ঢাকাশনিবার , ৭ জানুয়ারি ২০২৩
  1. অনুসন্ধান প্রতিবেদন
  2. আইন ও অপরাধ
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম ও জীবন
  5. কৃষি ও অর্থনীতি
  6. খোঁজ-খবর
  7. জাতীয়
  8. জেলার খবর
  9. তথ্য প্রযুক্তি
  10. দুর্নীতি
  11. নগর ও মহানগর
  12. নির্বাচনীয় খবর
  13. পার্শ্ববর্তী দেশ
  14. ফিচার
  15. ফেসবুক থেকে
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হাড় কাঁপানো শীত সারাদেশে জেঁকে বসেছে। জনজীবন বিপর্যস্ত ।

আওরঙ্গজেব কামাল :
জানুয়ারি ৭, ২০২৩ ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

হাড় কাঁপানো শীত সারাদেশে জেঁকে বসেছে। প্রচন্ড শীতে জনজীবন বিপর্য। এর সঙ্গে পালস্না দিয়ে দিনভর পথঘাট ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। শীতের কারণে স্বাভাবিক কর্মকান্ডে স্থবিরতা নামায় নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। কয়েক দিন ধরে বেড়েছে শীতের প্রকোপ। ঠাণ্ডা বৃদ্ধি পাওয়ায় ছিন্নমূল মানুষসহ বয়স্ক ও শিশুরা কষ্টে রয়েছে। গত তিনদিন ধরে সূর্যের দেখা মেলেনি ।গরম কাপড়ের জন্য শুরু হয়েছে ছোটাছুটি। ফুটপাতের দোকানগুলোতে উফছে পড়া ভীড় করছে নিন্ম আয়ের মানুষেরা।রাজধানী ঢাকায় মানুষের চলাচল কমে গেছে। কনকনে ঠাণ্ডা রয়েছে সকাল-সন্ধ্যা। অতিরিক্ত কুয়াশায় মাঠে কাজ করতে পারছে না সাধারণ খেটে খাওয়া কৃষকরা। হঠাৎ ঠাণ্ডা বেশি ও তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শিশু ও বৃদ্ধদের দেখা দিচ্ছে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ শীতজনিত বিভিন্ন রোগ। বর্তমানে শীতের প্রকোপে নিম্ন আয়ের মানুষেরা পড়েছে বেশ দুর্ভোগে। অভাবী ও ছিন্নমূল মানুষেরা শীতের গরম কাপড়ের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এবিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যাপক ডাঃ হরিদাশ বিশ্বাস বলেন , শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে ঠাণ্ডাজনিত রোগ। এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিশু ও বয়স্করা। তারপরেও আছে মহামারী করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরো জানান, পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। গত ১ সপ্তাহে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ শীতজনিত বিভিন্ন রোগে হাসপালাত গুলিতে রোগীর প্রচন্ড চাপ। চিকিৎসা দিতে হিমসিম খাচ্ছে চিকিৎসকরা। গৃহিনী সোনিয়াজানান, তীব্র শীতে বৃদ্ধও শিশুরা মোটেও ঠাণ্ডা সহ্য করতে পারেনা। এর ফলে লেগে আছে ঠাণ্ডা জনিত রোগ। চলতি সপ্তাহে পরপর তিনদিন দেখা মেলেনি সূর্যের। আজকে সূর্যের দেখা মিললেনি আরো বেড়েছে শিতের তীব্রতা। সারাদিন হাড় জাঁকানো ঠাণ্ডা ঘড় থেথে বাহির হওয়ার উপয় নেই। দুঃখের কথা জানালেন ঢাকা ফুট পথে থাকা জহিরের সাথে তিনি বলেন আমি পরিবার পরিজন নিয়ে খুব বিপাকে পড়েছি তিনদিন কোন কাজ পাইনি। শীতে আমাদের গরম কাপড়ের কষ্টে রয়েছি। এতো শীতে কিভাবে বাঁচবো বুঝে উঠতে পারছি না। কারণ একটাও শীতের গরম কাপড় নাই। একটা চাদর শরীরে দিয়ে শীত কাটাচ্ছি। আমাদের দেখার কেউ নাই। আমি সরকারের কাছে আশা করি একটা হলেও শীতের পোশাক দিবে। এদিকে আশুলিয়ায় শীতের তীব্রতার কারণে মাঠে কৃষক পাওয়া যাচ্ছে না এতে করে একা একা শীতকালীন সবজি লাগানো ও দেখাশোনা করতে না পারায় ক্ষতিগ্রস্তের মুখে পড়তে হচ্ছে। যদিও কৃষক পাওয়া যায় এতে করে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পরিমাণে মুজরী লাগছে। বাসের ড্রাইভার লিটন জানান, শীত বাস চালাতে অনেক কষ্ট। কিন্তু ঘন কুয়াশার কারণে সামনে দিকে দশ হাত দূর দেখা যায় না। এজন্য দিনের বেলাও গাড়ির হেডলাইট জালিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। তা না হলে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে যাবে। শীতের কারনে যাত্রী অনেক কম। তেলের খরচ উঠছে না। নাম না প্রকাশ করার শর্তে এক পোশাক শ্রমিক জানান, তীব্র শীতের জন্য গরম পোশাকে শীত নিবারণ করতে না পারাই আমরা আগুন জালিয়ে হাত-পায়ে তাপ দিচ্ছি। যাতে শীত কম লাগে।