ঢাকাশনিবার , ১৭ জুন ২০২৩
  1. অনুসন্ধান প্রতিবেদন
  2. আইন ও অপরাধ
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম ও জীবন
  5. কৃষি ও অর্থনীতি
  6. খোঁজ-খবর
  7. জাতীয়
  8. জেলার খবর
  9. তথ্য প্রযুক্তি
  10. দুর্নীতি
  11. নগর ও মহানগর
  12. নির্বাচনীয় খবর
  13. পার্শ্ববর্তী দেশ
  14. ফিচার
  15. ফেসবুক থেকে
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভাব নয়

আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া :
জুন ১৭, ২০২৩ ৮:০২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভাব নয় বলেছেন ঢাকা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আওরঙ্গজেব কামাল। তিনি শনিবার এক বিবৃতিতে এমন মন্তব্য করেছে। বিবৃতিতে সাংবাদিক গোলাম রব্বানি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সুরক্ষায় সরকারের সদিচ্ছার উদাহরণ তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া গাজীপুর ৫ সাংবাদিক আটক এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল নিউজ ক্লাবের কেন্দ্রীয় মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা জান্নাত জাহা কে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্যসহ সাংবাদিকদের হয়রানীসহ নানা বিধ বিষয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বর্তমানে বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর অব্যাহত হামলা-মামলা-নির্যাতন ও হত্যা স্বাভাবিকতায় পরিণত হয়েছে কোন ভাবে এর প্রতিকার হচ্ছে না। সাংবাদিকের ওপর হামলা-নির্যাতন, আটক, গুম ও এমনকি হত্যা এখন নিয়মিত হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিককালে সাংবাদিকদের ওপর সংঘঠিত বিভিন্ন হামলা, মামলা ও নির্যাতনের প্রতিরোধে প্রশাসনিক ও আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সাফল্যের ঘাটতি, নির্লিপ্ততা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের একাংশের প্রচ্ছন্ন সমর্থন পাওয়ায় হামলাকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে, যার সর্বশেষ নিদর্শন জামালপুরে সাংবাদিক গোলাম রব্বানি হত্যাকাণ্ড। এই হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে সাংবাদিকরা চরম বিপাকে রয়েছে।সাংবাদিক নির্যাতনের জন্য যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায়ী, তারা কোনোভাবে ক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলেই বিচারহীনতা ভোগ করবেন, এমন পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে । এখন সাংবাদিক নির্যাতন করলে এমনকি হত্যা করলেও যে কোনো শাস্তি হয় না, এমন ধারণা এক প্রকার প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে সর্বশেষ জামালপুরে গোলাম রব্বানি হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে প্রমান হয়েছে । বর্তমানে গণমাধ্যমের কণ্ঠস্বর রোধে চেষ্ঠা অব্যহত রয়েছে । যার মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন । এ আইনের বেড়াজালে অনেক সাংবাদিক অহেতুক জেল জরিমানা ভোগ করছেন। সাংবাদিক হয়রানিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ব্যবহার নিয়ে সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। এছাড়া আরও কমপক্ষে ২০ ধরনের আইনের মোকাবিলা করতে হয় সাংবাদিকদের। একদিকে নির্যাতন, হয়রানি আর আইনের নানা খড়গ নিয়ে বাংলাদেশে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন সাংবাদিকরা। এর বিপরীতে সাংবাদিকদের সুরক্ষা দেওয়ার কোনো আইন নেই, নেই কোনো প্রতিষ্ঠান এবং সাংবাদিকদের উপর নির্যাতনের বিচার হয় না। যে কারনে নির্যাতনকারীরা বেপরোয়া৷আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সুযোগ পেলে সাংবাদিকদের সহযোগীতা না করে গলার টুটি চেপে ধরে। তিনি বলেন ,আমরা লক্ষ করেছি,নির্ধারিত আইনের বাইরেও সাংবাদিকদের হয়রানি করার জন্য চুরি, ডাকাতি, হত্যা ধর্ষণের মতো মিথ্যা মামলায়ও জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আর এই সব মামলা করার অভিযোগ আছে। তারপরও সাংবাদিক ও সংবাদ মাধ্যমকে শাস্তি দেওয়ার জন্য ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে প্রেস কাউন্সিল আইন সংশোধন করা হচ্ছে। বিবেচনায় আছে ডেটা সুরক্ষা ও ডিজিটাল, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণ আইনও। এর বিপরীতে সাংবাদিকদের সুরক্ষার জন্য কিছু করা হচ্ছে