ঢাকাসোমবার , ১৯ ডিসেম্বর ২০২২
  1. অনুসন্ধান প্রতিবেদন
  2. আইন ও অপরাধ
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম ও জীবন
  5. কৃষি ও অর্থনীতি
  6. খোঁজ-খবর
  7. জাতীয়
  8. জেলার খবর
  9. তথ্য প্রযুক্তি
  10. দুর্নীতি
  11. নগর ও মহানগর
  12. নির্বাচনীয় খবর
  13. পার্শ্ববর্তী দেশ
  14. ফিচার
  15. ফেসবুক থেকে
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ উপহার মেসি প্রমান করলো তিনিই সেরা

আওরঙ্গজেব কামাল :
ডিসেম্বর ১৯, ২০২২ ৬:৪৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

একটাই অপূর্ণতা ছিল তার দীর্ঘ গৌরবময় ক্যারিয়ারে মেসির। সম্ভাব্য সব জিতলেও বিশ্বকাপ ট্রফিটা কিছুতেই ছোঁয়া হচ্ছিল না ভক্তদের সর্বকালের সেরা এই ফুটবলারের। অবশেষে কাতারে ঘটল তার দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। পরম আরাধ্য সোনালী ট্রফিতে চুমু খেলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপের সঙ্গে আসরের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’ও জিতে নিলেন লা পুল্গা। লিওনেল মেসির কারণেই ৩৬ বছরের বিশ্বকাপ জয়ের খরা কাটাল আর্জেন্টিনার। কাতার বিশ্বকাপে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স করে গোল্ডেন বল জিতে নেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে গোল করে গোল্ডেন বুট জয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে লড়াইয়ে ছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক মেসি। কিন্তু রোববার লুসাইল স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। এমবাপ্পের হ্যাটট্রিকের কারণে পেছনে পড়ে যান মেসি। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতে এমবাপ্পে। তবে ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ২ গোল করেন মেসি। তার করা দুই গোলে দুই দফায় এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু এমবাপ্পে হ্যাটট্রিক করে দুই দফায় দলকে সমতায় ফেরান। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষেই গোলের খাতা খুলেছিলেন রেকর্ড সাতবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী লা পুল্গা। পোল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ব্যতীত ফাইনালের আগ পর্যন্ত বাকি সব ম্যাচেই একটি করে গোল করেছিলেন মেসি। তার সাত গোলের চারটিই অবশ্য এসেছে পেনাল্টি থেকে। সৌদি আরব, নেদারল্যান্ডস ও ক্রোয়েশিয়ার পর শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে ফ্রান্সের বিপক্ষেও সফল স্পট-কিক নেন ক্ষুদে জাদুকর। সতীর্থদের দিয়ে গোল করাতেও দারুণ পটু ছিলেন মেসি। মেক্সিকো, নেদারল্যান্ডস ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে অ্যাসিস্ট করেন একটি করে গোলে। ফাইনালে জোড়া গোল পেলেও করেননি কোনো অ্যাসিস্ট। তবে আসরজুড়ে গোলের সুযোগ তৈরিতে দারুণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন মেসি। সব মিলিয়ে ২১ বার সতীর্থদের সুযোগ তৈরি করে দেন তিনি।আট গোল ও দুই অ্যাসিস্ট নিয়ে সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটজয়ী কিলিয়ান এমবাপে গোল্ডেন বলের লড়াইয়েও চোখ রাঙাচ্ছিলেন মেসিকে। তবে আসরজুড়ে আলো ছড়ানোতে তার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা। তাই শেষ পর্যন্ত মেসির হাতেই ওঠে সেরা খেলোয়াড়ের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি।