পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলায় স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকার প্রতিনিধি সুদর্শন ব্যানার্জীর বাড়ির সামনে চলাচলের পথের উপর খুঁটি পুঁতে রাস্তা বন্ধের চেষ্টা এবং এতে বাধা দেয়ায় সাংবাদিক সুদর্শন ব্যানার্জী ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি সোমবার বিকাল ৫টার দিকে পত্তাশী ইউনিয়নের পূর্ব পত্তাশী (রেখাখালী) গ্রামে ঘটে। সুদর্শন ব্যানার্জী জানান, বাড়ির পাশের চলাচলের রাস্তায় খুঁটি পুঁতে রাখা দেখে তিনি কারণ জানতে চাইলে প্রতিপক্ষের কয়েকজন ব্যক্তি এলোপাথাড়ি কিলঘুষি ও লাঠি দিয়ে মারধর করেন। হামলাকারীরা তাঁর কাছে থাকা মোবাইল ফোন ও ঘরের চাবি ছিনিয়ে নেয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মোবাইল ফোন ও চাবি উদ্ধার করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও রাস্তা নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। উভয় পক্ষই পূর্বে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনাও নিশ্চিত করেছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. কাওছার বলেন, খুঁটি পোঁতার বিষয়ে আমি সরাসরি কিছু জানি না। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রাম পুলিশ সঞ্জিব হালদার বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আগে জানতাম না। ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা নেব। ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহীন ইসলাম জানান, তিনি বর্তমানে ঢাকায় রয়েছেন। এলাকায় ফিরে তিনি ঘটনাটি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বাগানবাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছে; সম্প্রতি আমার মাকেও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারী হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন প্রসান্ত শীল (২৪), পিতা: হরিকান্ত শীল (৫৫)। সাংবাদিক সুদর্শন ব্যানার্জী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অভিযোগে অভিযুক্ত হরিকান্ত শীল বলেন, এই রাস্তা আমাদের পৈতৃক সম্পত্তির অংশ। তাই আমরা অন্য কাউকে এ রাস্তা ব্যবহার করতে দিতে চাই না। বাড়ির ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ বাসিন্দা সরজিৎ ব্যানার্জী বলেন, খুঁটি পুঁতে আমাদের যাওয়ার রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না, বাজারে যাওয়াও বন্ধ। সাংবাদিক পরিবার হওয়ায় আমাদের গালমন্দ করা হচ্ছে, আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। পত্তাশী বাজার কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের জমিজমা বিরোধের জেরে পরিবারটি এখন কার্যত জিম্মি অবস্থায় রয়েছে। দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে ইন্দুরকানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসান কবির বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

