ঢাকাশনিবার , ২২ অক্টোবর ২০২২
  1. অনুসন্ধান প্রতিবেদন
  2. আইন ও অপরাধ
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম ও জীবন
  5. কৃষি ও অর্থনীতি
  6. খোঁজ-খবর
  7. জাতীয়
  8. জেলার খবর
  9. তথ্য প্রযুক্তি
  10. দুর্নীতি
  11. নগর ও মহানগর
  12. নির্বাচনীয় খবর
  13. পার্শ্ববর্তী দেশ
  14. ফিচার
  15. ফেসবুক থেকে
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাংবাদিকের শুত্র যখন গণমাধ্যম বা সাংবাদিকতার বহুমুখী সংকট চরমে

আওরঙ্গজেব কামাল
অক্টোবর ২২, ২০২২ ২:৪১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আওরঙ্গজেব কামাল : গণমাধ্যম বা সাংবাদিকতার বহুমুখী সংকট এখন চরমে। বর্তমানে সাংবাদিকতার গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করছে সরকার। মুখ খুললেই হতে হচ্ছে গ্রেফতার,গুমের শিকার। শেখ হাসিনা সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রেনে নিয়েছে। সাংবাদিকতার পন্ডিতজনেরা বলেন, এই সংকট এবং সংকট নিয়ে বিতর্কের শুরু সাংবাদিকতার জন্মলগ্ন থেকেই। এই উপমহাদেশে ১৭৮০ সন থেকে, যখন উপমহাদেশের প্রথম সংবাদপত্রটি প্রকাশিত হয়। সেটির শুরু ও শেষ হয় নানা বিতর্কের মধ্য দিয়েই। তাই আজ আলোচনার বিষয় বর্তমানে সাংবাদিকতা নিয়ে। এখন অধিকাংশ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অভিযোগ উঠছে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে সাংবাদিক গুম খুন নির্যাতন মামলা ও হামলা বেড়েছে। এছাড়া সাংবাদিকরা এখন সাংবাদিকতা কে দুই ভাগে ভাগ করেছেন। যার একটি কে মূল ধারার গণমাধ্য অপরটিকে বলা হচ্ছে আন্ডার গ্রাউন্ড সাংবাদিকতা। যে কারণে সাংবাদিকদের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি এখন চরমে। এক সাংবাদিক অফার সাংবাদিক বলে মেনে নিতে চায় না। সেক্ষেত্রে একটু সিনিয়র হলেই তো আর কথা নেই। অবশ্যই বর্তমানে উভয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। এর মাঝে পুরো সংবাদ মাধ্যমই বিতর্কিত হচ্ছে। অনেকে সাংবাদিকদের সাংঘাতিক বলতেও ছাড়ছে না। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের উপর এখন যে কেউ আর আঙ্গুল তুলতে পিছপা হচ্ছে না। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ জাতির কাছে বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আমার প্রশ্ন এই ক্ষেত্রে দায়ী কে ? বর্তমানে লক্ষ্য করা যাচ্ছে স্বাধীন সাংবাদিকতা করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে বলেই অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক সূচকেও দেখা যাচ্ছে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের পরিস্থিতি আগের তুলনায় অবনতি হয়েছে। আইনি চাপ আর নানা বাধার কারণে সাংবাদিকতা করা বাংলাদেশে বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে বলেই পেশাদার সাংবাদিকরা অভিযোগ করছেন। সাংবাদিকরা বলছেন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদেরকে নানামুখী চাপ আর বাধার সম্মুখীন হতে হয়। বেশিরভাগ সাংবাদিকই এখন এটা অনুভব করেন না যে বাংলাদেশে সাংবাদিকতা করার জন্য একটা মুক্ত পরিবেশ আছে। একদিকে একটি পক্ষ বলছে যে খুবই সাংবাদিক বান্ধব সরকার আবার অপরপক্ষ বলছে সাংবাদিকতা এখন অত্যন্ত চাপের মুখে রয়েছে। আসলে বিচার্য বিষয় হচ্ছে আইন ও তার প্রয়োগ। এছাড়া কিছু প্রশাসন আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সাংবাদিকদের নাজেহাল করছে। বর্তমানে সাংবাদিকরা একটি হাসপাতালের ছবি তুলতে গেলেও তাকে বলা হয় প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে। এখন আপনারা বলুন একজন অপরাধীর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করতে গেলে তার অনুমতি নিয়ে ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করা কি সম্ভব ? এক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সাংবাদিকতা কি প্রশ্নবিদ্ধ নয় ? আমি মনে করি যে স্বাধীন সাংবাদিকতা করার পরিবেশ খুবই খুবই সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে কে সাংবাদিক সাংবাদিকতার আড়ালে মুখোশধারী তা নির্ণয় করা খুব দুরূহ। এখন অপেশাদার সাংবাদিকরা সাংবাদিকতার মূলমঞ্চের ছড়ি ঘোরাচ্ছে। এক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে বড় বড় মিডিয়াগুলো অবশ্যই তাদের কব্জায় নিয়েছে। এছাড়া ছোট ছোট পত্রিকা বা সংবাদমাধ্যমগুলো একপর্যায়ে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তারা এখন নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিতে লজ্জা বোধ করে। অথচ অপেশাদার লোকজন বড় বড় মিডিয়াগুলো অর্থের বিনিময়ে নিজেদের কব্জায় নিয়ে সাংবাদিকতা পেশাকে কলঙ্কিত করছে। অধিকাংশ সময় দেখা যায় ছোট মিডিয়ার কর্মীরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে হয়ে যায় ভুয়া সাংবাদিক। এখন বলুন সাংবাদিকতায় কোথায় ? অধিকাংশ সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলছেন,সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সম্পতি অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা এবং মানহানি মামলা একটা ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এখন সাংবাদিকরা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতে ভয় পায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ আছে শেষের দিকে ১৫২ তম অবস্থানে। সূচকে গত বছরের চেয়ে বাংলাদেশ একধাপ পিছিয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয় এ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আফগানিস্থান, পাকিস্থান, মিয়ানমার সর্বপরি দক্ষিণ এশিয়ার সবগুলো দেশের চেয়ে পেছনে। তবে আন্তর্জাতিক এ সূচকের বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সরকার সংশ্লিষ্টরা। সাংবাদিকতার বিরূপ পরিবেশের কারণে বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে মাঠ পর্যায়ে অনেক সিনিয়র সাংবাদিককে বিকল্প পেশায় চলে যেতে দেখা গেছে। এছাড়া অনেকে সাংবাদিকতার পাশাপাশি অন্য পেশায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এদিকে বাংলাদেশে গত এক দশকে সংবাদপত্র, রেডিও-টেলিভিশন এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালের সংখ্যা অনেকে বেড়েছে এবং সরকারের তরফ থেকে এ নিয়ে গর্ব করা হয়। কিন্তু সংখ্যা বাড়ালেও প্রশ্ন রয়ে গেছে মান আর পেশাদারিত্ব কতটা বেড়েছে সেই জায়গায়। প্রকৃত সাংবাদিকতার মারাত্মক অভাব রয়েছে সাংবাদিকেদর প্রশিক্ষণের জায়গায়। বাংলাদেশে গণমাধ্যম, এর স্বাধীনতা ও সাংবাদিকতা বাংলাদেশে গণমাধ্যম, এর স্বাধীনতা ও সাংবাদিকতা নিয়ে সাম্পতিক সময়ে নানা মহলে আলোচনা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব আলোচনায় অতি সাধারণীকরণ এবং খুব সহজেই বড় ধরনের উপসংহার টানার প্রবণতাও দেখা যায়। সাম্পতিক সময়ে নানা মহলে আলোচনা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব আলোচনায় অতিসাধারণীকরণ এবং খুব সহজেই বড় ধরনের উপসংহার টানার প্রবণতাও দেখা যায়। সাংবাদিকতার দায় একমাত্র জনসাধারণের কাছে, এমনকি যখন এই সাংবাদিকতার পৃষ্ঠপোষক ব্যক্তি এবং সাংবাদিকতার প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানায়। বিশ্বাস যোগ্যতা অর্জনের একমাত্র উপায় এই দায়ের প্রতি নিষ্ঠাবান হওয়া। আর তার জন্যই সাংবাদিকতাকে থাকতে হয় স্বাধীন, নিরপেক্ষতাই যথেষ্ট নয়। এই স্বাধীনতা বজায় রাখতে হলে সাংবাদিকতাকে পেশা ও প্রতিষ্ঠান হিসেবে এবং সাংবাদিককে ব্যক্তি হিসেবে যাঁদের বিষয়ে সংবাদ বা সম্পাদকীয় প্রকাশ করবে, তাঁদের থেকে স্বাধীন থাকতে হবে, কেবল তবেই গণমাধ্যম ওয়াচডগের ভূমিকা পালন করতে পারবে। সাংবাদিকরা যখন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজের অধিকার দায়ীত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে জানবে । তখন সে নিজেকে প্রতিষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে আত্মনিয়োগ করতে পারবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।