ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার আশুলিয়া থানার বেরন জামগড়া এলাকায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করলে টাকা না দেওয়ায় সাংবাদিক মনির বিশ্বাসের ওপর পূর্বপরিকল্পিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাতে জামগড়া বেরন এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে একটি চালের গোডাউনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে তাকে গুরুতর আহত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। একই সঙ্গে তাকে হত্যার হুমকি ও বাড়ি দখলের হুমকি দেওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন সাংবাদিক মনির ও তার পরিবারের সদস্যরা। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি সন্ত্রাসী চক্র তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। দাবিকৃত টাকা না দিলে তার বাড়ি দখল করে তাকে উচ্ছেদ করার হুমকিও দেওয়া হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে শায়েস্তা করতে হামলার পরিকল্পনা করা হয় বলে দাবি তার। সাংবাদিক মনির বিশ্বাস জানান, শনিবার রাত আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে তিনি তার বাড়ির সামনে অবস্থিত চালের গোডাউনে যান। এ সময় আগে থেকেই সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন। তিনি গোডাউনে পৌঁছামাত্র লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি হামলাকারীদের আঘাতে একপর্যায়ে মাটিতে পড়ে যান মনির। এরপরও তাকে এলোপাতাড়ি মারধর, ঘুষি ও লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান। সাংবাদিক মনির বিশ্বাস বলেন, “আমার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। টাকা না দিলে আমার বাড়ি দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। আমি টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার গোডাউনে লোকজন বসিয়ে রাখা হয়। সেখানে যাওয়ার পর রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে আমার ওপর হামলা চালানো হয়। আমি মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও তারা আমাকে মারধর করতে থাকে। তিনি আরও বলেন, “আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলা করা হয়েছে বলে আমি মনে করছি। ঘটনার পর থেকে আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা দাবি করছি। এ ঘটনায় সাংবাদিক মনিরের অভিযোগে মোঃ সিরাজুল ইসলাম ওরফে সিরাজকে প্রধান হুকুমদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও রয়েছেন মোঃ কামাল হোসেন, কামালের মেয়ের জামাই মোঃ শিপন, মজিবর মাস্টার, সিরাজের দোকানের কর্মচারী মারুফসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, পরিকল্পিত হামলা এবং হত্যার হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একজন সাংবাদিকের কাছে চাঁদা দাবি এবং পরে তার ওপর হামলার অভিযোগকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, সাংবাদিকতার পাশাপাশি নিজস্ব ব্যবসা ও বসতভিটা নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চাপ ও হুমকির মুখে রয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাংবাদিক মনির ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ সিরাজুল ইসলাম ওরফে সিরাজ, মোঃ কামাল হোসেন, মোঃ শিপন, মজিবর মাস্টার ও মারুফের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে।তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ, হামলার প্রকৃত কারণ, কারা হামলায় সরাসরি জড়িত এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো বিরোধ রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিকের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকাবাসী।

