প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন। ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৪ কিলোমিটার ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ ব্যায় ধরা হয়েছে। এ কাজের উদ্বোধন করে শিল্প অঞ্চলের মানুষের মাঝে দেশ উন্নয়নে আস্তায় আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল। প্রধানমন্ত্রী শনিবার সকালে গণভবন থেকে সাভারের আশুলিয়া বাজার সংলগ্ন কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন আমাদের উন্নয়নের ধারা অব্যহত থাকবো। আমরা রিজার্ভের একটি টাকাও অপচয় করেনি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমেদ কায়কাউস। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ হলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের আবদুল্লাহপুর, আশুলিয়া, বাইপাইল এবং ঢাকা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত করবে এবং রাজধানী থেকে বাইরে দ্রুত প্রবেশ ও প্রস্থান নিশ্চিত হবে। এটি ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার কুতুবখালী পর্যন্ত সংযুক্ত হবে। উত্তরবঙ্গসহ ৩০ জেলার ৪ কোটিরও বেশি মানুষ এক্সপ্রেসওয়ে থেকে উপকৃত হবে। তা ছাড়া জনগণ ও পণ্য পরিবহনকে সহজ ও দ্রুত করে তুলবে এবং যানজট কমাতে সহায়তা করবে। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের বেশিরভাগ অর্থায়ন দেবে চীন। সেতু বিভাগের সচিব মো. মঞ্জুর হোসেন এক্সপ্রেসওয়ে সম্পর্কে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। আশুলিয়ায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমানসহ সর্বস্তরের মানুষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উলেখ্য,সেপ্টেম্বরের শুরুতে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের জন্য খসড়া ঋণ চুক্তির অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী। চীনা এক্সিম ব্যাংক এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের জন্য ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বা ১০ হাজার ২২৬ দশমিক ৫৩ কোটি টাকার ঋণের অনুমোদন দিয়েছে। মোট ১৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকার প্রকল্প ব্যয়ের ৬৫ শতাংশ দেবে চীন। এই এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারের জন্য যানবাহনগুলোকে টোল দিতে হবে।প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, এই এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে দেশের ৩০ জেলার মানুষ দ্রুত ও সহজে রাজধানীতে প্রবেশ ও বের হতে পারবে। এর মাধ্যমে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি ০ দশমিক ২১ শতাংশ বাড়বে বলেও আশা করা হচ্ছে।