২২ বার গোলের সুযোগ তৈরি করে সেরা খেলোয়াড় হওয়ার দৌড়ে ছিলেন ফরাসি তারকা আঁতোয়ান গ্রিজমানও। ৩৫ বছর বয়সী মেসির সমান তিনটি গোলে অ্যাসিস্ট করেন তিনিও। কিন্তু গোল করতে না পারায় পিছিয়ে পড়েন। ১২০ মিনিটের খেলা শেষ হয় ৩-৩ ড্র হয়। ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। পেনাল্টি শুট আউটে জিতে বিশ্বকাপ নিজেদের করে নেয় আর্জেন্টিনা। আর টুর্নামেন্টে ৭ গোল করে গোল্ডেন বল জিতে নেন মেসি। একটু পিছনে ফিরলে দেখা যায় ১৯৭৮ সালে প্রথম বিশ্বকাপ জিতে আর্জেন্টিনা। এরপর দিয়েগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বে ১৯৮৬ সালে দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতে আর্জেন্টাইনরা। এরপর ১৯৯০ ও ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ফাইনালে উঠেও শিরোপাবঞ্চিত হয়। এবার কাতার বিশ্ব কাপে সেই আশা পুরোন করলো মেসি।এদিকে বিশ্বকাপ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসের সঙ্গে তাৎক্ষণিক সাক্ষাৎকারে ম্যাজিকম্যান মেসি বলেন, ‘অবশ্যই আমি চেয়েছিলাম আমার ক্যারিয়ার এখানেই শেষ করতে। আমি এর থেকে আর বেশি কিছু চাইতে পারি না। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, তিনি সব দিয়েছেন আমাকে। ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসে এমন অর্জন সত্যিই ঈর্ষণীয়।
মেসি এরপরই ঘোষণা দিলেন জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন তিনি। বললেন, ‘আমি ফুটবলকে ভালোবাসি। আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলা উপভোগ করি। চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে আমি খেলা চালিয়ে যাব। লিওনেল মেসির জন্ম ২৪ জুন ১৯৮৭ সালে। তিনি একজন আর্জেন্টাইন পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড় যিনি ফরাসী পেশাদার লিগের শীর্ষস্তর লিগ।মেসি আর্জেন্টিনার রোজারিওতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা হোর্হে হোরাসিও মেসি ইস্পাতের কারখানায় কাজ করতেন এবং মা সেলিয়া মারিয়া কুচ্চিত্তিনি ছিলেন একজন খণ্ডকালীন পরিচ্ছন্নতা কর্মী। তার পৈতৃক পরিবারের আদি নিবাস ছিল ইতালির আকোনা শহরে। তার পূর্বপুরুষদের একজন অ্যাঞ্জেলো মেসি ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে সেখান থেকে আর্জেন্টিনায় চলে আসেন। মেসির বড় দুই ভাই এবং এক ছোট বোন রয়েছে। বড় দুই ভাইয়ের নাম রদ্রিগো ও মাতিয়াস এবং ছোট বোনের নাম মারিয়া সল।পাঁচ বছর বয়সে মেসি স্থানীয় ক্লাব গ্রান্দোলির হয়ে ফুটবল খেলা শুরু করেন, যার কোচ ছিলেন তার বাবা হোর্হে। ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দে মেসি রোজারিও ভিত্তিক ক্লাব নিওয়েল’স ওল্ড বয়েজে যোগ দেন। তিনি একটি স্থানীয় যুব পরাশক্তির অংশ হয়ে পড়েন, যারা পরবর্তী চার বছরে একটি মাত্র খেলায় পরাজিত হয়েছিল এবং স্থানীয়ভাবে “দ্য মেশিন অফ ‘৮৭” নামে পরিচিত হয়ে উঠেছিল। তাদেরকে এই নামে অভিহিত করার কারণ তাদের জন্ম সাল ছিল ১৯৮৭। ১১ বছর বয়সে মেসির গ্রোথ হরমোনের সমস্যা ধরা পড়ে।

শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে টাইব্রেকারে ফ্রান্স কে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা

