ কেটে উল্টে যায়। অন্য আরোহীরা সামান্য আঘাত পেলেও রিকশার নিচে চাপা পড়ে আহনাফ। রিকশার লোহার রডের প্রচণ্ড আঘাতে তার বাম পায়ের হাঁটুর নিচের হাড় ভেঙে দুই টুকরো হয়ে যায়।
​গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত মুগদা ইসলামিয়া পাবলিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রথম অস্ত্রোপচারে তার পায়ে ছয়টি মেটাল রড বসিয়ে পা-টি স্বাভাবিক পজিশনে রাখার চেষ্টা করেন চিকিৎসকরা। ইনফেকশন না হলে তিন মাস পর আরও একটি বড় অস্ত্রোপচারের কথা জানিয়েছিলেন তারা। আজ সেই কাঙ্ক্ষিত ও জটিল অস্ত্রোপচারটি একই হাসপাতালে সম্পন্ন হচ্ছে।
​চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহনাফের এই দুটি অস্ত্রোপচারই অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়সাপেক্ষ। অপারেশনের পর সে হয়তো স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবে, তবে বাকি জীবনে সাধারণ আর দশজন সুস্থ মানুষের মতো এই পায়ে অতিরিক্ত প্রেশার বা চাপ দিতে পারবে না। ফলে তার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নটি এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে।
​এদিকে সন্তানের চিকিৎস খরচ বহন করতে গিয়ে দিশেহারা মধ্যবিত্ত পরিবারটি। আহনাফের বাবা মুন্সী আকবর ইবনে কবীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাধারণ একজিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত। প্রথম ধাপেই তার খরচ হয়েছে দুই লক্ষাধিক টাকা। আজকের অস্ত্রোপচার, ওটি চার্জ ও ওষুধপত্র মিলিয়ে আরও প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। অনিয়মের খেসারত দিতে গিয়ে একটি মধ্যবিত্ত পরিবারকে গুণতে হচ্ছে সর্বস্ব।
​রাজধানী ঢাকায় একদিকে অবৈধ ও বেপরোয়া ব্যাটারিচালিত রিকশার দাপট, অন্যদিকে গৃহনির্মাণকারীদের বেআইনিভাবে সড়ক দখল করে ইট, বালু ও রড ফেলে রাখার চিত্র অহরহ। তিলোত্তমা ঢাকা শহরে এসব অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ বা প্রতিবাদ দেখা যায় না। ফলে প্রতিদিনই শত শত আহনাফ এভাবে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
​নিয়মের তোয়াক্কা না করা এই নগরীতে কোমলমতি আহনাফ এখনো জানে না, তার পা ভেঙে যাওয়ার প্রকৃত অপরাধী কে—রাষ্ট্র, সরকার, নাকি আইন অমান্যকারী সাধারণ জনগণ? যে বয়সে মাঠে বল নিয়ে দৌড়ানোর কথা, সে বয়সে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে নিয়তির দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই এই স্বপ্নবাজ কিশোরের!

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।