বিএনপির সংসদ সদস্যদের পদত্যাগের পর বগুড়ায় শূন্য ঘোষিত জাতীয় সংসদের দুটি আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন আলোচিত ইউটিউব সেলিবিটি ও অভিনেতা আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। এ দুই শূন্য আসনে প্রচার-প্রচারণা-গণসংযোগে এগিয়ে রয়েছে হিরো আলম। তিনি কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু গভীর রাত পর্যন্ত বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) ও বগুড়া-৬ (সদর) এই দুই আসনের পাড়া মহল্লা চষে বেড়াচ্ছেন। এলাকার বড় ধরনের কোন নেতা কর্মীরা তার সাথে না থাকলেও অনেক অভিনেতা ও সাধারন মানুষ তার সাথে নির্বাচনে মাঠে রয়েছেন। এছাড়া ফেসবুক ও ইউটিউবে তিনি প্রচার ও প্রচালনায় সকলের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। যে কারনে হেবী ওয়েট প্রার্থীরা রয়েছে চরম দূরচিন্তায়। এবিয়ে হিরো আলম বলেন, আমি একতারা প্রতিক নিয়ে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনে উপ-নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। এলাকার সাধারন মানুষ আমার পাশে রয়েছে। কোন রকম সমস্যা না হলে আমি অবশ্রই বিজয়ী হবো।
এদিকে এলাকাবাসী তার ভক্তরা বলছেন হিরো আলম আসলেই একজন হিরো। তিনি সবসময় নিজের উপর বিশ্বাস রেখে পরিবেশের বিপরীতে একা দাঁড়িয়ে কিভাবে নিজের ইচ্ছে ও স্বপ্নপূরণ করতে হয় তার প্রমান তিনি দিয়েছেন। তবে এটা ভোটের লড়াই নির্বাচনের ভোট গণনা না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যায় না। তবে তিনি সুবিধাজনক স্থানে রয়েছেন। অনেক বলেছেন,তার টাকা-পয়সা, খ্যাতি, প্রভাব, শিক্ষা কিংবা রূপ কিছুই নেই তবুও তিনি আজ হিরো আলম হয়েছেন। তিনি একটা নিম্নবিত্ত পরিবারে সন্তান। ছোটবেলায় খেয়ে না খেয়ে অতিবাহিত করেছেন। তার বাবা চানাচুর বিক্রি করে সংসার চালাতো। সারাদিন হকারি করে রাতে ফিরেই স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করা ছিলো তার বাবার নিত্যদিনের কাজ। তিনি ক্লাশ থ্রি বা ফোরে থাকা অবস্থায় এক বৃষ্টিস্নাত রাতে হিরো আলম ওরফে আশরাফুল আলমের মাকে মেরে ছেলেকেসহ ঘর থেকে বের করে দেয়। সে রাতে হিরো আলম মায়ের সাথে চলে আসেন নানার বাড়িতে। এখানেই তার শিক্ষা জীবনের সমাপ্তি ঘটে। তারপর ক্যাসেটের দোকান দিয়ে পরিবার চালিয়েছেন। কিন্তু তার স্বপ্ন ছিলো অনেক বড়ো হওয়ার। বলতে গেলে আকাশকুসুম কল্পনা। সিনেমায় অভিনয় করা। যে কারনে তিনি সবসময় অভিনেতা ও পরিচালকের কাছে অনেকবার অপমান, তুচ্ছতাচ্ছিল্য হয়েছেন। তবুও তিনি থেমে যাননি। তিনি বর্তমানে নিজের স্বপ্নপূরণ করতে কোনো কমতি রাখেনি। একটা প্রভাবশালী জাতি বা গোষ্টির সাথে লড়াই এ পর্যন্ত এসেছেন। এবং সফলও হয়েছে। নেট দুনিয়য়া তিনি অনেক অভিনেতার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন । তিিনি আজকে সে কোটি টাকার মালিক, এক সময় যাঁরা তাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতো তারাই আজকে তাকে ব্যবসার জন্য কাছে ডাকছে। বন্যাসহ বিভিন্ন দূর্যোগে সে সাধ্যমতো মানুষ পাশে দাঁড়িয়েছে। নাজমুল নামের এক ভক্ত বলেন সে মাত্র ক্লাস থ্রি-ফোর পর্যন্ত পড়ে যে চমৎকারভাবে সাংবাদিকদের নানান প্রশ্নের জবাব দেয তাতে আমি মনে করি শিক্ষিত সমাজের শেখার অনেক কিছু আছে। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানাযায়,বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলমের একতারা প্রতীকে ভোট চেয়েছেন চিত্রনায়িকা মুনমুন। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে শহরের সাতমাথা এলাকায় হিরো আলমকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে দেখা যায় মুনমুনকে। এদিকে গত শনিবার সকাল থেকে হিরো আলম সমর্থকদের নিয়ে ট্রাকযোগে বগুড়া-৪ নির্বাচনী এলাকার কাহালু এবং নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালান। ট্রাকে হিরো আলম একতারা হাতে দাঁড়িয়ে ভোট চান। ট্রাকে টানানো মাইকে বাজছিল নির্বাচনী গান। এ সময় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁর সঙ্গে সেলফি ও ছবি তুলতে ভিড় করেন। নির্বাচনী প্রচারণায় নামার বিষয়ে চিত্রনায়িকা মুনমুন গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘উত্তরবঙ্গ এসেছিলাম। হিরো আলম স্নেহের ছোট ভাই। বললেন, ‘‘আপু, নির্বাচনে
