রাজধানীর পুরান ঢাকায় মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে লাল চাঁদ ওরফে মো. সোহাগ (৩৯) নামের এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে নৃশংসভাবে এলোপাতাড়ি আঘাত ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় চারজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাহমুদুল হাসান মহিনের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই ঘটনায় করা অস্ত্র মামলায় তারেক রহমান রবিনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছ । শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত রিমান্ডের এ আদেশ দেন। আদালতের কোতয়ালি থানার প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক তানভীর মোর্শেদ চৌধুরী এ তথ্য জানান।আদালত সূত্রে জানা যায়, হত্যা মামলায় কোতয়ালি থানার উপপরিদর্শক নাসির উদ্দিন মাহমুদুল হাসান মহিনের ১০ দিন, অস্ত্র মামলায় তারেক রহমান রবিনের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন একই থানার উপপরিদর্শক মো. মনির। আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানী শেষে আদালত মাহমুদুল হাসান মহিনের ৫দিন এবং তারেক রহমান রবিনের ২ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। এর আগে রবিনের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। র্যাব-১০ আরও দুজনকে গ্রেফতার করেছে।
এ নিয়ে মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানাযায়। শুক্রবার (১১ জুলাই) ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য জানান। ডিসি তালেবুর রহমান বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর কোতোয়ালি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। তিনি বলেন. ‘এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে এবং রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে এজাহারভুক্ত দুইজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।গ্রেপ্তাররা প্রাথমিকভাবে পুলিশকে জানায়, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব এবং পূর্ব শত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা। ঘটনার বিবারনে জানাযায়,গত বুধবার বিকেলের ওই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আজ ডিএমপি জানায়, মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটের সামনে পাকা রাস্তার ওপর লাল চাঁদকে হত্যার ঘটনায় নিহতের বড় বোন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। আসামিদের ধরতে পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। এই হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে ডিএমপি বলেছে, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব এবং পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা সংঘটিত হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

