ঢাকাবুধবার , ১২ জুলাই ২০২৩
  1. অনুসন্ধান প্রতিবেদন
  2. আইন ও অপরাধ
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম ও জীবন
  5. কৃষি ও অর্থনীতি
  6. খোঁজ-খবর
  7. জাতীয়
  8. জেলার খবর
  9. তথ্য প্রযুক্তি
  10. দুর্নীতি
  11. নগর ও মহানগর
  12. নির্বাচনীয় খবর
  13. পার্শ্ববর্তী দেশ
  14. ফিচার
  15. ফেসবুক থেকে
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের শত্রুতা বন্ধ করতে হবে

আওরঙ্গজেব কামাল :
জুলাই ১২, ২০২৩ ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বর্তমান সময়ের সাংবাদিকতা অনেক কঠিন ও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এর প্রধান কারণ এক সাংবাদিক অপারসংবাদিকদের বিরুদ্ধে নানা বিধ প্রগন্ডা রটানো। যে কারনে গোটা সাংবাদিক সমাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। বর্তমান সময়ে লক্ষ্য করা গেছে এক সাংবাদিক অপার সাংবাদিককে মেনে নিতে পারেন না বা পছন্দ করতে পারেন না। অধিকাংশ সাংবাদিক অপার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করতে ব্যস্ত থাকেন। এ সুযোগে প্রশাসন থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকরা পর্যন্ত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা,হামলাসহ নানাবিধ প্রগন্ড চালাতে দ্বিধাবোধ করে না। অধিকাংশ সাংবাদিকদের মামলা ও হামলা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে ৮০ পাচ্ছেন ঘটনার পিছনে কোন না কোন সাংবাদিকের হাত রয়েছে। বর্তমান সময়ে সাংবাদিকদের আচারনগত দিক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক সময় এক সাংবাদিক অপার সাংবাদিক ভুয়া বলে অপপ্রচার করে , ফলে ঐ সংবাদিক সমাজের কাছে হেয় প্রতিপন্ন হয়। আবার লক্ষ্য করা যাচ্ছে অপপ্রচারকারী সাংবাদিককে কোন না কোন সাংবাদিক একইভাবে চিহ্নিত করছে। ফলে দেখা যায় গোটা সাংবাদিক জগৎটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। গত চার বছরে ৩৫৫ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং শতাধিক সাংবাদিক গ্রেপ্তার হয়েছে, তার অর্ধেকের ও বেশি মামলায় সাংবাদিকদের হাত রয়েছে। বাকিটার বেশির ভাগ মামলা ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবে হয়েছে। এছাড়া এক সাংবাদিক সংগঠনের বিরুদ্ধে অপর সাংবাদিক সংগঠন নানাবিধ অপপ্রচার করতে দেখা যায়, ফলে সকল সাংবাদিক কোনো না কোনো সময় নানাবিধ সমস্যায় পড়তে দেখা যাচ্ছে। যে কারনে সাংবাদিকদের জান ও জীবনের নিরাপত্তাহীনতা বেড়েই চলেছে। কর্মক্ষেত্র এতটাই অনিরাপদ হয়ে পড়েছে যে, হয় আপস করে, নত সাংবাদিকতা করে টিকে থাকতে হচ্ছে, না হলে জীবন কিংবা অঙ্গ দিয়ে সাহসী সাংবাদিকতার মূল্য শোধ করতে হচ্ছে। প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ চাপ, চোখরাঙানি আর জেল-জুলুমের ভয়ে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ যখন রুদ্ধ প্রায়, তখন গুটিকতক সংবাদকর্মী পেশাদারিত্ব চর্চার চেষ্টা করে নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না। নিহত ও নির্যাতিত সাংবাদিকের মিছিল দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। নতুন করে যুক্ত হয়েছে অপমৃত্যুর বহর।বর্তমানে পেশাদার সাংবাদিকতার জন্য এটা একটা বড় দুঃসংবাদ। এর মানে সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা বেশ কমে গেছে। সংবাদপত্রগুলোতে যা ছাপা হচ্ছে, অধিকাংশ পাঠকই তা সত্য বলে বিশ্বাস করছে না। কিন্তু পাঠক-দর্শকদের আস্থাই সংবাদমাধ্যমের মৌলিক পুঁজি। সেটাই যখন নষ্ট হয়ে যায়, তখন আমরা কেন, কী উদ্দেশ্যে সাংবাদিকতা করছি এমন প্রশ্ন পেশাদার সাংবাদিকদের । আমরা সত্য বলে যা প্রকাশ করছি, যাদের জন্য তা প্রকাশ করছি, তারা যদি সেটাকে সত্য বলে বিশ্বাস না করে, তাহলে আমাদের এই কাজের অর্থ বা সার্থকতা কী? সংবাদমাধ্যমের আস্থা কমে যাওয়ার সমস্যা শুধু বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ নয়, এ সমস্যা বৈশ্বিক। সাম্প্রতিক কালে এ নিয়ে বৈশ্বিক পরিসরে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে। এর একটা বড় কারণ তথ্য ও খবর এবং এ দুইয়ের মতো করে পরিবেশিত, সঞ্চালিত, প্রচারিত, পুনঃপ্রচারিত গুজব বা ভুয়া খবরের প্রাচুর্য। শুধু গুজব বা শুধু ভুয়া খবরই যে বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট