আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে লুট ও অবৈধ অস্ত্র দ্রুত উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, নির্বাচন শুরুর আগেই যেকোনো মূল্যে এসব অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৯তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল নিকার-এর প্রথম সভা। সভা শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, সভায় নির্বাচন সামনে রেখে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা, যাতে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হতে পারে। নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশকারীদের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, যারা নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ ছড়াচ্ছেন, তাদের অতীত ভূমিকা সরকারের অজানা নয়। মত প্রকাশের স্বাধীনতা সবার থাকলেও সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে একেবারে স্পষ্ট অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর একদিন আগেও নয়, একদিন পরেও নয়—ঠিক নির্ধারিত দিনেই নির্বাচন হবে এবং তা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে বলে সরকার দৃঢ়ভাবে আশাবাদী। ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, যারা নির্বাচন হবে না—এমন বক্তব্য দিচ্ছেন, তাদের কাছে এর যৌক্তিকতা জানতে চাওয়া উচিত। বাস্তব কোনো কারণ ছাড়া এমন বক্তব্য গণতন্ত্র ও নির্বাচনবিরোধী প্রচারণার শামিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি জানান, নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজবে বিভ্রান্ত না হতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতেই সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।

