শক্তিমত্তা, ইতিহাস, র্যাংকিং, সাম্প্রতিক ফর্ম—সবকিছুতে দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়ে ঢের এগিয়ে ছিল মেক্সিকো। তার ওপর ম্যাচের লম্বা একটা সময় আফ্রিকার দলটিকে খেলতে হয়েছে কম খেলোয়াড় নিয়ে।লড়াইটা তাই আরো একপেশে হয়ে উঠল। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফিফা বিশ্বকাপে শুভ সূচনা করল মেক্সিকো। ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে সহ-আয়োজকদের হয়ে গোল দুটি করেছেন হুলিয়ান কিনিয়োনেস ও রাউল হিমেনেজ।এ জয়ে আজতেকায় বিশ্বকাপের ম্যাচে অজেয় থাকার রেকর্ডটা অক্ষুণ্ন রাখল মেক্সিকো (৬ জয়, ২ ড্র)।সেই সঙ্গে এ বছর ৯ ম্যাচ খেলে এখনো অপরাজিত থাকল হাভিয়ের আগিরের দল। এবারের মতো ২০১০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। সেবার নিজেদের মাঠে মেক্সিকোকে রুখে দিলেও এবার মেক্সিকোর ঘরে পারল না দক্ষিণ আফ্রিকা।ব্রাজিলিয়ান রেফারি উইলতন সাম্পাইয়ো ম্যাচে লাল কার্ড বের করেছেন তিনবার।মাঠ ছাড়তে হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার ইয়াইয়া সিথোল ও টেম্বা জোয়ানে এবং মেক্সিকোর সেজার মন্তেসকে।আজতেকার ৮৩ হাজার দর্শক নিয়মিতই মেক্সিকান ঢেউ তুলেছেন। ভিআইপি গ্যালারিতে ছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম পার্দোও। তাদেরকে ‘দ্বাদশ খেলোয়াড়ের’ ভূমিকায় পেয়ে মেক্সিকো দল যেমন আরো বেশি চাঙা হয়েছে, বিপরীতে দক্ষিণ আফ্রিকানদের আত্মবিশ্বাসে যেন চিড় ধরেছে।ম্যাচের শুরু থেকেই মুহুর্মুহু আক্রমণে দক্ষিণ আফ্রিকানদের তটস্থ রেখেছে মেক্সিকানরা।গোছানো এক আক্রমণ ৫ মিনিটে গোলটা প্রায় পেয়েই গিয়েছিলেন ইংলিশ ক্লাব ফুলহামের মেক্সিকান ফরোয়ার্ড রাউল হিমেনেজ। কিন্তু গোলকিপার রোনওয়েন উইলিয়ামসের বীরত্বে সে যাত্রায় বেঁচে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।তবে গোলের জন্য মেক্সিকোকে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ৯ মিনিটে বক্সের মধ্যে ফাঁকায় বল পেয়ে এবারের আসরে প্রথম গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন কিনিয়োনেস।অনেক নতুনত্বের এই বিশ্বকাপে প্রথম হাইড্রেশন ব্রেক (পানি পানের বিরতি) দেখা গেছে ম্যাচের ২৫ মিনিটে। এরপর আরো ছন্দময় ফুটবল খেলেছে মেক্সিকো। কিন্তু আরো কয়েকবার দক্ষিণ আফ্রিকার গোলকিপার উইলিয়ামস দেয়াল তুলে দাঁড়ালে প্রথমার্ধে দ্বিতীয় গোলটা পাওয়া হয়নি। খেলায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির শুরু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে। ৫০ মিনিটে মেক্সিকোর ব্রায়ান গুতিয়েরেসকে ফেলে দিয়ে লাল কার্ড দেখেন দক্ষিণ আফ্রিকার সিথোল।