ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  1. অনুসন্ধান প্রতিবেদন
  2. আইন ও অপরাধ
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম ও জীবন
  5. কৃষি ও অর্থনীতি
  6. খোঁজ-খবর
  7. জাতীয়
  8. জেলার খবর
  9. তথ্য প্রযুক্তি
  10. দুর্নীতি
  11. নগর ও মহানগর
  12. নির্বাচনীয় খবর
  13. পার্শ্ববর্তী দেশ
  14. ফিচার
  15. ফেসবুক থেকে
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সেবার মাধ্যমে সত্যিকার অর্থেই ‘জনগণের পুলিশ’ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেক্স রিপোর্ট :
অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১:১০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন এবং আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা প্রদানের মাধ্যমে পুলিশকে প্রকৃত অর্থে ‘জনগণের পুলিশ’ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ভয়ভীতি, পক্ষপাতিত্ব কিংবা পেশিশক্তির প্রভাব নয়, বরং পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিতে হবে।আজ সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির ঐতিহাসিক প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট এবং ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (২০০৬ ব্যাচ)-এর ছয় মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। তাই সেবাপ্রত্যাশী সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আরও আন্তরিক হতে হবে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে বৈষম্যহীনভাবে নাগরিকদের আইনি সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

দক্ষ ও মানবিক পুলিশ বাহিনী গঠনে সরকারের উদ্যোগ

বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্বল হয়ে পড়া পুলিশ বাহিনীকে পুনর্গঠন করে দক্ষ, আধুনিক, মানবিক ও জনসেবামুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন, জনবল বৃদ্ধি, যানবাহন সংগ্রহ, মানসম্মত প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের অপেক্ষা, আইনি প্রক্রিয়া ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তাঁরা দেশসেবার এই গুরুত্বপূর্ণ পেশায় যোগ দিয়েছেন। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে কোনো ধরনের বৈষম্য কিংবা অন্যায়কে প্রশ্রয় না দেওয়ার জন্য তিনি তাঁদের নির্দেশনা দেন।

পুলিশের পোশাক ও দায়িত্বকে নিছক চাকরি হিসেবে না দেখে জনগণের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মহান দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।

আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তে গুরুত্বারোপ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত অপরাধের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ, অনলাইন জালিয়াতি, আর্থিক প্রতারণা, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, মানব পাচার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলা করা পুলিশের জন্য ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

এসব অপরাধ কার্যকরভাবে দমনে প্রচলিত অভিজ্ঞতার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, বৈজ্ঞানিক তদন্তপদ্ধতি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং ডিজিটাল ফরেনসিকের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দুর্ব্যবহার, পক্ষপাতিত্ব কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের কোনো স্থান থাকা উচিত নয়। পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

নবীন কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ পুলিশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। তবে দায়িত্বে অবহেলা, অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধানও কার্যকর থাকবে।

অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্যরা, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল মো. মাইনুল হাসান, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা মো. রেজাউল আলম সরকার এবং রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আশিক সাঈদ।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি, প্রশিক্ষণার্থীদের অভিভাবক এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন, অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং প্রশিক্ষণে বিভিন্ন বিষয়ে কৃতিত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। এএসপি প্রবেশনার মো. মাহবুব হোসেন প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন।

প্রশিক্ষণে কৃতিত্ব অর্জনকারীরা

২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্টদের মধ্যে বেস্ট সার্জেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ওমর ফারুক। বেস্ট একাডেমিক হয়েছেন মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ হয়েছেন সাইফুল ইসলাম এবং বেস্ট শ্যুটার হয়েছেন আসাদুজ্জামান।

অন্যদিকে, ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (২০০৬ ব্যাচ) থেকে বেস্ট ক্যাডেট নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। বেস্ট একাডেমিক হয়েছেন মো. বোরহানুল ইসলাম, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ হয়েছেন দেওয়ান গোলাম রসুল এবং বেস্ট শ্যুটার হয়েছেন মো. কামাল গনি।

প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্টের ৮৪ জন এবং ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (২০০৬ ব্যাচ)-এর ১৬২ জনসহ মোট ২৪৬ জন প্রশিক্ষণার্থী তাঁদের মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করলেন।

নবীন এই পুলিশ কর্মকর্তাদের দক্ষতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।