মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে আজকের শিক্ষার্থীরাই মূল শক্তি। তারা আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে নর্থ প্যাসিফিক ইন্টারন্যাশনাল (এনপিআই) ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধিত্ব করে তিনি এসব কথা বলেন।ফরিদা আখতার জানান, এনপিআই ইউনিভার্সিটি এমনভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে যে স্বল্প ব্যয়ে গ্রামের তরুণ-তরুণীরাও উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে। মানিকগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, ভাষা সৈনিক শহীদ রফিক থেকে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন—এই জেলার ইতিহাস গুণী মানুষের অবদানে সমৃদ্ধ। মানিকগঞ্জকে তিনি ‘সুফি-দরবেশদের জ্ঞানচর্চার ভূমি’ বলেও উল্লেখ করেন।শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উপদেষ্টা বলেন, “প্রথম সমাবর্তন এনপিআই ইউনিভার্সিটির জন্য যেমন একটি বড় উপলক্ষ, তেমনি তোমাদের জন্যও নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার্থীরা নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ ও সততার সঙ্গে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ করবে।তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি দেখেছেন—গ্রামীণ নারীরা গবাদিপশু লালন-পালন করে তাদের সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালান। এ উদাহরণ উচ্চশিক্ষা অর্জনের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে বলে তিনি মন্তব্য করেন। গ্রামের মানুষের মেধা ও প্রজ্ঞাকে মূল্য দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।এ ছাড়া তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ধ্যাকালীন কোর্স চালুর ফলে কর্মজীবীদের উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগ বাড়ছে, যা মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সিআরপি প্রতিষ্ঠাতা ড. ভ্যালেরি অ্যান টেইলর, শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ, ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনেয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সভাপতি ড. মো. সবুর খান।ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. শামসুর রহমান বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য উপস্থাপন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরহাদ হোসেন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মীর মাহফুজুল হক।সমাবর্তনে এনপিআই ইউনিভার্সিটির ৪৬৭ জন শিক্ষার্থীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ৪ জন চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড, ১ জন বিওটি চেয়ারম্যান গোল্ড মেডেল, ৭ জন ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড, ৬ জন ডিনস অ্যাওয়ার্ড এবং ২ জন একাডেমিক এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।