না। এখন প্রয়োজন সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি অনুসন্ধান প্রতিবেদ উল্লেখ করে বলেন,চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ১০টি। ৫৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। এরমধ্যে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাও আছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২১ জন। আর রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের হাতে ১০ জন। গত বছর ১২ মাসে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মোট ৪৬টি মামলা হয়েছে। হয়রানির শিকার হয়েছেন ১২৬ জন। নিহত হয়েছেন ছয় জন। বর্তমানে সাংবাদিক গোলাম রব্বানি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ও গাজীপুর ৫ সাংবাদিক আটক। একটু পিছনে ফিরলে দেখাযায়,স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত কতজন সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তার কোনো হিসেব নেই৷ বিভিন্ন মেয়াদের বিচ্ছিন্ন কিছু হিসাব পাওয়া যায়৷ ২০০১ সাল থেকে ২০১৬- এই ১৬ বছরে দেশে ২৩ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন৷ বিএনপির ২০০১-২০০৬ শাসনামলে নিহত হন ১৪ জন সাংবাদিক, আর আহত হন ৫৬১ জন৷ আর ২০০৭ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে নয় বছরে খুন হন নয় জন সাংবাদিক৷ আরেক পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৯৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ২৪ বছরে বাংলাদেশে ৩৮ জন সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন৷ নির্যাতন বা হত্যাকাণ্ডের এই খতিয়ান পূর্ণাঙ্গ নয়৷ অনেক ঘটনাই রয়ে গেছে আড়ালে৷ আমি মনে করি যে-ই সুযোগ পাচ্ছে সে-ই সাংবাদিকদের উপর নির্যাতন করছে৷ সেটা যে শুধু সরকারি দলের লোক তা নয়, ব্যবসায়ীরা করছে, অর্থশালীরা করছে৷ আসলে সাংবাদিকদের খবরটি যাদের বিরুদ্ধে যাচ্ছে, তারাই এটা করছে৷লক্ষ করে দেখেছি যাদের বিরুদ্ধে খবর হচ্ছে, তারাই হামলা করছে৷ যারা অন্যায় করে, দখল করে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে, তারাই হামলাকারী৷ আবার নির্দিষ্ট কোনো পেশার সবাই কিন্তু এটা করেন না৷ এই খারাপ মানুষগুলোই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কথা বলেন৷ ঢাকা প্রেস ক্লাব এখন থেকে শক্তভাবে প্রতিবাদ শুরু করছে৷আমরা মনে করি ,সাংবাদিকদের ঐক্যের অভাবের কারণে তারা বেশি নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন৷ রাজনৈতিক বিভাজনই সাংবাদিকদের দুর্বল করেছে৷ ফলে তারা জনমত তৈরি করতে পারছে না৷ অথচ সাংবাদিকদের পক্ষেই জনমত তৈরি করা সবচেয়ে সহজ৷ আর সাংবাদিকরা তো সমাজের বিচ্ছিন্ন কেউ না৷ বিচারহীনতার সংস্কৃতি তো আছেই৷ সেই প্রভাব এখানেও পড়ছে৷ ফলে বিচার না হওয়ায় হামলাকারীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে৷ সন্ত্রাসী হামলায় একের পর এক সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেও সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নীরব ভূমিকা লক্ষ করা যাচ্ছে। সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঘটনায় সন্ত্রাসীদের ঔদ্ধত্য ক্রমশ বেড়েই চলেছে। অবিলম্বে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা ও নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য হবে।একের পর এক কালাকানুন ছাড়া সাংবাদিক হেনস্তা, নিপীড়ন, খুন, গুম ও হুমকির মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরার নামান্তর; একই সঙ্গে স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রধান অন্তরায়। এর আগে বিভিন্ন সময় সাংবাদিক হেনস্তা, নিপীড়ন, খুন ও হুমকির বিচার না হওয়ায় এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। যার উধারন পেশাগত দায়িত্ব পালনের জেরে গোলাম রব্বানি হত্যা। আমার মতে নির্যাতনকারীদের কঠোর শাস্তি হলে বারবার নির্যাতনের ঘটনা ঘটতো না৷ তাই আমাদের এখন প্রযোজন ঐক্যবন্ধ থাকা এবং আন্দোলনের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেষ্ঠ থাকা। আমি ঢাকা প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে গোলাম রব্বানিসহ সব সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে অবিলম্বে ‘নিবর্তনমূলক’ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করার দাবি জানায়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।