আশুলিয়ায় শীতের তীব্রতার কারণে মাঠে কৃষক পাওয়া যাচ্ছে না এতে করে একা একা শীতকালীন সবজি লাগানো ও দেখাশোনা করতে না পারায় ক্ষতিগ্রস্তের মুখে পড়তে হচ্ছে। যদিও কৃষক পাওয়া যায় এতে করে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পরিমাণে মুজরী লাগছে। এদিকে জেলার বিভিন্ন গার্মেন্টস ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে গরম কাপড় কেনার হিড়িক চলছে। যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী লোকজন লেপ-কম্বল এবং শীতের গরম কাপড় কিনছে। আবার কেউ হস্তশিল্পর নিকট থেকে বানিয়ে নিচ্ছে পোশাক। এতে লাভ হয়েছে বিভিন্ন লেপ তোষকের দোকানীদের। শীতকালকে ঘিরে জমজমাট ব্যবসা করছেন বিভিন্ন পোশাক বিক্রেতারা। নিউমার্কেটের এক দোকানী জানায়, শীতের পোশাক বিক্রয় হচ্ছে বেশী। ঢাকা শহরের ফুটপাত-বিপণিবিতানে বাড়ছে ভিড়। প্রধান সড়কগুলোর পাশে থাকা ফুটপাতে দাম যাচাই করছেন নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের লোকজন। ক্রেতারা বলছেন, অনেক দাম হওয়ায় ক্রয় করতে পারছে না শীতের পোশাক। ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ার ফুটপাতের দোকানগুলোতে অবশ্য ভিন্ন চিত্র। শনিবার ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এ দিন বিকেলে সড়কের পাশের দোকানগুলোতে বিক্রেতাদের সঙ্গে ক্রেতাদের দরদাম করতে দেখা গেছে। অনেক দাম থাকায় ক্রয় করতে হীমসীম খাচ্ছে শ্রমজীবী মানুষ।সরেজমিন দেখা গেছে, দোকানগুলোতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে জ্যাকেট, লংকোট, চাদর,উলের পোশাক, শর্ট জ্যাকেটসহ সব ধরনের পোশাক। সেলিম মন্ডল বলেন, দোকানগুলোতে যেভাবে গরম কাপড়ের দাম বাড়ানো হয়েছে, তা নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে রয়েছে। এখন অল্প দামে মোটামুটি ভালো মানের পোশাক কিনতে ফুটপাতে ভিড় বাড়ছে তবে পাওয়া যাচ্ছে না। ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা বলেন গতবারের তুলনায় পাইকারি দাম এবার বেড়েছে দ্বিগুণ। বাধ্য হয়ে তাঁদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এছাড়া বরিশাল,খুলনা , বাগেরহাট,নওগাঁ, পঞ্চগড়, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। হিমশীতল বাতাসে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। ঘনকুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় সারাদেশে জনজীবন বিপর্যস্ত। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় গত এক সপ্তাহযাবত দিনে সূর্যের দেখা মিলছে। হাড় কাঁপানো শীতের কষ্ট থেকে বাঁচার জন্য গরীব মানুষরা খড়কুটো জ্বালিয়ে একটু উষ্ণতার পরশ নিচ্ছে। কুয়াশার চাদরে সারাদিন সূর্য ঢাকা থাকায় ঘর থেকে বেরিয়ে কাজের সন্ধানেও অনেকে যেতে পারেন না। এর ফলে দিনে এনে দিনে খাওয়া দিনমজুর, রিকশা-ভ্যান, ঠেলাচালক, কৃষি শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষের রোজগার নেই। দু’মুঠো খাবার জোগাড় করতে কাজের আশায় প্রচণ্ড শীতেও অনেকে ঘর থেকে বের হচ্ছে, কিন্তু মিলছে না কাজ। কাজ না পাওয়ায় খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ মানবেতর জীবন-যাপন করছে। সারাদেশে বাড়ছে শীতজনিত রোগ-বালাই। নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাজার হাজার শিশু ও বৃদ্ধ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক-মহাসড়কে সকালেও হেডলাইড জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। গতকালও কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিল রাজধানী। সকাল থেকে ঘনকুয়াশার কারণে রাজধানীতে যানবাহন চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। কিছু কিছু স্থানে কুয়াশা এত ঘন হয়ে জমে যে ২০ হাত দূরের জিনিসও দৃশ্যমান হয় না। শীত ও কুয়াশার এ অবস্থা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এ সংস্থার তথ্যমতে, চলতি সপ্তাহের শেষে শীতের দাপট আরও বাড়তে পারে। কয়েকটি এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাবে। শৈত্যপ্রবাহ শক্তিশালী হয়ে আরও কয়েকটি জেলায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। চলতি মাসে দুই থেকে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ আসতে পারে। তবে এ মাসে শৈত্যপ্রবাহ তীব্র্র আকার ধারণ বা তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামার আশঙ্কা নেই বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল রাজধানীসহ দেশের অর্ধেকের বেশি এলাকার তাপমাত্রাও শৈত্যপ্রবাহের কাছাকাছি। রাজধানীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক শূন্য নয় ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ও শ্রীমঙ্গলে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একদিন আগে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চুয়াডাঙ্গায় ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানা গেছে, অস্থায়ীভাবে আকাশ আংশিক মেঘলাসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পরতে পারে। সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় রাতের তাপমাত্রা হ্রাস পেতে পারে। উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের একটি বর্ধিতাংশ ভারতের বিহার ও -এর সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।বিভিন্ জেলা থেকে বিশেষ করে ঢাকাগামী বাসগুলো শঙ্কা নিয়ে চলাচল করছে। শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে বেড়েছে শীতজনিত রোগবালাই। যক্ষা, হৃদরোগ, স্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা হাসপাতালে বাড়ছে। শিশু ওয়ার্ডে রোগী বাড়ছে এমনটি জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বাজারে ইনহেলারের চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে বেড়েছে দামও। কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ার কারনে কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলের কৃষক ফসলের যত্ন আত্তি করতে ক্ষেতে যেতে কষ্ট পাচ্ছে কৃষক। মাঠের খোলা হিমেল হাওয়া আরো কাঁপন ধরাচ্ছে। বরিশাল থেকে এস এম মনিরুজ্জামান জানান, মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার সাথে উত্তরের হীমেল হাওয়ায় কাঁপছে সমগ্র এলাকা। গত ৫ দিন ধরে ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে। সূর্যের মুখ দেখতে অপক্ষোয় থাকতে হচ্ছে অনেক বেলা অবধি। সাথে তাপমাত্রার পারদ মৌসুমের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ায় জনজীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। তাপমাত্রার পারদ নামার সাথে ঠান্ডাজনিত রোগ-ব্যাধির প্রকোপ ক্রমশ বাড়ছে। ইতোমধ্যে পিরোজপুর শুধু সরকারি হাসপাতালগুলোতেই নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডা জনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু ও বৃদ্ধ রোগীর সংখ্রা ক্রমেই বেড়ে চলেছে । এছাড়া মাঠে বোরো বীজতলাও ক্ষতির মুখে। হিমেল হাওয়ার সাথে তাপমাত্রার পারদ ক্রমশ নিচে নামায় বোরো বীজতলা কোল্ড ইনজুরির ক্ষতির মুখে। শনিবার সকালে বরিশালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। যা ছিল স্বাভাবিকের ৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। তবে রবিবার সকালের পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় তাপমাত্রার পারদ আরো নামবে বলে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই সমগ্র দক্ষিনাঞ্চলের আকাশজুুড়ে হালকা থেকে মাঝারি মেঘের আনাগোনায় সূর্য বারবরই আড়ালে থাকছে। ফলে জনজীবনে সঙ্কট আরো বাড়ছে। হিমেল হাওয়ার হাড়কাঁপান শীতে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের জনজীবনই এখন অনেকটা বিপর্যস্ত। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের পরে অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। এমনকি এ কনকনে ঠান্ডায় দক্ষিণাঞ্চলের মাঠজুুড়ে পাকা আমন ধান কর্তনও মারাত্মক ব্যহত হচ্ছে। খুলনা থেকে শেখ আব্দুল মজিদ জানান, খুলনায় জেঁকে বসেছে শীত। সন্ধ্যা নামতেই কুয়াশার চাঁদরে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ জনপদ। সবচেয়ে বেশি দূরবস্থায় রয়েছে শিশু-বয়স্ক ও দরিদ্ররা। ঠান্ডাজনিত নানা রোগব্যধির প্রাদূর্ভাব দেখা দিয়েছে। হাসপাতালগুলো শয্যা সঙ্কটে চিকিৎসা নিতে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে, সরকারি ও বেসরকারিভাবে যে পরিমাণ শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতূল। প্রায় ২৪ লাখ জনঅধ্যুষিত খুলনা জেলায় দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাস করে শতকরা ২০ থেকে ২৫ ভাগ মানুষ। এ হিসাবে জেলায় প্রায় সাড়ে ৫ লাখ মানুষ অতি দরিদ্র। শীত তাদের জন্য মরার ওপর খাড়ার ঘায়ের মত চেপে বসেছে। দরিদ্রদের শীতবস্ত্র বিতরণে জেলা প্রশাসনসহ বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি এগিয়ে এলেও চাহিদার তুলনায় তা খুবই নগণ্য। শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছেন। খুলনা সদর হাসপাতাল ও খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, শয্যা না পেয়ে সাধারণ মানুষ খুব কষ্টে রয়েছেন। শীতে ঘনকুয়াশায় বোরো’র বীজতলা নিয়ে শঙ্কিত রয়েছেন কৃষক। ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইনসাদ ইবনে আমিন বলেন, শীত ও কুয়াশায় ধানের চারার মাথায় পানি জমে থাকা এবং একই সঙ্গে ঠান্ডাজনিত কারণে বীজতলা বিনষ্ট হয়। এ জন্য কৃষকদের পুরো বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বোরোর বীজতলা রক্ষায় এখন পলিথিনই একমাত্র ভরসা।বিশেষ করে ছিন্নমূল ও নিম্নআয়ের মানুষ গরম কাপড়ের অভাবে চরম বিপাকে পড়েছেন। সকাল থেকে গভীর রাত অবধি খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তারা। পঞ্চগড় থেকে মো. তরিকুল ইসলাম জানান, পঞ্চগড়ে শীতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষের। দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড় হিমালয়ের পাদদেশে হওয়ায় প্রতিবারই শীতের প্রকোপ বেশি। পুরো শীত মৌসুমজুড়ে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় তেঁতুলিয়ায়। গতকাল সকাল ৯ টায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যেবক্ষণ কেন্দ্রে এ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এর আগে শুক্রবার ও শনিবার ৮.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কুয়াশার চাদরে ঢেকে ছিলো পুরো জেলা। অনেকে খড়খুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছে। পুরান গরম কাপড়ের দোকানে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শীত উপেক্ষা করে কাজে বেড়িয়েছেন শ্রমজীবী মানুষেরা। এদিকে ঘনকুয়াশার কারণে আরিচা-কাজিরহাট এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে স্বাভাবিকভাবে বিগত কয়েকদিন যাবত ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দফা দফায় বন্ধ থাকছে ফেরি চলাচল। ফলে ঘাটগুলোতে আটকে পড়ছে যাত্রী এবং যানবাহন। আটকে পড়া এসব যাত্রী এবং যানবাহন শ্রমিকদেরকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে ফেরি পার হতে। যাত্রীদের যেন ভোগান্তির শেষ নেই ফেরি ঘাটগুলোতে। খাবার, পয়ঃনিষ্কাশনসহ নানাবিধ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে এসব যানবাহন শ্রমিক এবং যাত্রীদেরকে। বিশেষ করে এই শীতে মধ্যে বেশি অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে শিশু এবং নারী যাত্রীদেরকে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।