দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দলের একটি অংশ এক হয়ে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করছে বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর হাজী মুহাম্মদ মহসীন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নীতিতে যারা বিশ্বাস করে না, তারাই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। দেশের কয়েকটি স্থানে কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ তৈরির চেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, পলাতক সাবেক স্বৈরাচার দেশের বাইরে থেকে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে অর্থ সহায়তা দিচ্ছে বলে গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তথ্য রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একটি পক্ষ জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, অন্য পক্ষও অস্থিতিশীলতা তৈরির তৎপরতায় যুক্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের জনগণকে এখন আরও সচেতন হতে হবে, যাতে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে।
বন্ধ কলকারখানা চালু ও কর্মসংস্থানের উদ্যোগ
বেকারত্ব নিরসনে বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালুর বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠনের পর রাজশাহী জেলার বন্ধ কারখানার মালিক, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে কারখানাগুলো চালুর জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত সাত মাসে ছয়টি কলকারখানা পুনরায় চালু করা হয়েছে। আগামী জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১২ মাসে সারা দেশে আরও প্রায় ৪৬টি বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব কারখানা চালুর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করা।
উপজেলা হাসপাতালে বাড়ছে শয্যাসংখ্যা
সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
হাসপাতালগুলোতে শিশু ও নারীদের জন্য পৃথক শয্যার পাশাপাশি কিডনি রোগীদের ডায়ালিসিস সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গ্রামের মানুষকে সাধারণ রোগের চিকিৎসার জন্য বারবার শহরমুখী হতে হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
আখচাষিদের ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা
জনসভার শুরুতে রাজশাহী অঞ্চলের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কম্পিউটারে বোতাম চেপে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। এ সময় ১৫ জন আখচাষির হাতে চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তব্য দেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং রাজশাহী জেলার সংসদ সদস্যরা।
সমাবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ জেলার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
এর আগে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে সামরিক বিমানে শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। রাজশাহী সফরের আগে তিনি রংপুরের ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

