ঢাকা জেলার সাভারে ইসলামী ব্যাংকের মার্কেটিং ম্যানেজার মোঃ হাবিবুর রহমান ও সিকিউরিটি ইনচার্জ নাঈম ইসলামের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া পঁচিশ লক্ষ ষাট হাজার টাকার মামলার প্রেক্ষিতে সাভার থানা পুলিশের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২৭ মে ছিনতাই কাজে ব্যবরূত একটি প্রাইভেট কার ও নগদ এগারো লক্ষ টাকাসহ ৩ আসামীকে গ্রেফতার করেছে সাভার থানা পুলিশ। গত ৭ মে সকালে ইসলামী ব্যাংকের মার্কেটিং ম্যানেজার মোঃ হাবিবুর রহমান ও সিকিউরিটি ইনচার্জ নাঈম ইসলাম একটি কালো রং এর ব্যাগে নগদ ২৫ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ এর হেমায়েতপুর শাখায় জমা দেওয়ার জন্য সাভার মডেল থানাধীন উলাইল বাসষ্ট্যন্ডের আল মাদানী রেস্টুরেন্টের সামনে ঢাকা-আরিচা মহাসকের কাটা অংশে রাস্তার উপর বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এসময়ে সাভারের দিক থেকে আসা সাদা রংয়ের একটি প্রাইভেটকার যোগে অজ্ঞাতনামা দুস্কৃতিকারীরা সিকিউরিটি ইনচার্জ নাঈম ইসলামের কাঁধে থাকা নগদ ২৫ লক্ষ ৬০ হাজার টাকাসহ ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে উলাইলস্থ ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মালিক মোঃ ফয়জুল হক এর এজাহারের প্রেক্ষিতে সাভার মডেল থানার মামলা নং ২৯, তারিখ ০৮/০৫/২০২৩, ধারা - ৩৯২ পেনাল কোড রুজু হয়। মামলাটি এস আই মাহমুদুল হাসানের উপর অর্পন করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই সুদীপ কুমার গোপ অন্যান্য অফিসার ও ফোর্সের সহায়তায় ছিনতাই কাজে ব্যবরূত প্রাইভেটকার, নগদ ১১ লক্ষ টাকাসহ তিন ছিনতাইকারীদের দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। গ্রেপ্তাকৃতরা হলেন মাগুরা জেলা সদর থানার রাঘব দাইড় গ্রামের মৃত জয়নুদ্দিনের ছেলে মো. শিমুল (৩৬), বরিশাল জেলার গৌরনদী থানার বাটাজোর গ্রামের মৃত কাদের বেপারীর ছেলে মো: তাওহিদ ইসলাম (৪৫) ও পটুয়াখালী জেলার দশমিনা থানার ঠাকুরহাট বাজার এলাকার কালু হাওলাদারের ছেলে মো. জসিম উদ্দিন (৪৫)। উলাইল ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং থেকে জমা দিতে যাওয়ার সময় ২৫ লাখ ষাট হাজার টাকা ছিনতাই করে শিমুল জমি বায়না করেছেন, তাওহিদ মায়ের চিকিৎসা করিয়েছেন ও জসিম নিজ বাড়ির জমিতে ঘর নির্মাণ করেছেন। রোববার দুপুরে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, গত শনিবার পটুয়াখালী থেকে জসিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য মতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে শিমুল ও তাওহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ১১ লাখ টাকা উদ্ধারসহ ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা টাকা খরচের তথ্য দিয়েছে। এসপি আসাদুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে শিমুলের নামে ঢাকার ডিএমপিসহ বিভিন্ন থানায় মানবপাচার, মাদকদ্রব্যসহ ৯টি মামলা রয়েছে। এছাড়া তাওহিদ ইসলাম নামের ১টি ও জসিমের নামে ৩টি মামলা রয়েছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার বলেন, গত ৭ মে রাত ১০টার দিকে ইসলামী ব্যাংকের মার্কেটিং ম্যানেজার মো: হাবিবুর রহমান ও সিকিউরিটি ইনচার্জ নাঈম ইসলাম একটি কালো ব্যাগে নগদ ২৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে ব্যাংকের হেমায়েতপুর শাখায় জমা দেওয়ার জন্য যাচ্ছিলেন। এসময় পথে আল-মাদানী রেস্টুরেন্টের সামনে সাদা একটি প্রাইভেটকার তাদের আটকায়। এরপর প্রাইভেটকার থেকে দুষ্কৃতকারীরা বেরিয়ে তাদের সব টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ৮ মে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা করেন ভুক্তভোগীরা। এসপি আরও জানান, পরবর্তীতে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুদীপ কুমার গোপের নেতৃত্বে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ২৭ মে পটুয়াখালী থেকে জসিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য মতে নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে শিমুল ও তাওহিদ ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বলেন, ছিনতাইয়ের পর আসামিরা ৩ জন এক হয়ে নিজের মধ্যে টাকা ভাগাভাগি করে শিমুল জমি বায়না করেন। তাওহিদ ইসলাম তার মায়ের চিকিৎসা করায় ও জসিম উদ্দিন ঘর নির্মাণের জন্য টাকা ব্যয় করেন। আসামিরা ছিনতাইকারীচক্রের সদস্য। তাদের নামে বিভিন্ন জেলায় মামলা রয়েছে। আসামিদের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।