নীলফামারীর জলঢাকায় মাত্র দুজন শিক্ষক দিয়েই চলছে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম। এতে বিঘ্ন হচ্ছে ৩ গ্রামের ১০৭ কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান। ঘটনাটি উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের সিংড়িয়া বনচুকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।রবিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা ও জানাগেছে,১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়টিতে অনুমোদিত শিক্ষক সংখ্যা ৪ জন। ৫ টি শ্রেণীতে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ১০৭ জন। তবে ৪ জন শিক্ষকের ২ জন শিক্ষক অবসর গ্রহণ করায় ব্যাহত হচ্ছে ওই স্কুলের পাঠদান।অফিস সূত্রে জানা গেছে, স্কুল প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৪ জন শিক্ষক দিয়ে সুন্দরভাবে পাঠদান চলে আসছিলো। এমতাবস্থায় ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট অবসর গ্রহণ করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান। এরপর চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি অবসরে যান সিনিয়র সহকারী শিক্ষক অমৃত কুমার রায়। তারপর থেকে ২জন শিক্ষক দিয়েই চলছে স্কুলের কার্যক্রম। দুজন শিক্ষকের মধ্যে সুধীর চন্দ্র রায় জ্যেষ্ঠ শিক্ষক হওয়ায় একই সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বও পালন করছেন তিনি। অফিসিয়াল কাজ, মাসিক সভা বা উপজেলা সদরে যেতে হলে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম আরও স্থবির হয়ে পড়ে। এছাড়া বিদ্যালয়ে কোনো দপ্তরি বা পিয়ন না থাকায় সুধীর চন্দ্র রায়কে সকালবেলা স্কুলের দরজা খোলা, পতাকা উত্তোলন, ঘণ্টা বাজানো সহ যাবতীয় কাজ করতে হয়।তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী লিমু আক্তার জানায়, স্যার বেশি না থাকায় নিয়মিত ক্লাস হয় না। এতে আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে।অভিভাবক দুলাল হোসেন বলেন, আমরা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব চিন্তিত। বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট থাকায় পড়ালেখায় আগ্রহ হারাচ্ছে বাচ্চারা। আর দুজন শিক্ষক এতগুলো বাচ্চাকে সামলাবে কিভাবে?ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক সুধীর চন্দ্র রায় বলেন, ‘দুজন শিক্ষক দিয়ে ১০৭ জন শিক্ষার্থীকে পড়ানো সম্ভব নয়। তাই দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ না দিলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ হুমকিতে পড়তে পারে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে প্রয়োজনে সংযুক্তি বদলি দিয়ে শিক্ষক নিয়োগের অনুরোধ জানান তিনি।এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুস সামাদ বলেন, ‘চলমান শিক্ষক নিয়োগের নিরসন হলেই আমাদের জলঢাকা উপজেলার কোন প্রাথমিক বিদ্যালয়েই শিক্ষক সংকট থাকবে না।’