স্থানীয় ক্লাব রিভার প্লেট মেসির প্রতি তাদের আগ্রহ দেখালেও সেসময় তারা মেসির চিকিৎসা খরচ বহন করতে অপারগ ছিল। এ চিকিৎসার জন্যে প্রতিমাসে প্রয়োজন ছিল ৯০০ মার্কিন ডলার। বার্সেলোনার তৎকালীন ক্রীড়া পরিচালক কার্লেস রেক্সাস মেসির প্রতিভা সম্পর্কে জানতে পারেন। তিনি মেসির খেলা দেখে মুগ্ধ হন। হাতের কাছে কোন কাগজ না পেয়ে একটি ন্যাপকিন পেপারে তিনি মেসির বাবার সাথে চুক্তি সাক্ষর করেন। বার্সেলোনা মেসির চিকিত্‍সার সমস্ত ব্যয়ভার বহন করতে রাজি হয়। এরপর মেসি এবং তার বাবা বার্সেলোনায় পাড়ি জমান। সেখানে মেসিকে বার্সেলোনার যুব একাডেমি লা মাসিয়া’র সভ্য করে নেয়া হয়। ২০০৮ সাল থেকে মেসি আন্তনেলা রোকুজ্জোর সাথে বসবাস শুরু করেন। তাদের দুটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়, ২ নভেম্বর ২০১২ তারিখে থিয়াগোর আর ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তে জন্ম নেয় মাতেও। ২০১৭ সালের ১ জুলাই মহা ধুমধামে তাদের বিবাহ হয়।
আন্তর্জাতিক ভাবে মেসির কদর সেই শুরু থেকে । আর্জেন্টাইন-স্পেনীয় নাগরিক হিসেবে ২০০৪ সালে মেসিকে স্পেনের জাতীয় অনূর্ধ্ব ২০ ফুটবল দলে খেলার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু মেসি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি ২০০৪ সালের জুনে, আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব ২০ দলের হয়ে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে প্রথম প্রীতি খেলায় মাঠে নামেন। তিনি ২০০৫ দক্ষিণ আমেরিকান যুব চ্যাম্পিয়নশিপে আর্জেন্টিনা দলের হয়ে খেলেন, যেখানে আর্জেন্টিনা তৃতীয় হয়। ২০০৫ ফিফা যুব চ্যাম্পিয়নশিপে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয় এবং তিনি ৬টি গোল করে প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল এবং গোল্ডেন বুটের পুরস্কার জিতেন। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট, ১৮ বছর বয়সে হাঙ্গেরির বিপক্ষে সিনিয়র দলে মেসির অভিষেক হয়। খেলার ৬৩তম মিনিটে বদলি হিসেবে খেলতে নেমে ৬৫তম মিনিটেই তাকে লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে যেতে হয়। ম্যাচ-রেফারি মার্কাস মের্ক দাবি করেন, মেসি হাঙ্গেরির ডিফেন্ডার ভিলমস ভ্যানজাককে কনুই দিয়ে আঘাত করেছিলেন, যিনি মেসির শার্ট ধরে টানছিলেন। রেফারির সিদ্ধান্তটি ছিল বিতর্কিত। কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা দাবি করেন, রেফারির সিদ্ধান্তটি পূর্ব-সংকল্পিত ছিল। ২০০৫ এর ৩ সেপ্টেম্বর, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে মেসি আবারও খেলতে নামেন। বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ঐ খেলায় প্যারাগুয়ের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা ০–১ ব্যবধানে হেরে যায়। পেরুর বিপক্ষে খেলায় মেসি প্রথম একাদশের সদস্য হিসেবে খেলতে নামেন এবং খেলায় আর্জেন্টিনা জয় পায়। খেলা শেষে পেকারম্যান মেসিকে ‘‘রত্ন’’ হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করেন সকলে। ২০০৬ সালের ১ মার্চ, আর্জেন্টিনার হয়ে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি খেলায় মেসি প্রথম গোল করেন। ২০০৫–০৬ মৌসুমে ইনজুরির কারণে ২০০৬ ফিফা বিশ্বকাপে মেসির খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তবুও মেসি দলে ডাক পান। বিশ্বকাপ শুরুর পূর্বে আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব ২০ দলের বিপক্ষে সিনিয়র দলের হয়ে একটি খেলায় তিনি ১৫ মিনিট খেলেন এবং অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে একটি প্রীতি খেলায় ৬৪তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামেন। