ঢাকা জেলার আশুলিয়ায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক মোঃ সোহেল রানা। এ সময় তাঁর কাছে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসে কর্মরত এক সুপারভাইজার ও তাঁর সঙ্গে থাকা শ্রমিকদের বিরুদ্ধে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে আশুলিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সাংবাদিক মোঃ সোহেল রানা দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার সহ-সম্পাদক এবং ঢাকা প্রেসক্লাবের মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক। তাঁর পিতার নাম মোঃ আব্দুল মজিদ। তাঁর গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে এবং বর্তমান ঠিকানা ঢাকার আশুলিয়ার ইয়ারপুর এলাকায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার সকালে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে একটি অটোরিকশার দুই যাত্রীকে মারধরের ঘটনা দেখতে পান সাংবাদিক সোহেল রানা। এ সময় তিনি মারধরের প্রতিবাদ করেন এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করে সংবাদ সংগ্রহের চেষ্টা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসে কর্মরত এক সুপারভাইজার তাঁর সঙ্গে থাকা শ্রমিকদের নিয়ে সাংবাদিকের ওপর অহেতুক হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। হামলার সময় তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় এলাকাবাসী ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিকের পক্ষ থেকে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা প্রেসক্লাব। সংগঠনের সভাপতি আওরঙ্গজেব কামাল এক বিবৃতিতে বলেন, “প্রতিনিয়ত সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একজন সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলা ও নির্যাতনের শিকার হবেন, এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তার করতে হবে। সাংবাদিকের ছিনিয়ে নেওয়া টাকা, মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা উদ্ধারেরও দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। সংবাদ সংগ্রহ ও সত্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বাধা সৃষ্টি বন্ধে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
ঢাকা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং সাংবাদিক সোহেল রানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।

