ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  1. অনুসন্ধান প্রতিবেদন
  2. আইন ও অপরাধ
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম ও জীবন
  5. কৃষি ও অর্থনীতি
  6. খোঁজ-খবর
  7. জাতীয়
  8. জেলার খবর
  9. তথ্য প্রযুক্তি
  10. দুর্নীতি
  11. নগর ও মহানগর
  12. নির্বাচনীয় খবর
  13. পার্শ্ববর্তী দেশ
  14. ফিচার
  15. ফেসবুক থেকে
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মানবতাবিরোধী অপরাধে হানিফের মৃত্যুদণ্ড, অপর তিন আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড

ডেক্স রিপোর্ট :
অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১২:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই মামলায় অপর তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী এবং কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান।

রায়ে সাজাপ্রাপ্ত চার আসামির স্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন অথবা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আজ এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। মামলার চার দণ্ডিত আসামিই পলাতক রয়েছেন।

তিনটি অভিযোগে বিচার

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ আনা হয়।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৫, ১৭ ও ৩০ জুলাই আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে উপস্থিত থেকে তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেন মাহবুব উল আলম হানিফ। এ ছাড়া ২৯ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় আন্দোলনকারীদের হত্যা ও নির্যাতনের বিষয়ে নির্দেশনা, উসকানি ও প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগ অনুযায়ী, হানিফের নির্দেশে ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সদর উদ্দিন খান, আসগর আলী, আতাউর রহমানসহ দলের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, ওই সভায় নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং কুষ্টিয়া শহরে আন্দোলন দমনে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা চার আসামির নির্দেশে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালান। এতে আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী, আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, বাবুল ফরাজী ও ইউসুফ শেখ নিহত হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

যেভাবে এগিয়েছে মামলার বিচার

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে প্রসিকিউশন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে একই বছরের ২ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে ৮ ডিসেম্বর সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

এ মামলায় মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয় ২৩ এপ্রিল। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হলে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। অবশেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আজ রায় ঘোষণা করেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়ায় এ রায় কুষ্টিয়ার ছয়জন নিহতের ঘটনায় দায় নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।