ডুমুরিয়ায় প্রভাবশালী প্রতিপক্ষের বাঁধা ও হুমকির মুখে ৬ বিঘা জমির ইরি বোরো ধান আজও কেটে ঘরে তুলতে পারেনি এক অসহায় কৃষক। ঈদের পর থেকে কয়েক দফায় পাকা ধান কর্তনের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হওয়ায় প্রায় তিনশত মন পাকা ধান ক্ষেতে বিনষ্টের পথে। এমন অমানবিক আচরণে হতবাক এলাকার সাধারণ মানুষ। উপজেলার ধামালিয়া ইউনিয়নে টোলনা এলাকার বিলডাকাতিয়া বিলে এ ঘটনা ঘটে। উপায়ন্ত না পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা, উপজেলার টোলনা এলাকার মৃত খোদাবক্স সরদারের ছেলে মোশাররফ সরদার ও রফিকুল ইসলাম সরদার এসএ রেকর্ডীয় মালিকের নিকট থেকে ক্রয়কৃত ৬ বিঘা জমি বিআরএস রেকর্ডীয় মালিক হয়ে কর খাজনা পরিশোধ সহ প্রায় অর্ধশত বছর ধরে ভোগদখলে থেকে ধান ও মাছ চাষ করে আসছে। স¤প্রতি চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে স্থানীয় প্রভাবশালী পীর মুহম্মদের নেতৃত্বে শাহিন জাহান বুলবুল, হাফিজুল ইসলাম, রেজোয়ান হোসেন ও হবি ফকির খোড়া অজুহাত খাড়া করে ওই জমির মালিকানা দাবি করে বিভিন্ন সময়ে জবর দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে আসছে। তারই জের ধরে ঈদের দুদিন পর মোশাররফ ও রফিকুল তাদের জমিতে থাকা রোপিত পাকা ধান কিছু অংশ কাটার পর প্রতিপক্ষের দা লাঠিসোটার মুখে পড়ে কাটতে ব্যর্থ হয়। এভাবে কয়েক দফায় চেষ্টা চালিয়ে কাটতে ব্যর্থ হওয়ায় ক্ষেতে থাকা পাকা ধানগুলো বিনষ্টের পথে। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মহিতুর রহমান রিপন বলেন, যেভাবে কাটা পাকা ধান ক্ষেতে পড়ে নষ্ট হচ্ছে এটা অমানবিক। জরুরী ভিত্তিতে ফসলগুলো সংরক্ষণ করা উচিত। তা নাহলে উৎপাদিত অর্ধেক ফসলও কৃষকের ঘরে উঠবে না। উপায়ন্ত না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হলে বিজ্ঞ আদালত ওসি ডুমুরিয়ার হেফাজতে ধানগুলো রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বলে পরিবারটি জানান। ঘটনা প্রসঙ্গে ওসি সেখ কনি মিয়া বলেন, আদালতের আদেশ হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।