দেশের উত্তরের জেলা নীলফামারীর জলঢাকার আমন ধান ঘরে তুলে সেই জমিতে আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। নীলফামারীর জলঢাকার মানুষ কৃষি নির্ভর। আর এ অঞ্চলের মানুষ কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। এ উপজেলায় বিভিন্ন রকম ফসল উৎপাদন হয় উর্বর দোআঁশ, বেলে দোআঁশ মাটিতে । তবে জলঢাকা উপজেলায় আলু চাষ হয়ে আসছে দীর্ঘ দিন ধরে। দেশের বিভিন্ন বাজারে যায এ এলাকার উৎপাদিত আলু।সোমবার সরেজমিনে বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা ও জানা গেছে, প্রতি বছর আলু চাষ করে স্বাবলম্বীও হয়েছেন অনেক প্রান্তিক ও মাঝারি কৃষক। এ বছরও অনুকূল পরিবেশে আমন ধান ঘরে তুলে সেই জমিতে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন শত শত কৃষক।বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দোআঁশ মাঠগুলোতে ৫০-৫৫ দিনে উত্তোলনযোগ্য সেভেন জাতের আগাম আলুর বীজ রোপণের কাজ শুরু হয়েছে। যার আলু যত আগে উঠবে, সে তত বেশি লাভবান হবেন। মৌসুমের শুরুতে নতুন আলু ভোক্তাকে দিতে পারলে চড়া বাজারমূল্য পেয়ে দ্বিগুণ লাভ প্রত্যাশা তাদের।কৈমারী ইউনিয়নের গাবরোল এলাকার কৃষক মজিবুর রহমান বলেন, এ বছর ৪ বিঘা জমিতে আলু রোপণ করেছি। আগুর (নির্দিষ্ট সময়ের আগে) আলু উত্তোলন করতে পারলে ৬০ -৭০ টাকা কেজি দরে বাজারে বিক্রি করা যাবে। গত বছর ধান কাটার পর এই জমিতে চাষ করা আলু ক্ষেতে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে বিঘায় লাভ করেছি ৩০ হাজার টাকারও বেশি।একই ইউনিয়নের রথবাজার এলাকার পরিতোষ এবার আলু চাষ করেছেন ৪ বিঘা জমিতে। তিনি বলেন, আমাদের এদিকের ডাঙ্গা জমিগুলো একদম উঁচু এবং বালুমিশ্রিত। ভারী বৃষ্টিপাত হলেও তেমন ভয় থাকে না। তাই আগেভাগে দ্বিগুণ লাভের আশায় আগাম আলু চাষ করছি।ডাউয়াবারী ইউনিয়নের কুটিপাড়া গ্রামের আলুচাষি আলম হোসেন বলেন, গত বছর ৩ বিঘা জমিতে ৩৯ বস্তা ফলন পাই। যা উত্তোলন করে ৬০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি করে খরচ বাদে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। এবার ধান কাটার পর ৫ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন বলেন, চলতি বছর ৩ হাজার ৩ শত হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ১০০ হেক্টর বেশি। এ বছর আগাম আমন ধানে রেকর্ড পরিমাণ ফলন পেয়ে কৃষক আলু চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উঁচু জমিতে আলুচাষে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নিচু জমিতে আবহাওয়া দেখে রোপণের কথা বলা হচ্ছে। এ উপজেলার অন্যতম আকর্ষণ নতুন আলু ৫০-৫৫ দিনের মধ্যে বাজারে চলে আসবে। আশা করছি ভালো ফলন ও চড়া বাজার মূল্য পেয়ে কৃষক পরিবারে সমৃদ্ধি বয়ে আনবে। আগাম ধান, আগাম আলু চাষে এ জনপদে অভাব এখন অতীত।

