আশাশুনির প্রতাপনগরে মাদক, ইভটিজিং, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে আশাশুনির প্রতাপনগরে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ১১ টায় উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ইউনিয়ন পুলিশিং কমিটির আয়োজনে ইউপি চেয়ারম্যান আল. আবু দাউদ ঢালীর সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ মু. মমিনুল ইসলাম (পিপিএম) বলেন, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে দেশের যুবসমাজকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে দেশের সম্পদে পরিনত করতে হবে। সেই সুশিক্ষত সন্তান কখনও মাদক স্পর্শ করবে না। মেয়েদের উত্যক্ত করে বেড়াবে না। নিজেকে জাহির করতে সন্ত্রাসের পথ বেছে নেবে না। ধর্মের দোহাই দিয়ে কারও ফাঁদে পড়ে জঙ্গীবাদের সাথে জড়িয়ে পড়বে না। সেজন্যে প্রত্যেক পিতা-মাতাকে অবশ্যই সন্তানের প্রতিটা পদক্ষেপ সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে হবে। স্কুল কলেজে পাঠিয়ে নিশ্চিন্তে বসে থাকলে চলবে না। নিজের সন্তানের ভবিষ্যত নিজেকে তৈরী করে নিতে হবে। মাদক, ইভটিজিং, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ একটি সামাজিক ব্যধি। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সকল মানুষের বসবাসোপযোগী একটি সুন্দর সমাজ গড়তে আপনারা নিজেরা উদ্দ্যোগী হোন ও পুলিশকে সহযোগিতা করুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক শম্ভুজিৎ মন্ডল ও উপজেলা পুলিশিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক এনএমবি রাশেদ সরোয়ার শেলী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, ইউনিয়ন পুলিশিং কমিটির সাবেক সভাপতি রিয়াছাদ আলি মামুন। অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন কলেজ ও মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, মাদ্রাসা ও স্কুলের সুপার ও শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ইউপি সদস্যবৃন্দ ও সকল শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেন।
আশাশুনির গাজীপুর মাদ্রাসার বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগের তদন্ত চলাকালে অভিযোগ প্রত্যাহারে শান্তিপূর্ণ সমাধান
আশাশুনি প্রতিনিধি : আশাশুনির গাজীপুর আলিম মাদ্রাসার গভর্নিং বডিসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগকারী সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে অভিযোগ প্রত্যাহার করে শান্তিপূর্ণ সমাধান করে নিয়েছেন। মাদ্রাসার স্বার্থে নিজের ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানান অভিযোগকারী অভিভাবক শামীম হোসেন সুরাত। তবে শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন একটি কুচক্রী স্বার্থন্বেষী মহল। তারা এটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে অতীতের মত নানাধরনের অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও সচেতন এলাকাবাসী। বুধবার ৩০ নভেম্বর বেলা ১টার দিকে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অজিত কুমার সরকার, সহকারী প্রোগ্রামার সিরাজুল ইসলাম ও সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমরেশ কুমার দাশকে সাথে নিয়ে অভিযোগকারী শামীম হোসেন সুরাত ও প্রতিপক্ষ অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানসহ গভর্নিং বডির কর্মকর্তা সদস্যদের উপস্থিতিতে তদন্ত কাজ সম্পন্ন হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা অজিত কুমার সরকার জানান, প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক সুরাত আলী বিভিন্ন অভিযোগ তুলে নিয়ে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছিলেন। তদন্তের শেষ পর্যায়ে বাদী ও বিবাদী পরষ্পর নিজেরা মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে নিজেদের মধ্যে আপোষ মিমাংসা করে নেন। বাদী তদন্তস্থলেই নিজের অভিযোগ প্রত্যাহার করছেন এবং অন্যান্য দপ্তরে করা সকল অভিযোগ প্রত্যাহার করবেন বলে উপস্থিত সাংবাদিক ও সকলের সামনে অঙ্গিকার করেন। আমরা বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তপক্ষকে লিখিতভাবে অবগত করব। এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান জানান সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়ে আসছে। এই শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষরা নানা ধরণের অপপ্রচার ও উস্কানীমূলক বক্তব্য দিয়ে অতীতের মত ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের পায়তারা করে যাচ্ছে।

