মা ও মেয়েকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ ১৪ বছর বয়সী এক মেয়েকে ধর্ষণ করে আসছে আলমগীর মোল্যা (৫০) নামের এক পাষন্ড পিতা। পিতার এ অমানবিক নির্যাতন সইতে না পেরে অবশেষে আদালতের স্বরণাপন্ন হয়েছে ধর্ষিতা ও তার মা। ১০ জুলাই সোমবার মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে স্বামী আলমগীর মোল্যাকে আসামী করে শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন ধর্ষিতার মা। আর এই মামলায় ধর্ষণের সহায়তাকারী হিসেবে আকলিমা বেগম নামে আরেক নারীকে আসামী করা হয়েছে।এদিকে আদালত মামলাটিকে এফ আই আর হিসেবে গণ্য করার জন্য পালং মডেল থানাকে নির্দেশ দিয়েছে। অপরদিকে স্বামী আলমগীর মোল্যার বিরুদ্ধে মামলা করায় মৃত্যুর হুমকিতে রয়েছে ধর্ষিতা ও তার মা। প্রশাসনকে তাদের জীবনের নিরাপত্তা দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে স্থানীয়রা।ধর্ষিতা, তার মা ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের ভাস্কর্দী গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর মোল্যা পেশায় একজন সুদ ব্যবসায়ী। পাশাপাশি তিনি কৃষি কাজও করেন। তার ৩শ ২০ শতাংশ ফসলী জমি রয়েছে। সুদের টাকা এবং জমিতে উৎপাদিত ফসল বিক্রী করেই তার সংসার চালান। বর্তমানে তার ৩ জন স্ত্রী রয়েছে। সেই ৩ স্ত্রীর ঘরে ৯ জন সন্তান রয়েছে। সেই সাথে ২ জন পুত্রবধু এবং ২ জন নাতি-নাতনি রয়েছে। আলমগীর মোল্যা তাদের নিয়ে একই বাড়িতে বসবাস করেন। ধর্ষিতা তার দ্বিতীয় স্ত্রীর মেয়ে। সেই মেয়ে অত্যান্ত পরমা সুন্দরী হওয়ায় বাবার লোলুপ দৃষ্টি পড়ে তার উপর। এক পর্যায়ে মেয়েকে ভয় দেখিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষন করে বাবা আলমগীর মোল্যা। বিষয়টি তার মাকে জানানোর পর প্রতিবাদ করলে মেয়ে ও মাকে মেরে ফেলার ভয় দেখানো হয়। আর এই ভয় দেখিয়েই দীর্ঘদিন ধরে মেয়েকে ধর্ষণ করে আসছে আলমগীর মোল্যা। ধর্ষণে লিপ্ত না হলে মা ও মেয়েকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। এদিকে ধর্ষক পিতার হাত থেকে মেয়েকে রক্ষার জন্য মেয়ের মা মেয়েকে অন্যত্র বিয়ের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু সেই বিয়েও ভেঙ্গে দেয় পাষন্ড এই পিতা। সেই সাথে মেয়েটির পড়া লেখাও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কয়েক মাস আগে নারায়নগঞ্জের এক আবাসিক হোটেলে মেয়েকে নিয়ে ধর্ষণ করার পর মেয়েটি পালিয়ে গিয়ে ফতুল্লা থানায় পিতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করে। মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় পুলিশ তার মাকে নিয়ে যেতে বলে।অপরদিকে ধর্ষক পিতা তার মাকে আটকে রাখায় মা থানায় উপস্থিত হতে না পারায় অভিযোগ গ্রহণ করেনি থানা কর্তৃপক্ষ। এক পর্যায়ে ঘর বন্দি করা হয় মা ও মেয়েকে। ঘরে স্থাপন করা হয় সিসি ক্যামেরা। পাষবিক নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মা-মেয়ে পালিয়ে এসে বিষয়টি গণমাধ্যম কর্মী ও সমাজে প্রকাশ করে। ধর্ষক আলমগীর মোল্যা জানায়, সে রাজনৈতিক পরিস্থিতি শিকার। এই ধরনের কর্মকান্ডের সাথে সে জড়িত নয়। এলাকার লোকজন তার স্ত্রী-সন্তান দিয়ে মিথ্যা বলাচ্ছে। ধর্ষিতা জানায়, পিতার যৌন লালসার শিকার হয় সে। ২ বছর পূর্বে তাকে এবং তার মাকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। এরপর নিয়মিত ভাবে তাকে ধর্ষণ করে আসছে। প্রতিবাদ করলেই আমাকে এবং আমার মাকে প্রচুর নির্যাতন করে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আজ আদালতে মামলা করেছি।ধর্ষিতার মা জানায়, প্রতিদিন মেয়েকে তার স্বামীর ঘরে পাঠাতে বলে। না পাঠালে আমাকে এবং আমার মেয়েকে নির্যাতন করে। কারণে অকারণে আমাদেরকে মারধর করে। কারো কাছে মুখ খুললে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। মা হয়ে পিতার কাছে কিভাবে মেয়েকে পাঠাই? আর সহ্য করতে পারছি না। এই ধর্ষকের বিচারের দাবীতে প্রথমে থানায় মামলা করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু থানা মামলাটি নেয়নি। পরে আদালতে মামলা করেছি। স্থানীয়রা জানায়, অনেক দিন ধরে এই বিষয়টি এলাকায় আলোচনা হচ্ছে। এখন মেয়ে ও তার মা বিষয়টি প্রকাশ করেছে। সেই সাথে সামাজিক সহায়তা চেয়েছে। মেয়েটি ও তার মা মৃত্যুর হুমকিতে আছে বলে ধারণা করছি।এ ব্যাপারে বাদী পক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম কোতোয়াল বলেন, পালং মডেল থানাধীন ডোমসার ইউনিয়নের ভাস্কর্দী গ্রামে বাবা নামের এক নরপিচাশ তার ঔরসজাত মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করে আসছে। এই ঘটনা জানা জানি হলে বাদী ও ভিকটিম পালং মডেল থানায় যান। তখন থানার অফিসার ইনচার্জ উক্ত মামলাটি রুজু না করলে বাদী বিজ্ঞ আদালতের স্বরণাপন্ন হয়। শরীয়তপুরের নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক স্বপন কুমার সরকার উক্ত মামলাটি সরাসরি আমলে নিয়ে পালং থানার অফিসার ইনচার্জকে মামলাটি এফ আই আর হিসেবে রেজিস্টার করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।

