ঢাকামঙ্গলবার , ৩ নভেম্বর ২০২৬
  1. অনুসন্ধান প্রতিবেদন
  2. আইন ও অপরাধ
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম ও জীবন
  5. কৃষি ও অর্থনীতি
  6. খোঁজ-খবর
  7. জাতীয়
  8. জেলার খবর
  9. তথ্য প্রযুক্তি
  10. দুর্নীতি
  11. নগর ও মহানগর
  12. নির্বাচনীয় খবর
  13. পার্শ্ববর্তী দেশ
  14. ফিচার
  15. ফেসবুক থেকে
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কুইক রেন্টালের নামে লুটপাটের পরিবর্তে সাশ্রয়ী উপায়ে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ডেক্স রিপোর্ট :
নভেম্বর ৩, ২০২৬ ১:০৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ব্যয়বহুল ও বিতর্কিত কুইক রেন্টাল ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীলতা না বাড়িয়ে সাশ্রয়ী এবং টেকসই সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদা পূরণে সরকার যেমন সচেষ্ট, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যমান চুক্তিগুলোর পর্যালোচনা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, জ্বালানির বিকল্প উৎস তৈরি এবং সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বিদ্যুৎ বিভাগ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) যৌথভাবে প্রথমবারের মতো এ আয়োজন করেছে। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বড় লক্ষ্যমাত্রা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, উদ্যোক্তা এবং সাধারণ নাগরিকদের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দের কথাও জানান তিনি। তাঁর মতে, অর্থায়নের অভাবে যেন কোনো উদ্যোক্তা সম্ভাবনাময় প্রকল্প বাস্তবায়ন থেকে পিছিয়ে না পড়েন, সে বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।

তারুণ্যের উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন ধারণা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন দেশের অর্থনীতি এবং উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। এ কারণে চলতি বাজেটে স্টার্টআপ খাতের জন্য বছরে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিশেষ প্রস্তুতি

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করার কারণে আন্তর্জাতিক যুদ্ধ ও অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। আমদানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকার ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে। চলতি অর্থবছরেও বিদ্যুতের চাহিদা বিবেচনায় ডিজেলের মজুদ বৃদ্ধি, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত এবং বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি তেল কেনার জন্য ইতোমধ্যে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা করে সময় নষ্ট করার পরিবর্তে এখন সবচেয়ে জরুরি হলো ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ এবং ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।

জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ

সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন দ্রুততর করতে সরকার ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি এ খাতে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে কর ও শুল্ক সুবিধা, নীতিগত সহায়তা এবং আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হলে আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে অতিরিক্ত ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করা যাবে।

সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক ভবন এবং আবাসিক ভবনের অব্যবহৃত ছাদ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রিতে মিলবে অর্থ

নেট মিটারিং পদ্ধতির মাধ্যমে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ নিজস্ব ব্যবহারের পর জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রণোদনাসহ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ কেনার ব্যবস্থা করা হবে।

নিজের বাসভবনেও সৌর প্যানেল স্থাপনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের কিছু অংশ ইতোমধ্যে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পাশাপাশি যন্ত্রপাতির দাম কমানো, সহজ অর্থায়ন এবং গ্রাহকসেবার মান উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। এ খাতের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থাপিত সোলার সিস্টেমের কার্যকারিতা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও গ্রাহকের সমস্যা সমাধানে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

কৃষিতে সৌরশক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা

কৃষি খাতেও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে প্রচলিত বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পকে সৌরচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ হ্রাস এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহারের বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব হলেও অপচয় রোধ করা সবার দায়িত্ব। দিনের আলো কাজে লাগানো এবং প্রয়োজন ছাড়া বৈদ্যুতিক বাতি, পাখা ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রবাসী ও উন্নয়ন সহযোগীদের বিনিয়োগের আহ্বান

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিকাশে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, শুধু বড় প্রকল্প নয়, স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পেও অর্থায়ন এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সরকার, বিনিয়োগকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে সূর্যের আলোকে জাতীয় সম্পদে পরিণত করে একটি পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘স্ফুরণ: টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনের খোঁজে ২০২৬’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। পরে তাঁদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহরুখ। এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।