ধর্মের ভিত্তিতে দেশকে বিভক্ত করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি’র মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি একই সঙ্গে উদার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ফখরুল বলেন, ‘ধর্মের নামে যারা দেশকে বিভাজনের দিকে নিয়ে যেতে চায়, তাদের অবশ্যই রুখে দিতে হবে। মৌলবাদকে প্রশ্রয় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা একটি উদার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণ করতে চাই। শুক্রবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মিলিত সনাতন পরিষদ আয়োজিত ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে সম্প্রীতির দেশ। এখানে হাজার বছর ধরে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে আসছে।
জাতির মুক্তিসংগ্রামের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে ঐক্যের মূল আদর্শকে ভিত্তি করে।
গত ১৫ বছরের হাসিনা শাসনামলে গণতন্ত্রের অবক্ষয়ের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সব নাগরিকের সমান অধিকার, ধর্ম পালনের স্বাধীনতা এবং জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করার একমাত্র নিশ্চয়তা হলো কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা।
সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মসূচিতে সনাতন সম্প্রদায়, জাতিগত সংখ্যালঘু, সমতল ও পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পরিকল্পনা তুলে ধরেছে।
তিনি বলেন, দুর্গাপূজা ও রথযাত্রাসহ বিভিন্ন বড় ধর্মীয় উৎসবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে। বিএনপি কাউকে ‘সংখ্যালঘু’ মনে করে না, তাই সনাতন ধর্মাবলম্বীকে নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার থাকতে হবে।তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একই মাতৃভূমির সন্তান। আমাদের অভিন্ন সংস্কৃতি ও ইতিহাসের আলোকে আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যাব।

