বাংলাদেশে ফ্যাসিস্ট শক্তি, পলাতক অপরাধী কিংবা গণহত্যার সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তিকে অপতৎপরতা চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না বলে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও তিনি জানিয়েছেন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দুর্গাপূজা উদ্যাপন এবং দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে চুক্তি অনুযায়ী উদ্যোগ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে ছড়িয়ে পড়া আলোচনা সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় প্রতিবেশী দেশকে একাধিকবার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট।
দুর্গাপূজায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, সন্তুষ্ট সরকার
এবারের দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পূজা চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিল। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে এবারের আয়োজন ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
তিনি বলেন, অতীতে দীর্ঘ ১৫ থেকে ১৭ বছরে দুর্গাপূজাকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা দেখা গেছে। তবে বর্তমান সরকার এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। সবার সম্মিলিত সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতেও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ধরে রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দেশজুড়ে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সারা দেশে মোট ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
পূজা উদ্যাপনে সরকারি সহায়তার বিষয়েও তথ্য তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রী জানান, আগে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি বরাদ্দের পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ চার কোটি টাকা। এবার তা বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি পূজার ছুটি পাঁচ দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য চালের বরাদ্দ বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সরকার, প্রশাসন এবং সর্বস্তরের মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি, শান্তি ও নিরাপত্তার পরিবেশ ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে।

