পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে আরাফাতে উপস্থিত হয়েছেন লাখ লাখ হাজি। পবিত্র হজ ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি। আর্থিকভাবে সামর্থ্য ও শারীরিকভাবে সক্ষম পুরুষ ও নারীর জন্য তা ফরজ। এবার যারা হজে এসেছেন তারা আজ সূর্যোদয়ের পর সমবেত হয়েছেন মিনা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে বিদায় হজের স্মৃতিজড়িত আরাফাতের ময়দানে। পবিত্র হজব্রত পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে জমায়েত হওয়া মুসল্লিরা সোমবার মিনায় যাওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল আনুষ্ঠানিকতা। মঙ্গলবার ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে সকলে সমবেত হয়। হাজিদের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে আরাফাতের ময়দান। ইসলামী রীতি অনুযায়ী, জিলহজ মাসের নবম দিনটি আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে ইবাদতে কাটানোই হলো হজ।এখানে মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা দেবেন খতিব। এ বছর আরাফাতের ময়দানে হজের খুতবা দেবেন শায়খ ড. ইউসুফ বিন মুহাম্মদ বিন সাঈদ। একই সঙ্গে মসজিদে নামিরাতে নামাজও পড়াবেন তিনি। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মুসল্লি পবিত্র হজব্রত পালন করছেন। হজের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে মুসল্লিরা মিনা, আরাফাতের ময়দান, মুজদালিফা ও মক্কায় পাঁচদিন অবস্থান করবেন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘আল-হাজ্জু আরাফাহ অর্থাৎ আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হওয়াই হজ।এদিন মহান আল্লাহ সবচেয়ে বেশি মানুষকে ক্ষমা করেন। ক্ষমার আশায় সারাবিশ্ব থেকে আগত মুসলিমরা আরাফায় তাকবির, তালবিয়া, ক্ষমা প্রার্থনা ও কান্না-রোনাজারিতে ব্যস্ত রয়েছেন। মসজিদ হারামাইন শরীফাইন ফেসবুক পেজ ও সৌদির টিভি চ্যানেলগুলোতে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে হজের যাবতীয় কার্যক্রম। এতে দেখা যায়, হাজিদের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে আরাফাতের ময়দান। সেখানে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিরা। আরাফাত দিবসে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মসজিদ নামিরা থেকে হজের খুতবা ও নামাজ আদায়ের মধ্যদিয়ে পালিত হবে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। আরাফাত দিবসে দিনভর কান্নাকাটি, দোয়া-ইসতেগফারের পর সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে হাজিরা রওনা হবেন মুজদালিফার দিকে। যেখানে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাবেন তারা। বুধবার হাজিরা উদযাপন করবেন পবিত্র ঈদুল আজহা। এরপর কোরবানির মধ্যদিয়ে শেষ হবে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা। এর আগে ঢাকায় হজ অফিসের এক বুলেটিনে মঙ্গলবার বলা হয়, হজযাত্রীরা মিনা যাওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু করেন পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। সোমবার দিনভর তারা মিনায় অবস্থান করেন। এরপর মঙ্গলবার তারা সমবেত হচ্ছেন ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে। সেখানে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন তারা।বুলেটিনে আরো জানানো হয়, মোট ৩২৫টি হজ ফ্লাইটে বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২২ হাজার ৮শ’ ৮৪ হজ যাত্রী সৌদি আরবে গেছেন। তাদের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিবহন করেছে ১৫৯টি ফ্লাইটে ৬১ হাজার ১শ’ ৮০ জন হজযাত্রী। সৌদি এয়ারলাইন্স পরিবহন করেছে ১১৩টি ফ্লাইটে ৪১ হাজার ৪শ’ ৬৮ জন হজযাত্রী।এছাড়া ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স পরিবহন করেছে ৫৩টি ফ্লাইটে ২০ হাজার ২শ’ ৩৬ জন হজযাত্রী। সৌদি আরব থেকে হজ যাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ২ জুলাই এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট হবে ২ আগস্ট।সৌদি আরবের বাংলাদেশ অফিসের চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে ৪৮ হাজার ৪৯২ জন হজযাত্রীকে স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র দেয়া হয়েছে। এবার বাংলাদেশ থেকে সরকারি হজযাত্রীর কোটা ছিল ১০ হাজার ৩৬০ জন। আর বেসরকারি হজযাত্রীর কোটা ছিলো ২ হাজার ৫০৬ জন। হজ গাইডসহ মোট সৌদি আরবে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ১৯৮ জন।সৌদি আরবে বাংলাদেশের ৪ নারীসহ ২৬ জন হজযাত্রী ইন্তেকাল করেছেন। তাদের মধ্যে মক্কায় ২২ জন ও মদিনায় ৪ জন হজ যাত্রী মারা গেছেন।

