সাতক্ষীরার তালায় নিজের ঘর নিজে জালিয়ে অন্যের কাধে দোষ চাপানোর পায়তারা করছে একব্যক্তি। গত ২৮ মার্চ সকালে উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের নলতা গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটিয়েছে একই এলাকার জব্বার মোড়লের ছেলে শরিফুল মোড়ল। নিজের ছেলেকে ধর্ষণ মামলা থেকে বাঁচাতে এমন নাটক করেছেন তিনি। এদিকে সাংবাদিকরা তথ্য উদঘাটনে গেলে সঠিক তথ্য ফাঁস হওয়ার ভয়ে সাংবাদিকদের অশ্নিলভাষায় গালিগালাজ সহ জীবন নাশের হুমকিও দেন এই শরিফুল ইসলাম। এতে সাংবাদিক সমাজ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। ধর্ষন মামলায় শহিদ বর্তমানে জেল হাজতে আটক রয়েছে। এসময় গ্রামবাসী প্রশাসনের উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট ধর্ষক শহিদের সর্বচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানান। স্থানীয় এলাকাবাসী জানাযায়, নলতা গ্রামের শরিফুল ওরফে শরফুল মোড়লের ছেলে শহিদ মোড়ল একজন চিহ্নিত ও পেশাদার চোর এবং লুচ্চা। সে তার চাচীকেও রেহাই দিইনি তার স্বাভাব সুলভ আচারন থেকে। ছেলে শহিদের পেশা দারিত্ব নিয়ে যখন প্রশ্ন ওঠে, তখন শরফুল মোড়ল এলাকাবাসির তোপের মুখে টিকে থাকতে ছেলেকে সমাজের কাছে খারাপ সাজানোর এক মহা নাটকসৃষ্টি করে। তড়িঘড়ি করে ছেলের বিরুদ্ধে যত অনিয়ম করেছে তার এক ফিরিস্তি বানিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিকাশ ও ইউপি সদস্য জিয়া কর্তৃক স্বাক্ষরিত একটি নন-জুডিশিয়াল ষ্টাম্প করে গনস্বাক্ষর করে দেই এই শরিফুল। উল্লেখ থাকা আবশ্যক যে, গত ২৭ মার্চ রাতে শরিফুলের ভাই রফিকুল ইসলামের স্ত্রী তহমিনা (৫১) কে প্রথমে ঘুমের ঔষধ খাওয়ায় এবং পরে হাত পা বেঁধে শহীদ ধর্ষন করে। ঐ রাতে তহমিনা বেগম শরিফুলকে জানালে সে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে ছেলেকে বাচাতে মরিয়া হয়ে ওঠে। সকাল হলেই নাটকিয় ভাবে রফিকুল মোড়লের মেঝ মেয়ে লিমা বেগমকে সাথে নিয়ে এলাকায় সাধু সাজতে ছেলে একটি ছাবড়া ঘর যার ছাউনি টিনের ও বেড়া সুপারির পাতা দিয়ে তৈরি ঘরটি জালিয়ে দেয়। নিমিশেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় ঘরটি। এরপর শরিফুল শুরু করে নাটক। এই শরিফুল এলাকার চিহ্নিত একজন দালাল। এছাড়াও পূর্বের ইতিহাস ঘাটলে পাওয়া যাবে চুরি ডাকাতি মটরসাইকেল ছিনতায়ের ফিরিস্তি। এসময় এলাকা বাসী প্রশাসনের উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট শরিফুল ও তার লম্পট ছেলে শহীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠ তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় এনে নির্দেশীকে আইনের আওতায় না নেওয়ার জোর দাবি জানান। ভিক্টিমের মেয়ে লিমা বেগম জানান, আমার রমজান মাসে শবেকদরের রাতে ২৭ মার্চ তারিখ ছিল সে দিন। সেইদিন রাতে শারফুলের ছেলে শহিদ আমার মায়ের সাথে অশালিন আচারণ করে। আমি খবর পেয়ে সকালে আসি এবং আমার চাচা শারফুলের কাছে ঘটনা জানতে চাই। তখন আমার চাচা বলে শহিদ আমার ছেলে না। ওর জন্য আমি সমাজে চলাফেরা করতে পারছি না। ওকে কিছু বললে আমাকে মারধর করে। আমি ওকে কিছু বলতে পারব না। তোরা এক কাজ কর ওর ঘরবাড়ি ভেঙ্গেচুরে দে, এখান থেকে চলে যাক। ওর অপকর্মের জন্য আমি তো লিখিত দিয়েছি ও আমার ছেলে না। এই বলে চাচা আমাকে সাথে নিয়ে শহিদের ঘরের কাছে যায় এবং আমাকে বলে ঘরবাড়ি ভেঙ্গে আগুন ধরিয়ে দে। বলে পকেট থেকে গ্যাস লাইট বের করে দেয়। আমার মায়ের অপমান সইতে না পেরে ছচাচার কথামত আগুন ধরিয়ে দিয়েছি। ঘর তো না একটা ছাবড়া ঘর ওর পাশে ও পাকা ঘর করছে। যখন আভাংচুর হয় তখন ওখানে চাচা আর আমি ছাড়া আর কেউ ছিল না। এখন বলেন আমার কি অপরাধ। মায়ের অপমান কোন সন্তান সহ্য করতে পারে।
ভিকটিম তহমিনা বেগম জানান, গত ২৭ মার্চ রাতে আমাকে ঘুমের বড়ি খাওয়ায়ে পরে আমার স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে আমার হা পা বেধে ধর্ষন করে। ঘর পোড়ানোর ব্যপারে জানতে চাইলে তিনি জানান আমার মেঝ মেয়েকে সাথে নিয়ে শরিফুল নিজেই ঘর পুড়িয়েছে। আমার এই অবস্থা দেখে আমার মেয়ে ক্ষোভে দুঃখে এই কাজ করেছে। যার সত্য ঘটনা ওসি সাহেবের কাছে স্বীকার করেছে।
সংশ্লিষ্ঠ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান জানান, শরিফুলের ছেলে ছোটবেলা থেকে চুরি লম্পটি এটা ওর নেশা বা পেশা। যার কালোথাবা থেকে তার আপন চাচিও রেহাই পায়নি। তবে শহীদের ঘরপোড়ানোর ব্যাপারে ওসি সাহেব, খলিলনগর পুলিশ ফাড়ির টুআইসির সামনে রফিকুল মোড়লের মেঝ মেয়ে লিমা বেগম বলেছে আমার মাকে যদি এই অবস্থা করতে পারে তাহলে আমি তার ঘর পোড়ালে দোষ কি।
খলিলনগর পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ মোঃ শহর আলী জানান, আদালত থেকে আমার উপর তদন্ত ভার দেওয়া হয়েছে। আমি সঠিক তদন্ত করে প্রতিবেদন দিব। এই মামলায় নির্দোষ মানুষ সাজা পাক এটা আমি চাইনা।
তালা থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি শেখ শাহিনুর রহমান জানান, আমালতে মামলা হয়েছে। মামলার তদন্ত আসছে। আমি সেই তদন্তভার খলিলনগর ক্যাম্প ইনচার্জ এস আই শহর আলীকে দিয়েছি। তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