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম খেলায় মেসি সাইড বেঞ্চে বসেছিলেন। পরের খেলায় সার্বিয়া এবং মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে খেলার ৭৪তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মেসি এবং ৭৮তম মিনিটে হের্নান ক্রেসপোর একটি গোলে সহায়তা করেন। খেলার ৮৮তম মিনিটে মেসি একটি গোল করেন। এতে করে, আর্জেন্টিনার সর্বকনিষ্ঠ এবং ইতিহাসের ৬ষ্ঠ কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি। খেলায় আর্জেন্টিনা ৬–০ ব্যবধানে জয় লাভ করে। নেদারল্যান্ডস-এ­র বিপক্ষে পরের খেলায় মেসি প্রথম দলে সুযোগ পান। খেলাটি ০–০ সমতায় শেষ হয়। মেক্সিকোর বিপক্ষে রাউন্ড-১৬ এর খেলায় ৮৪তম মিনিটে মেসি বদলি হিসেবে খেলতে নামেন। খেলায় উভয় দল তখন ১–১ গোলে সমতায় ছিল। খেলতে নেমেই তিনি একটি গোল করলেও তা অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। অতিরিক্ত সময়ে রদ্রিগুয়েজের গোলে আর্জেন্টিনা ২–১ ব্যবধানে জয় পায়। কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে কোচ জোসে পেকারম্যান মেসিকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখেন। পেনাল্টি শুটআউটে ৪–২ ব্যবধানে আর্জেন্টিনা হেরে যায় এবং টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ে। ২০০৯ সালের ২৮ মার্চ, ভেনিজুয়েলার বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের খেলায় মেসি ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলতে নামেন। আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের ম্যানেজার হিসেবে এটি ছিল ম্যারাডোনার প্রথম খেলা। খেলায় আর্জেন্টিনা ৪–০ ব্যবধানে জয় লাভ করে। খেলার প্রথম গোলটি করেন মেসি। ২০১০ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে মেসি মোট ১৮টি খেলায় মাঠে নামেন এবং চারটি গোল করেন। ২০১০ বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে খেলায় মেসি। ২০১০ বিশ্বকাপে মেসি ১০ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামেন। এই প্রথম বড় কোন প্রতিযোগিতায় তিনি ১০ নম্বর জার্সি পরে নামেন। বিশ্বকাপের প্রথম খেলায়, নাইজেরিয়ার বিপক্ষে খেলার পুরোটা সময়ই তিনি মাঠে ছিলেন। তিনি গোল করার অনেকগুলো সুযোগ তৈরি করেছিলেন, কিন্তু তার সবকয়টি প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন নাইজেরিয়ান গোলরক্ষক ভিনসেন্ট এনইয়েমা। খেলায় আর্জেন্টিনা ১–০ ব্যবধানে জয় লাভ করে। পরের খেলায় কোরিয়া রিপাবলিকের বিপক্ষে মেসি মাঠে নামেন। খেলায় আর্জেন্টিনা ৪–১ ব্যবধানে জয় লাভ করে। ম্যারাডোনার­ অধীনে তিনি মূলত একজন আক্রমণাত্মক মাঝমাঠের খেলোয়াড় বা প্লেমেকার হিসেবে খেলেছিলেন। খেলার সবকটি গোলেই তার ভূমিকা ছিল। তার সহায়তায় গঞ্জালো হিগুয়েইন খেলায় হ্যাট্রিক করেন। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার তৃতীয় ও গ্রুপ পর্বের শেষ খেলায় গ্রিসের বিপক্ষে মেসি অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নামেন। খেলায় আর্জেন্টিনা ২–০ ব্যবধানে জয় লাভ করে। কোন গোল না করলেও এই জয়ে মেসির বড় ভূমিকা ছিল, যার ফলে তাকে ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত করা হয়। ২০১৪ বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা দলে মেসি অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৫ জুন, গ্রুপ পর্বের প্রথম খেলায় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ২-১ গোলে জয় পায় আরজেন্টিনা। খেলার ৬৫তম মিনিটে তিনি বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার রক্ষণভাগের তিন জন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন।