পবিত্র ঈদুল ফিতরের উৎসবমুখর আবহ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। দেশজুড়ে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগিতে ব্যস্ত মানুষ। অনেকেই এখনো কর্মস্থলে ফেরেননি। তবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ব্যক্তিগত অবকাশের চেয়ে জাতীয় দায়িত্বই প্রাধান্য পেয়েছে।
ঈদের ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসেই তার ব্যতিক্রমী কর্মনিষ্ঠার পরিচয় মিলেছে। মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে প্রবেশের পর থেকে টানা প্রায় ১১ ঘণ্টা দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত সময় পার করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের তথ্যমতে, সকাল ৯টা ১ মিনিটে সচিবালয়ে এসে দিন শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দিনভর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, ফাইল পর্যালোচনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে সন্ধ্যা ৭টা ৫৩ মিনিটে দপ্তর ত্যাগ করেন।
দিনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে প্রবাসী কল্যাণ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে দেশের শ্রমবাজার ও প্রবাসী কর্মীদের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
এরপর রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন সংক্রান্ত একটি জরুরি সভায় সভাপতিত্ব করেন তিনি। এছাড়াও বিকেলে সৌজন্য সাক্ষাৎ, দাপ্তরিক নথিপত্র পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে দিনটি কাটান কর্মচাঞ্চল্যে।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, এই নিরবচ্ছিন্ন কর্মতৎপরতা কেবল একটি দিনের বিবরণ নয়; বরং দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ ও অঙ্গীকারের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। ব্যক্তিগত অবকাশের সময়েও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এই দৃষ্টান্ত দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমে একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
ঈদের পরের এই প্রথম কর্মদিবস তাই শুধু দাপ্তরিক ব্যস্ততার গল্প নয়—এটি এক দেশনায়কের দায়িত্ববোধ ও কর্মনিষ্ঠার প্রতিচ্ছবি হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

