চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক অপারেটর দরকার বলেছেন,নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন । তিনি শুক্রবার চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন। নৌ উপদেষ্টা এ সময় দেশের স্বার্থে বন্দর নিয়ে প্রোপাগান্ডা না করার আহ্বান জানান। নৌপরিবহন উপদেষ্টা ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম পোর্ট বাংলাদেশের পোর্ট। চট্টগ্রাম পোর্ট আমাদের সম্পত্তি। এটা আমাদের কাছেই থাকবে। যদি কেউ অন্যভাবে প্রোপাগান্ডা করে থাকে, আমি আশা করব দেশের স্বার্থে এ ধরনের প্রোপাগান্ডা যেন না করে। আমরা সামনের দিকে যেতে চাই। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যেতে চাই। আমরা পেছনে পড়ে থাকতে চাই না। উপদেষ্টা বলেন, এনসিটি’র কার্যক্রম আরও বেশি দক্ষ ও কার্যকর করার জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এখানে যে কনটেইনার লোড হচ্ছে তা সিঙ্গাপুর যাবে। ট্রান্সশিপমেন্ট হবে। সিঙ্গাপুরে বেশিরভাগ পোর্টই প্রাইভেটলি পরিচালনা হচ্ছে। আমাদের যদি ইফিশিয়েন্সি বাড়াতে হয় তাহলে বাইরের টেকনোলজি আনতে হবে। নিজেরা অনেক ইফিশিয়েন্টলি করছি। এ ইফিশিয়েন্সি বাড়াতে আমাদের দরকার হচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রবেশ করানো। একটা পোর্ট তখনই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রবেশ করবে, যখন একটা আন্তর্জাতিক অপারেটর আসবে। পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান, কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী, বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বর্তমানে এনসিটি পরিচালনায় নিয়োজিত চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেডের (সিডিডিএল) কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, বন্দরের ট্যারিফ আলোচনা করে বাড়িয়েছি। এককভাবে মন্ত্রণালয় বাড়ায়নি। আন্তঃমন্ত্রণালয়ে কথা হয়েছে এবং স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে কথা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন মেইন পোর্টের ট্যারিফ দেখার পর দেখা গেছে এখনো এখানে ট্যারিফ অনেক কম। এমনকি মোংলা থেকেও কম। ১৯৮৬ সালের পর বন্দরের ট্যারিফ আর বাড়ানো হয়নি। আপনি দেখেন ১৯৮৬ সালের এক টাকার মূল্য এখন কত হয়েছে। ৭ জুলাই বন্দর কর্তৃপক্ষ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার জন্য ছয় মাসের জন্য অস্থায়ীভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেডকে (সিডিডিএল) দায়িত্ব দিয়েছে। এর আগে এটি পরিচালনা করত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড। সরকার বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে নিউমুরিং টার্মিনাল পরিচালনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এই অন্তর্বর্তী সময়ে পরিচালনা করবে সিডিডিএল।নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা কেবল পুরোনো অপারেটরের পরিবর্তে নতুন অপারেটর নিয়োগ করতে যাচ্ছি। এর একমাত্র উদ্দেশ্য দক্ষতা বৃদ্ধি। কারণ, আমি বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন বন্দরের কার্যক্রম পরিদর্শন করেছি। আমার এতে কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই, এমনকি আমি চট্টগ্রামের বাসিন্দাও নই। বন্দরের মাশুল বাড়ানো নিয়ে নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, মন্ত্রণালয় এককভাবে মাশুল বাড়ায়নি। আন্তমন্ত্রণালয় আলোচনা হয়েছে। ব্যবহারকারীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বন্দরের মাশুল বাড়ানো হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রধান বন্দরের চেয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের মাশুল এখনো অনেক কম।কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী বলেন, সিডিডিএল দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৭ দিনে নিউমুরিং টার্মিনালে জাহাজের গড় অবস্থান গড়ে ১০ ঘণ্টা সময় কমেছে। কনটেইনারের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩০ শতাংশ।