মহান স্বাধীনতা দিবস কাল। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত গোটা দেশ। জাতীয় স্মৃতিসৌধসহ আশপাশের এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। এরই মধ্যে পুরো স্মৃতিসৌধ এলাকা ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। রং তুলির আঁচড়ে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণকে সাজিয়ে তোলার পাশাপাশি জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এদিকে মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবসে উপলক্ষে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করবেন রাষ্ট্রপ্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। তাদের সুষ্ঠু চলা ফেরা নিশ্চিত করতে সেদিন ভোর ৪টা থেকে সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ঢাকা থেকে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায় ডিএমপি। বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে জাতীয় স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে শ্রদ্ধা জানাবেন মন্ত্রী পরিষদ সদস্য,কূটনৈতিক,যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পরে জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে জাতীয় স্মৃতিসৌধ।
সরেজমিনে জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, নানা রংবেরঙ্গের বাহারি ফুলের সমারোহে সাজিয়ে তোলা হয়েছে জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ। ধুয়ে-মুছে পুরো সৌধ এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। লাল ইটে সাদা রঙের ছোঁয়া শুভ্রতা ছড়াচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে লাল টবে শোভা পাচ্ছে বাহারি ফুল গাছ। স্মৃতিসৌধ এলাকার সড়কগুলো বাহারি রঙের বাতি দিয়ে সাজানো হয়েছে। একইসঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে চারদিক সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। নিয়মিতভাবে তিন বাহিনীর সদস্যদের কুচকাওয়াজের প্রস্তুতিও শেষ। ১৬ ডিসেম্বার মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শতাধিক পরিচ্ছন্নতা-কর্মী কাজ করেছেন ধোয়ামোছা আর সাজসজ্জায়। লাল-সবুজ ফুলের সমারোহে ছোট ছোট বাগান গুলোকে সাজানো হয়েছে অপরূপ সাজে। চত্বরের সিঁড়ি ও নানা স্থাপনায় লেগেছে রঙ-তুলির আঁচড়। গণপূর্ত বিভাগের সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধের উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন,রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রস্তুত। ফুল দিয়ে সাজানো,লেক সংস্কার,ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা স্থাপনসহ আলোক সজ্জার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আসাদুজ্জামান রিপন সাংবাদিকদের বলেন,১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদিন আমিনবাজার থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত ঢাকা জেলা পুলিশের পাশাপাশি পোশা-কে ও সাদা পোশা-কে নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে আইন- শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি সকল ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও লাখ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয় একটি মানচিত্র। জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ বাংলাদেশ।