তৈরি করেছে তা নয়, আংশিক সত্য খবর এবং ভিন্ন ভিন্ন সংবাদমাধ্যমে একই ঘটনা বা একই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন রকমের তথ্য-উপাত্ত-ভাষ্য প্রচারিত হওয়ার ফলেও একই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এই ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অসংবাদমাধ্যমগুলোর ভূমিকা বেশি; তবে সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের দায়ও কম নয়। একশ্রেণির সংবাদমাধ্যমের কিছু কর্মীর মধ্যে চাঞ্চল্যকর খবর প্রচারে অতি উৎসাহ কাজ করে। অতি দ্রুত বা ‘সবার আগে’ সংবাদ পরিবেশনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত সাংবাদিকেরা খবরের যথার্থতা ভালোভাবে যাচাই করার পেছনে সময় ব্যয় করতে চান না। এটা অনলাইন সংবাদমাধ্যমে বেশি ঘটে। ফলে দেখা যায়, কখনো কখনো একই সংবাদপ্রতিষ্ঠানের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত খবর ও পরদিন প্রকাশিত ছাপা সংস্করণের খবর এক রকম নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনলাইন সংস্করণের ভুল ছাপা সংস্করণে পুনরাবৃত্ত হয় না। কোনো কোনো সংবাদপ্রতিষ্ঠান খবর পরিবেশনে সময়ের দিক থেকে পিছিয়ে পড়তে পারে খবরটির যথার্থতা যাচাইয়ের পেছনে অপেক্ষাকৃত বেশি সময় ব্যয় করার কারণে। কিন্তু অধিকাংশের প্রবণতা এর উল্টো, সবার আগে ‘নিউজ ব্রেক’ করার প্রতিযোগিতায় নেমে বেঠিক বা ভুল সংবাদ পরিবেশনের ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে। বর্তমানে লক্ষ করা যাচ্ছে ৪৪ শতাংশ সাংবাদিকরা নীতিনৈতিকতা বা নিয়মকানুন অনুসরণ করেন না। সাংবাদিকেরা নানা ধরনের বাধাবিপত্তি, ভয়ভীতি, চাপ, নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকেন, এটা যেমন সত্য, তেমনি এটাও সত্য যে তাঁদের একটা অংশ সচেতনভাবে অপসাংবাদিকতারও আশ্রয় নিয়ে থাকেন। সংবাদমাধ্যমের ওপর জনগণের আস্থা কমে যাওয়ার জন্য তাঁদেরও দায়ী করতে হয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যে কতটা হুমকিতে পড়েছে, তা গত ৪ বছরে বেশ প্রকট হয়ে ফুটে উঠেছে।সাংবাদিকেরা এখন যেসব ভিত্তিহীন মামলার শিকার হচ্ছেন, তা আগে কখনো দেখা যায়নি। স্ল্যাপ (স্ট্র্যাটেজিক ল-স্যুটস অ্যাগেইনস্ট পাবলিক পার্টিসিপেশন) নামে পরিচিত এই মামলাগুলো সাজানো হয় সাংবাদিক বা সেই সব ব্যক্তিকে ভয়ভীতি দেখানোর জন্য, যাঁরা ক্ষমতাবান ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আচরণ নিয়ে সমালোচনা করেন। প্রায় ক্ষেত্রে, এসব মামলার অভিযোগগুলো হয় ভিত্তিহীন, অসার বা অতিরঞ্জিত; এগুলো দায়ের করা হয় কোনো সাংবাদিক বা মানবাধিকার কর্মীকে চাপে ফেলার জন্য এবং এঁদের সঙ্গে কোনো অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয় থাকে না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য সমস্যার আরেকটি বড় উৎস হলো অনলাইনে তথ্য নিয়ন্ত্রণের রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টা। অনেক দেশেই গণমাধ্যমগুলোকে কাজ করতে হয় কঠোর ও দমনমূলক পরিবেশে। তাই এসব জায়গায় ইন্টারনেট হয়ে ওঠে মুক্ত ও স্বাধীন মতপ্রকাশের শেষ জায়গা। কিন্তু এখন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ওপরও দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে নানান কৌশলে।স্বাধীন সাংবাদিকতার চর্চা এখন বিশাল এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। কোথাও কর্তৃত্ববাদী শাসকেরা এমন আইন প্রণয়ন করছেন, যা কথা বলার অধিকার ক্ষুণ্ন করছে, কোথাও এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে যে, সাংবাদিকেরা তাঁদের কাজ চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে পারছেন না। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হলে সাংবাদিকদের জানা দরকার, আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে তাঁদের জন্য কী ধরনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ জন্য আমাদের প্রয়োজন সন্মিলত ভাবে নিজেদের অধিকার আদায়ে কাজ করা । আসুন সকলে মিলে সকল ভেদাভেদ ভুলি গিয়ে এটা সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে একটি আদর্শ পেশাজীবী সাংবাদিক সমাজ গড়ে তুলি।
লেখক ও গবেষক
আওরঙ্গজেব কামাল
সভাপতি
ঢাকা প্রেস ক্লাব

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।