বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করে বলেছেন,একটা লড়াই হয়েছে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, আরেকটা লড়াই হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে । শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জাতীয় সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আজকের সমাবেশের আয়োজন করতে গিয়ে, এখানে আসতে গিয়ে আমাদের তিন ভাই ইন্তেকাল করেছেন। তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি।আল্লাহ তাদের জান্নাত দিন। পরিবারকে ধৈর্য ধরার তাওফিক দিন। তিনি বলেন, জামায়াত ইসলামী যদি আল্লাহর মেহেরবানিতে ও জনগণের ভালোবাসা নিয়ে সরকার গঠন করে তাহলে কোনো মন্ত্রী ও এমপি সরকারি প্লট গ্রহণ করবে না।কোনো মন্ত্রী ও এমপি ট্যাক্সবিহীন গাড়ি ব্যবহার করবে না। কোনো মন্ত্রী ও এমপি নিজের হাতে টাকা চালাচালি করবে না। যদি কোনো এমপি বা মন্ত্রী নির্দিষ্ট কাজের জন্য বরাদ্দ পেয়ে থাকেন, কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে
বাংলাদেশের আঠারো কোটি মানুষের কাছে প্রতিবেদন তুলে ধরতে বাধ্য থাকবে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদা আমরা নেব না। দুর্নীতি করব না। চাঁদা আমরা নিতে দেব না, দুর্নীতিও সহ্য করব না। তিনি বলেন, চাঁদা আমরা নেব না। দুর্নীতি করব না। চাঁদা আমরা নিতে দেব না, দুর্নীতিও সহ্য করব না। এমন বাংলাদেশই আমরা দেখতে চাই। যুবকদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, তোমাদের সঙ্গে আমরা আছি। আমি আজ এখানে জামায়াতের আমির হিসেবে কথা বলতে আসিনি। আমি এসেছি বাংলাদেশের আঠারো কোটি মানুষের একজন হয়ে কথা বলতে। আমি শিশুদের বন্ধু, যুবকদের ভাই, আমি বয়স্কদের সহযোদ্ধা। আমি তাদের মুক্তির জন্যই এখানে দায়িত্ব নিয়ে দাঁড়িয়েছি। আল্লাহর ইচ্ছা, শরীর আমাকে সাময়িকভাবে সহযোগিতা করেনি, এটাও আল্লাহর ইচ্ছা যে, তিনি আমাকে এখন কথা বলার সুযোগ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণির মানুষের জন্য আমাদের এই লড়াই নয়।রাস্তার একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, চা-বাগানের শ্রমিক, রক্ত পানি করে ঘাম ঝরানো আমার একজন রিকশাচালক ভাই, মাঠে-ময়দানে বাংলাদেশের মানুষের মুখে যারা এক মুঠো ভাত তুলে দিতে চায় সেই কৃষক বন্ধুদের জন্য আমি এখানে কথা বলতে এসেছি। আমি কোনো অভিজাত শ্রেণির হয়ে এখানে কথা বলতে আসিনি। জুলাই বিপ্লবের সময় শহীদ না হতে পেরে আফসোস করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, আমি আজীবন মানুষের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেছি। জেল-জুলুমের পরোয়া করি নাই। আমার আফসোস, ২৪ সালে জাতিকে মুক্তি দিয়ে গিয়ে যারা জীবন দিয়ে শহীদ হলো কিন্তু আমি তাদের একজন হতে পারলাম না। ‘আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন, পরবর্তীতে যে লড়াই হবে, সে লড়াইয়ে যেন আল্লাহ আমাকে শহীদ হিসেবে কবুল করেন। তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদরা যদি না দাঁড়াত, তাহলে ২৪ জীবনবাজি রাখা যুদ্ধটা না হলে, আজকে যারা বিভিন্ন দাবিদাওয়া করছেন, তাদের দাবিগুলো কোথায় থাকত। সুতরাং আমাদের প্রিয় শহীদদের হেয় করা যাবে না। অহংকার করা যাবে না। কোনো রাজনৈতিক দলকে অপমান করা যাবে না। যদিও কেউ এগুলো করে, তাহলে তাদের মধ্যে ফ্যাসিবাদের রোগ বীজ বুনেছে।
এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় হঠাৎ মঞ্চে পড়ে যান। গরমে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে সমাবেশ শেষে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, জামায়াত আমিরকে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর প্রচার বিভাগ থেকে জানানো হয়, দলের আমিরের প্রেশার ও সুগার লেভেল ঠিক আছে। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ডা. শফিকুর রহমানের সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছে দলটি। সরেজমিনে দেখাযায় বিকাল সোয়া ৫টার দিকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য মাইক্রোফোনের সামনে যান। বক্তৃতা শুরু করার কিছুক্ষণ পর গরমের কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তিনি মঞ্চে লুটিয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীরা তাকে তুলে দাঁড় করান। আবার বক্তব্য দিতে শুরু করেন তিনি। পরে দ্বিতীয়বার অসুস্থ হয়ে মঞ্চে পড়ে যান। জামায়াত আমির অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসকরা তাকে চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেন। তৎপর হয়ে ওঠেন স্বেচ্ছাসেবকরা।পরে অসুস্থ অবস্থায় মঞ্চে বসেই মাইক হাতে নিজের সমাপনী বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান।