প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি, একটু এসে দোয়া দিয়ে যান।’’ ওর কথা ফেলতে পারিনি। ব্যস্ততার মধ্যেও ওর জন্য ভোট চাইতে এসেছি। এলাকাবাসী জানাই চিত্রনায়িকা মুনমুন শহরের সাতমাথায় রাত ২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত প্রচারণা চালান। একতারা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সেখানে উপস্থিত ভোটারের উদ্দেশে মুনমুন বলেন, ‘হিরো আলম প্রান্তিক পরিবার থেকে উঠে আসা মানুষ। কিং অব রুট লেভেল। প্রান্তিক মানুষের কষ্ট সে ভালোভাবে বোঝে। সে মানুষের জন্য কাজ করতে চায়। সে নির্বাচিত হলে প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন হবে। তিনি আরো বলেন হিরো আলম অনেক সংগ্রাম করে এত দূর পর্যন্ত এসেছে। ভোটারদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা হিরো আলমের সাহসের প্রতি সম্মান জানিয়ে একবারের জন্য হলেও তাকে এমপি নির্বাচিত করুন। বগুড়া-৬ সদর আসনে নির্বাচনে ১০ জন প্রার্থী প্রতীক পেয়ে মাঠে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন। নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত ও বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু। তার জন্য কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে এক ডজন হেভিওয়েট নেতা সপ্তাহব্যাপী নির্বাচনী জনসভা, মতবিনিময়, গণসংযোগসহ নির্বাচনী প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। স্বাধীনতাপরবর্তী আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য বগুড়া সদরে না থাকায় উন্নয়নে কিছুটা ভাটা পড়েছে। কেন্দ্রীয় নেতারা বগুড়ায় এসে নির্বাচনী জনসভায় ঘোষণা দিয়েছেন তাদের দলীয় প্রার্থীকে নির্বাচিত করা হলে বগুড়ার অসমাপ্ত ও প্রতিশ্রুতি দেয়া সব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া লাঙ্গল প্রতীকে জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব মো. নুরুল ইসলাম ওমর, স্বতন্ত্র প্রার্থী ট্রাক প্রতীকে আব্দুল মান্নান আকন্দ, কুড়াল প্রতীক নিয়ে সরকার বাদল, মশাল প্রতীকে জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. ইমদাদুল হক ইমদাদ, মাছ প্রতীকে গণফ্রন্টের মো. আফজাল হোসেন, বটগাছ প্রতীকে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. নজরুল ইসলাম ও গোলাপ ফুল প্রতীকে জাকের পার্টির মোহাম্মদ ফয়সাল বিন শফিক নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও আপেল প্রতীকে মুক্তিযোদ্ধা মাছুদুর রহমান হেলাল। 
২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রার্থী হয়ে জয়ী হন। জয়ী হওয়ার পরে তিনি আসনটি ছেড়ে দিলে ২০১৯ সালের জুন মাসে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী জিএম সিরাজ জয়ী হন। এরপর ২০২২ সালের ১১ ডিসেম্বর এই আসন থেকে জিএম সিরাজ পদত্যাগ করলে তৃতীয়বারের মতো তফশিল ঘোষণা করা হয়। অপরদিকে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন মোট ৬ জন। প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে ভোটের মাঠে নেমেছেন। এর মধ্যে একতারা নিয়ে হিরো আলম মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। এছাড়া দলীয় প্রতীক মশাল নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন জাসদের এ কে এম রেজাউল করিম তানসেন, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির শাহীন মোস্তফা কামাল, ডাব প্রতীকে বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. তাজ উদ্দীন মণ্ডল ও গোলাপ ফুল প্রতীকে জাকের পার্টির মো. আব্দুর রশিদ সরদার এবং মো. কামরুল হাসান সিদ্দিকী জুয়েল পেয়েছেন কুড়াল প্রতীক। জাসদের এ কে এম রেজাউল করিম তানসেন এই আসন থেকে ২০১৪ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৮ সালে জাসদের এ কে এম রেজাউল করিম তানসেন আবারো প্রার্থী হলেও বিএনপির প্রার্থী মোশারফ হোসেনের কাছে পরাজিত হয়ে যান। দুটি উপজেলায় ভোটাররা বলছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কামরুল হাসান সিদ্দিকী জুয়েল একসময় বিএনপি করতেন। বিএনপি থেকে নন্দীগ্রাম উপজেলায় পৌর মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাই ভোটের মাঠে অন্যান্য প্রার্থীদের চেয়ে প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে আছেন। অপর প্রার্থীরা ভোটের মাঠে নেমেছেন ভোট প্রার্থনা করছেন। সব মিলিয়ে বগুড়ার দুটি আসনের উপনির্বাচন নিয়ে ভোটাররা মাতিয়ে আছেন।
উলেখ্য,বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তে বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মো. সিরাজ ও বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন ১১ ডিসেম্বর স্পিকারের কাছে পদত্যাগ করেন। আসন দুটি শূন্য ঘোষণার পর ১ ফেব্রুয়ারি ইভিএমে ভোটগ্রহণের জন্য তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ ছিলো ৫ জানুয়ারি। ৮ জানুয়ারি মনোনয়ন বাছাই ও ১৫ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুযোগ ছিলো।