২০০৬ বিশ্বকাপে সার্বিয়া ও মন্টিনিগ্রোর বিপক্ষে গোল করার আট বছর পর করা এই গোলটি বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতায় তার দ্বিতীয় গোল। গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় খেলায় তিনি ইরানের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধের শেষের দিকে যোগ করা অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার পক্ষে একমাত্র জয়সূচক গোল করেন। প্রায় ২৫ মিটার দূর থেকে নেয়া শটে বলটি সামান্য বেঁকে গোলপোস্টের বাম পাশের উপরের কোণা দিয়ে জলে জড়ায়। এই গোলটি ছিল তার ৪০তম আন্তর্জাতিক গোল। এই জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করে।২৫ জুন, গ্রুপ পর্বের শেষ খেলায়

বিশ্বকাপ জিতে কিংবদন্তিদের পাশে মেসি

নাইজেরিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করার মাধ্যমে মেসি প্রতিযোগিতায় তার গোল সংখ্যা ৪২-এ নিয়ে যান। খেলায় আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে জয় লাভ করে এবং গ্রুপের প্রথম স্থানে থেকে গ্রুপপর্ব শেষ করে। গ্রুপ পর্বের ৩টি খেলায়ই সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন মেসি। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির ম্যাটস হুমেলসের সাথে বল দখলের লড়াইয়ে মেসি। ১৬ দলের পর্বে আরজেন্টিনা মুখোমুখি হয় সুইজারল্যান্ডের। খেলাটির ৯০ মিনিট গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হলে তা অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় এবং অতিরিক্ত সময়ে দি মারিয়ার করা একমাত্র গোলে সহায়তা করেন মেসি। এই খেলায় সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তিনি গ্রুপ পর্বের সবকয়টিসহ টানা চারটি খেলায় সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পান। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে জয়ের মাধ্যমে আরজেন্টিনা সেমি ফাইনালে খেলার সুযোগ করে নেয়। সেমি ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে খেলাটি অমিমাংসিতভাবে শেষ হলে পেনাল্টি শুটআউটে গড়ায়। মেসি প্রথম পেনাল্টি নেন এবং তা গোলে পরিণত করার মাধ্যমে আর্জেন্টিনাকে জয়লাভে সাহায্য করেন।[২৫২] ফাইনালে আরজেন্টিনা জার্মানির মুখোমুখি হয়। খেলায় আর্জেন্টিনা দলে কিছু গোলের সুযোগ হাতছাড়া করে। মেসির একটি শট গোলবারের বাহিরে দিয়ে চলে যায়। এছাড়া আর্জেন্টিনার একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। ৯০ মিনিট শেষে খেলাটি অমিমাংসিত থাকলে ৩০ মিনিটের অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়। খেলার শেষের দিকে মারিও গোটজে’র করা একমাত্র গোলে জয় পায় জার্মানি। বিশ্বকাপ না জিতলেও মেসিকে প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত করা হয়।যদিও তাঁর এই পুরস্কার জয় নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। রাউন্ড ১৬-তে, মেক্সিকোর বিপক্ষে খেলায় কার্লোস তেভেজের একটি গোলে মেসি সহায়তা করেন। খেলায় আর্জেন্টিনা ৩–১ ব্যবধানে জয় লাভ করেকোয়ার্টার ফাইনালে, জার্মানির বিপক্ষে ৪–০ ব্যবধানে হেরে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়।[২২৪] প্রতিযোগিতার গোল্ডেন বল পুরষ্কারের জন্য ১০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় মেসি জায়গা পান। ফিফার টেকনিক্যাল গবেষণা দল মেসির সক্ষমতা সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে বলে, ‘‘অসাধারণ গতি, দলের জন্য সৃজনশীলতা, ড্রিবলিং, শুটিং, পাসিং এ সবগুলোতেই তিনি দক্ষ এবং দর্শনীয়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।