সতীশ কৌশিকের অকালমৃত্যু বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে এক গভীর বিষাদের ছায়া ফেলে দিয়েছে। অনুপম খের, হনসল মেহতা থেকে শুরু করে কঙ্গনা রানাউত— সতীর্থরা শোকে কাতর। সবার কত শত স্মৃতি তাঁর সঙ্গে! বিষাদ সামলে টুইট করলেন ‘তেরে নাম’-এর নায়ক সলমন খানও। সতীশ পরিচালিত সেই জনপ্রিয় ছবির সেটে অনেকটা সময় কেটেছে ‘ভাইজান’-এর। সতীশের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা সবটুকুই সুখস্মৃতি। সলমনকেও ব্যাপক জনপ্রিয় করেছিল ‘তেরে নাম’। আমরা জানি বলিউডের নামকরা অভিনেতার মধ্যে যার নাম চুড়ায় তিনি হলেন সালমান খান। আশির দশকের শেষদিকে সিনেমায় তার হাতেখড়ি । এরপর দিন যত গড়িয়েছে তার জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। কিন্তু সাফল্যের চূড়ায় থাকতে থাকতেই হঠাৎ ছন্দপতন হয়েছিল সালমান খানের। নানা বিতর্ক ঘিরে ধরলে নায়ক থেকে রাতারাতি ‘খলনায়ক’ বনে যান এই অভিনেতা। বলতে গেলে, ফিল্মি ক্যারিয়ারে খাদের কিনারায় পৌঁছে গিয়েছিলেন সালমান। এ অবস্থায় সালমানের টেনে তুলেন পরিচালক সতীশ কৌশিক। মঙ্গলবার সেই পরিচালক সতীশের মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুতে সালমান খান ভেঙে পড়েছেন বলে বিভিন্ন মিডিয়া বা
পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পরিচালকের শেষযাত্রায় সালমানের আবেগি চেহারা প্রকাশ্যে এসেছে। এরপরই সালমানের কেরিয়ারে সতীশের অবদানের কথা চর্চা শরু হয়েছে। ১৯৮৯ সালে ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’ ছবির হাত ধরে বলিউডে নায়ক হিসেবে যাত্রা শুরু হয় সালমানের। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। তবে নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে কেরিয়ারে খানিকটা ভাটার মুখে পড়েছিলেন সালমান। তার কয়েকটি ছবি ফ্লপ হয়। সেই সময় একের পর এক সুপারহিট ছবি উপহার দিয়ে বক্স অফিস মাতান শাহরুখ খান। ১৯৮৮ সালে রাজস্থানের জোধপুরে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির শ্যুটিং করছিলেন সালমান। ওই ছবির শুটিংয়ের সময় কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার অভিযোগ উঠে সালমানের বিরুদ্ধে। যা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়। এ বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই সালমান খান ও ঐশ্বরিয়া রাইয়ের প্রেমের গুঞ্জন উঠে।সঞ্জয় লীলা ভানসালীর ছবি ‘হাম দিল দে চুকে সানম’ ছবির সময় সালমান ও ঐশ্বরিয়ার প্রেমের গুঞ্জন শুরু। এ সম্পর্ক পরে তিক্ততায় রূপ নেয়। ঐশ্বরিয়াকে হেনস্থার অভিযোগ ওঠে সালমানের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় সালমানের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করে ঐশ্বরিয়ার পরিবার। ২০০২ সালে মার্চ মাসে বিচ্ছেদ হয় এই তারকা জুটির। একের পর এক বিতর্ক, সম্পর্কে ভাঙন রাতারাতি বলিউড জনপ্রিয়তা কমতে থাকে সালমানের। ওই সময়ই সালমানকে তার আগের সিংহাসন ফিরিয়ে দেন পরিচালক সতীশ কৌশিক। তৈরি হয় ‘তেরে নাম’ ছবি। ২০০৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল ছবিটি। সালমানের কেরিয়ারে ‘তেরে নাম’ একটা মাইলফলক ছবি। কারণ, এই ছবির হাত ধরেই নায়কোচিত কায়দায় বলিপাড়ায় প্রত্যাবর্তন ঘটেছিল সালমানের। অনেকেই বলে থাকেন, সতীশ কৌশিক যদি সেই সময় সালমানকে ‘তেরে নাম’ ছবিতে না নিতেন, তা হলে হয়তো ডুবেই যেত সালমানের ক্যারিয়ার।
পরিচালক সতীশ কৌশিক মৃত্যুতে সলমন লিখেছেন, “সব সময় তাঁকে ভালবেসেছি, শ্রদ্ধা করেছি। তিনি যে মানুষটা ছিলেন, তাঁকে কখনওই ভোলা সম্ভব নয়। কামনা করি সতীশজির আত্মা শান্তি পাক। পরিবারের সবাইকে এই শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি দিন ঈশ্বর, সেই কামনা করি।১৯৯৩ সালে ‘রূপ কি রানি চোরোঁ কা রাজা’ ছবির হাত ধরে যাত্রা শুরু পরিচালক সতীশ কৌশিকের। পরবর্তী কালে ‘হম আপকে দিল মে রেহতে হ্যায়’, ‘মুঝে কুছ কেহনা হ্যায়’-এর মতো ছবি পরিচালনা করেন তিনি। সলমন খানের ‘তেরে নাম’ ছবির হাত ধরে পরিচিতি বাড়ে পরিচালক সতীশ কৌশিকের। শুধু পরিচালক হিসাবে নয়, অভিনেতা হিসাবেও নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন তিনি।৮ মার্চ, মাঝরাতে হঠাৎ বুকে ব্যথা। হাসপাতালে যাওয়ার পথেই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হয়েছেন অভিনেতা সতীশ কৌশিক। বুধবার রাত তখন ১টা, খবর ছড়িয়ে পড়ে ধীরে ধীরে। দিল্লিতে এক বন্ধুর বাড়িতে ছিলেন সতীশ। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের পর ফিরিয়ে আনা হয় মুম্বইয়ে। সেখানেই হয় শেষকৃত্য।

