যশোরের কেশবপুরে এক সৌখিন খামারী বসতবাড়ির তিনতলা ছাদে গড়ে তুলেছেন দেশী জাতের গরু মোটাতাজা করনের জন্য দৃষ্টিনন্দন একটি খামার। যা দেখে এলাকার উদ্দমী যুবকেরা গরু খামার তৈরীতে আকৃষ্ট হচ্ছে। বসত বাড়ির তিন তলায় গড়ে তোলা ব্যতিক্রমধর্মী এ খামারে দেশী প্রযুক্তির লিফট ব্যবহার করে গরু ওঠা-নামা করানো হয়। ওই খামার মালিক নিজে একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হওয়ার পাশাপাশি অনেক শিক্ষিত বেকার যুবককে দেশী জাতের গরু পালনে উদ্বুদ্ধ করছেন। অল্পদিনেই খামারটি এলাকায় সাড়া জাগিয়েছে। সরেজমিনে জানা গেছে, পৌরসভার ভোগতী এলাকার নজরুল ইসলাম দীর্ঘ দিন ধরে স্বপ্ন দেখতেন একটি দেশী জাতের গুরুর খামার করার। কারণ অধিক লাভের আশায় অধিকাংশ খামারীরা বিদেশী জাতের গরুকে ভেজাল খাদ্য খাওয়ায়ে দ্রæত স্বাস্থ্যবান করে তোলে। এসব ভেজাল মাংস খেয়ে অনেকে নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। একথা উপলদ্ধি করেই তিনি উদ্যোগ নেন দেশী প্রজাতীর গরুর খামার করার। বাড়িতে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় তিনি প্রতিবেশী আলমগীর হোসেনের ১২ শতক জমি হারি নিয়ে খামার করার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু আলমগীর হোসেন তাঁর কাছে বছরে ৮০ হাজার হারি টাকা দাবি করায় তিনি পরিকল্পনা নেন বসতবাড়ির ৩ তলা ছাদেই করবেন তাঁর স্বপ্নের গরুর খামার। ৬ মাস আগে বসতবাড়ি ৩ তলায় ১২ থেকে ১৪ টি গরু পালন করার জন্য একটি টিন সেডের খামার করেন। নজরুল ইসলাম বলেন, তাঁর খামারের গুরুকে বিচালী, খৈল, কুড়া ভূষি ছাড়া অন্য কোন ভেজাল খাবার দেয়া হয় না। খামারের প্রতিটি গুরু ৮৫ থেকে ৯০ হাজার টাকায় ক্রয় করা হয়েছে। খামারে গরু ওঠা-নামাতে বাড়ির সামনে তৈরি করা হয়েছে নিজের উদ্ভাবিত লিফট। বর্তমান তাঁর খামারে ১২টি দেশী প্রজাতির গরু রয়েছে। প্রতিটি গরুর মূল্য ১ লাখ ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা হলেই তিনি গরু বিক্রি করে দেবেন। গরু লালন-পালনের জন্যে সার্বক্ষণিক একজন শ্রমিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমান গো-খাদ্যের যেভাবে মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে, তাতে আমার মত ছোট ছোট খামারীরা লাভবান হচ্ছে না। এরপরও এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকেরা এলোমেলো ঘোরাফেরা না করে যদি নিজেরা উদ্যোক্তা হয়ে এ ধরনের কাজ করে তাহলে তারা সফলতা পাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তিনি সবেমাত্র খামার করেছেন। সরকারের প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কোন ঊধ্বর্তন ব্যক্তি এখনও তার খামারটি পরিদর্শনে করেননি। তিনি সরকারি বা বেসরকারি সহযোগিতা পেলে খামারের আয়তন বৃদ্ধিসহ গরুর সংখ্যাও বাড়িয়ে দেশের স্বার্থে ভেজাল মুক্ত মাংস উৎপাদন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা অলোকেস সরকার বলেন, এ উপজেলায় ছোট বড় মিলে ৫৮০টি গরুর খামারে ৯৪ হাজার গরু রয়েছে। এছাড়া প্রায় প্রতিটি পরিবারে কম বেশী গরু-ছাগল পালন হয়ে থাকে। সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় সুফলভোগীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া, ক্যাম্পিং এর আওতায় গরু-ছাগলের টিকাদান ও কৃমিনাশক বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আমি অচিরেই খামারটি পরিদর্শন করবো।

