যশোরের কেশবপুরে কৃষকের গলার কাটা ভবদাহ এলাকার স্থায়ী জলাবদ্ধতার ফলে উপজেলা কৃষি অফিস কর্তৃক নির্ধারিত বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও বাম্পার ফলনের সম্ভবনা দেখা দিয়েছে।জানাগেছে, চলতি বছর উপজেলা কৃষি অফিস ১৪ হাজার ৪ শত ২৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। কিন’ বোরো রোপনের মৌসুম শেষ হলেও উপজেলার মজিদপুর ও বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নসহ ভবদাহ অঞ্চল সংলগ্ন ইউনিয়ন গুলো পানিবন্দী থাকায় মাত্র ১২ হাজার ৭শ’ ৯০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়। যার ফলে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্র ব্যাহত হয়েছে বলে কৃষি অফিস জানিয়েছে। এসব এলাকার খাল গুলো খনন করে পানি নিষ্কাশনের পথ সচল রাখতে পারলে সময়মত বৃষ্টির পানি নেমে গেলে ওই অঞ্চলের চাষীরা ধান চাষ করতে পারতো। আর জলমগ্ন এসব জমিতে ধান চাষ করতে পারলে উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া লক্ষ্যমাত্র ছাড়িয়ে যেত বলেও তাদের ধারণা।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানাগেছে, ২০২৫ সালে এ উপজেলায় ২৯টি জাতের ধানের আবাদ করছে কৃষকরা এর মধ্যে রয়েছে ব্রি-ধান-২৮, ব্রি-ধান-৫০, ব্রি-ধান-৫৮, ব্রি-ধান-৬৩, ব্রি-ধান-৬৭, ব্রি-ধান-৭৪, ব্রি-ধান-৮১, ব্রি-ধান-৮৪, ব্রি-ধান-৮৮, ব্রি-ধান-৮৯, ব্রি-ধান-৯২ ও ব্রি-ধান-১০০। এছাড়াও রয়েছে বীনা-২৫, মিনিকেট, সুবর্ণলতা, এস এল-৮, তেজ গোল্ড, আগমনী, হেরা, শক্তি, সিনজেন্টা-১২০৫ ও ১২০৬, ব্র্যাক-৭৭৭, এসিআই-৬, সাথী, স্পাহানী, স্বর্ণাগোল্ড, যমুনা ও আলোড়ন। সবচেয়ে বেশী আবাদ হয়েছে ব্রি-ধান-৭৪। এছাড়া এবছরই প্রথম ব্রি-হাইবী্রড-১০৫ ধানের আবাদ করেছে চাষীরা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখাগেছে, উপজেলার ভালুকঘর, কাস্তা, বারুইহাটী, ফতেপুর, দত্তগনর, সরাপপুর, সাতবাড়িয়া, ত্রিমোহিনী, বরণডালী, সরসকাটি, বুড়-লী, সানতলা, কলাগাছি, পাজিয়া, সুফলাকাটি, চুয়াডাঙ্গা, গৌরীঘোনা, ভান্ডারখোলা, আলতাপোল, মজিদপুর, মির্জানগর, হাবাসপোল, হাসাডাঙ্গা, বিদ্যানন্দকাটি, হাসানপুর, সাগরদাড়ী, মঙ্গলকোট, বড়েঙ্গা, বসুন্তিয়াসহ প্রতিটি মাঠে ধানের আবাদ হয়েছে।এবিষয়ে কেশবপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কেশবপুরে এবার ১৪ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো ধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ১২ হাজার ৭শ’ ৯০ হেক্টর। ১৫ মার্চ পর্যন্ত বোরো ধান রোপন করার সময় থাকলেও ভবদাহ অঞ্চলের ইউনিয়ন গুলো পানি না কমায় তা সম্ভব হয়নি। তবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও আবাদকৃত ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অনুকুল থাকলে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এগিয়ে যাবে।

