ঢাকা, ২৮ অক্টোবর ২০২৬: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর।
বুধবার রাতে টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাপানের কাছে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনাময় অংশীদার হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব, গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকার এবং উন্নয়নমূলক উদ্যোগ জাপানের আস্থা অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
তিনি বলেন, জাপান বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে কৌশলগত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
সফরে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলাসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে ছয়টি সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং দুটি ইয়েন ঋণ প্রকল্পে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
হুমায়ুন কবীর বলেন, সরকারি পর্যায়ের সহযোগিতার পাশাপাশি বাংলাদেশের বেসরকারি খাতেও জাপানি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে বিভিন্ন খাতে প্রায় ৬০০ কোটি মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে আগ্রহের বিষয়টি সামনে এসেছে। আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও আলোচনায় স্থান পেয়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আরও প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা, কর প্রণোদনা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া তিনি জাপানের পোশাক ব্র্যান্ড ইউনিক্লোর সদর দপ্তর পরিদর্শন করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। এ সময় বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী, উৎপাদন সক্ষমতা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) উদ্যোগে আয়োজিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামেও বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তি, তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগগুলো জাপানি ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সামনে তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের সড়ক, রেলপথসহ বিভিন্ন অবকাঠামো খাতে জাপানি বিনিয়োগ ও যৌথ অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি জানান, দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জাপানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব জোরদার করাই এ সফরের অন্যতম লক্ষ্য।
হুমায়ুন কবীর আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য নতুন সম্ভাবনার পথ তৈরি হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন উপস্থিত ছিলেন।

