ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। একই অধিবেশনে নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন। আজ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ-এর প্রথম অধিবেশনে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি জানান, স্পিকার পদে একমাত্র মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামে এবং তিনি দায়িত্ব পালনে সম্মতি দিয়েছেন। পরে স্পিকার নির্বাচনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম। প্রস্তাবটি সমর্থন করেন আরেক সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম। কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হলে হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অপরদিকে, ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত কায়সার কামাল ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। ডেপুটি স্পিকার পদেও একমাত্র মনোনয়নপত্র জমা পড়ে কায়সার কামালের নামে। সভাপতির আহ্বানে সরকারি দলের সংসদ সদস্য ও হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাবটি সমর্থন করেন হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দীন নিজান। কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হলে তিনি ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবন অত্যন্ত বর্ণাঢ্য। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি রাষ্ট্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্ব পদক ‘বীর বিক্রম’ লাভ করেন। তরুণ বয়সে তিনি তৎকালীন পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও অধিনায়ক ছিলেন। পাশাপাশি ১৯৬৪ সাল থেকে টানা তিনবার পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানব হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তার পিতা ডা. আজহার উদ্দিন ১৯৬৩ ও ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর বাবার পথ অনুসরণ করে রাজনীতিতে যুক্ত হন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
ভোলা-৩ আসন থেকে তিনি ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর অধিবেশন ৩০ মিনিটের জন্য মুলতবি ঘোষণা করা হয়।

