দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম চলবে । আমরা তাদেরকে শক্ত হতে প্রতিহত করব বলেছেন বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় তিনি আরো বলেন,ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের নারকীয় আশুলিয়া ঘটনার শহীদদের স্মরণে আজকের এই প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে আমরা শহীদ পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানাই। বুধবার বিকালে ঢাকা ইপিজেড শ্রীপুর ইসলামিয়া মাদরাসার সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর । তিনি এ সময় বলেন,দেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশ থেকে এখনো যারা ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিতে চায়, নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়-তাদের প্রতিহত করতে হবে। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি নেতৃবৃন্দরা বলেন, ‘পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ যেভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় জনগণের উপর প্রভাব বিস্তার করেছে, আপনারা কেউ বিএনপির নাম ভাঙিয়ে সে ধরনের আচরণ করবেন না। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সবসময় আমাদের বলেছেন, জনগণের পাশে থাকতে। তাই জনগণের মতামত নিয়ে আমরা একটি অবাধ ও সুষ্ট নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। ঢাকা জেলা বিএনপি সভাপতি খন্দকার আবু আশফাকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নিপূন রায়ের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপি চেয়ারপারসন উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু,বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক,
কেন্দ্রীয় নেতা ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু প্রমুখ। সমাবেশে মহিলাদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, ঢাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিষ্টার ইরফান ইবনে আমান অমি, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব হাজী মোস্তফা জামান, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র সদস্য আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, এবিএমএ রাজ্জাক,
গাজী রেজাউনুল হোসেন রিয়াজ, এম কফিল উদ্দিন আহমেদ, হাজী মো. ইউসুফ, মুহাম্মদ আফাজ উদ্দিন, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়েরুল কবির খান, দারুসসালাম থানা বিএনপি আহ্বায়ক এসএ সিদ্দিক সাজু এবং জেলা যুবদল, ছাত্রদল, সেচ্ছাসেবকদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।সমাবেশে বিএনপির নেতাকর্মী, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি বর্গ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে শহীদদের স্বজনরা বক্তব্য দেন। বক্তারা সবাই আশুলিয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় বিএনপি নেতৃবৃন্দরা বলেন গত ১৭ বছর ধরে বিএনপি যে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে, তা দেশের জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে। আমরা আজো পরিপূর্ণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার শাসন থেকে মুক্তি পেলেও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ এখনো গড়ে ওঠেনি। এ সময় নেতৃবৃন্দরা আরো বলেন আমরা গণতন্ত্রের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছালেও সেটির পূর্ণ বাস্তবায়ন এখনো বাকি। যতদিন পর্যন্ত একটি সুন্দর সুষ্ঠু অবাক নিরপেক্ষ নির্বাচন না হবে ততদিন কিন্তু এই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে না। এই জন্য প্রয়োজন একটি অতি দ্রুত নির্বাচন। সরকারকে বলবো অতি দ্রুত নির্বাচন দিন। নেতৃবৃন্দরা বলেন বিএনপি ক্ষমতার যাওয়ার জন্য অস্থির নয় । জনগণের মালিকানা তাদের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে। আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন হলে অনেক সমস্যা দূর হয়ে যাবে।