মেজর সাদিক” নামে আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। এই বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।মেজর সাদিক” আসলে কে এবং তিনি কাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে। এই বিষয়ে সরকারি বা নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই, এই বিষয়ে আরও তথ্য এবং প্রমাণ প্রয়োজন। আমি মনে করি দেশের জনসাধারনের জানার অধিকার রয়েছে। আসলে দেশের মধ্যে কি ঘটতে যাচ্ছে এমন প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সকলের মধ্যে।আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন মেজরের বিরুদ্ধে। তাকে ইতিমধ্যে আটক করে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা সেনানিবাসে অফিসার্স মেস-এ-তে প্রেস ব্রিফিংয়ে মেজর সাদিককে সেনা হেফজতে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সেনা সদরের সামরিক অপারেশনস পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম-উদ-দৌলা।ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে দলটির বাছাইকৃত ক্যাডারদের এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।রাজধানীর মিরপুর, ভাটারা, কাটাবন ও পূর্বাচল এলাকায় দেওয়া হয় এসব প্রশিক্ষণ। এর মধ্যে গত ৮ জুলাই ভাটারা থানা এলাকার একটি কনভেনশন সেন্টারে সকাল থেকে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের প্রায় ৪০০ নেতাকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীদের দুই দিন আগেই একটি টোকেন সরবরাহ করা হয়। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের এসব ক্যাডারদের প্রশিক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন মেজর সাদিকুল হক ওরফে মেজর সাদিক।তাকে গত ১৭ জুলাই নিজ বাসস্থান রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে আটক করে হেফাজতে নিয়েছে সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সাদেকুল হক সাদেক নামের ওই মেজর বর্তমানে তাদের হেফাজতে রয়েছেন এবং এ বিষয়ে তদন্ত চলমান আছে। তদন্তে তিনি দোষী প্রমাণিত হলে সেনাবাহিনীর প্রচলিত নিয়মে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের ২২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।এদের মধ্যে গত ১২ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকার একটি বাসা থেকে যুবলীগ নেতা সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে ভাটারা থানা পুলিশ। ওই দিন একই এলাকার একটি বাসা থেকে আওয়ামী লীগের নেত্রী শামীমা নাসরিনকে (শম্পা) গ্রেপ্তার করা হয়আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, সোহেল রানা ও শম্পাকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য যাচাই করা হয়। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া মেজর সাদিকুল হক ওরফে মেজর সাদিককে হেফাজতে নেওয়া হয়।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেজর সাদিকুল হক ওরফে মেজর সাদিক কক্সবাজারের রামু ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত।গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মেজর সাদিকের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন তার স্ত্রী সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সুমাইয়া জাফরিন।গোয়েন্দা তথ্য বলছে, সাদেক ও সুমাইয়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার সময় শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নেতাকর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন। আর সরকার উৎখাতের এই পরিকল্পনার বিষয়টি কলকাতায় বসে সার্বিক তত্ত্বাবধান করছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তাকে সহযোগিতায় সেখানে রয়েছেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ও পুলিশের সাবেক কর্মকর্তারা। এ ছাড়া সরকার উৎখাতের এই পরিকল্পনায় কৌশলগত সহযোগিতা করছেন দিল্লিতে অবস্থান করা পলাতক অতিরিক্ত আইজিপি ও পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান পলাতক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মুজিবুর রহমান।এদিকে আজ শুক্রবার আইএসপিআর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা সংক্রান্ত অভিযোগে সেনা হেফাজতে নেওয়া সেনা কর্মকর্তার বিষয়ে তদন্তে আদালত গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আদালতের সুপারিশক্রমে সেনা আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।আইএসপিআর আরো জানায়, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে তদন্ত আদালত গঠন করা হয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। পূর্ণ তদন্ত শেষ হওয়া সাপেক্ষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ওই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উলেখ্য নাশকতা চালানোর জন্য কর্মশালার নামে আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত) ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৪০০ ক্যাডারকে প্রশিক্ষণ দেয়ার অভিযোগে মেজর সাদেকুল হক সাদিকসহ ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সাদিকের বিষয়ে তদন্ত চলার কথা সেনাবাহনীর পক্ষ থেকে জানালো হলেও বাকিদের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়, সরকার উৎখাতে আওয়ামী নাশকতার ছক অনুযায়ী এর আগেও রাজধানীর অন্তত চারটি স্থানে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এর মধ্যে সুরক্ষিত একটি স্থানেও প্রশিক্ষণ দেয়া হয় বাছাই করা ক্যাডারদের। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার ৫০০ জনকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। চাকরিরত একজন মেজর এ পর্যন্ত হওয়া প্রশিক্ষণগুলোর সমন্বয় করেছেন। এসব প্রশিক্ষণে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন বরগুনার যুবলীগ নেতা সোহেল রানা, গোপালগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেত্রী শামীমা নাসরিন শম্পা এবং মেহেরপুরের যুবলীগ আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান রিটন।আরো জানা গেছে, কলকাতার সল্টলেকের বাসায় বসে সরাসরি ঢাকার এসব প্রশিক্ষণসহ সার্বিকভাবে সরকার উৎখাতের পরিকল্পনার বিষয়টি তত্ত্বাবধান করছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তাকে সহযোগিতার জন্য তার সল্টলেকের বাসায় অবস্থান করছেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ও পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা। অন্যদিকে দিল্লিতে অবস্থান করা পলাতক অতিরিক্ত আইজিপি ও এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান পলাতক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মুজিবুর রহমান তাদের কৌশলগত সাপোর্ট দিচ্ছেন।

