বিএনপির সময়ে দেশে খাদ্য ঘাটতি থাকলেও আ.লীগ আমলে তা নেই বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । তিনি বলেন বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। জনসভায় বিএনপি আমলে দেশে খাদ্য ঘাটতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, বর্তমানে দেশে ২১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুত আছে। শনিবার বিকালে ময়মনসিংহ জেলা সার্কিট হাউজ মাঠে আওয়ামী লীগের ময়মনসিংহের বিভাগীয় জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াতের অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ট ছিল। বোমা হামলা, দুর্নীতি, লুটপাট জঙ্গিবাদ ছিল তাদের শাসনামলে। মানুষকে তারা কিছুই দিতে পারেনি। বিএনপির সময় দেশ ছিল খাদ্য ঘাটতির দেশ। কিন্তু আওয়ামী লীগ আমলে কোনো খাদ্য ঘাটতি নেই। এখন দেশে ২১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুত আছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ও করে দেওয়া হবে।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া নাকি মেট্রিক পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি শুধু অঙ্ক আর উর্দুতে পাশ করেছেন। উর্দু পাকিস্তানের ভাষা- এটা তার খুব প্রিয় ভাষা। আর অঙ্কতো টাকা গোণা লাগে- ওই দুইটাতেই পাশ করেছেন আর কোনোটাতে পাশ করতে পারেনি। জিয়াউর রহমান ছিল মেট্রিক পাশ। তাদের ছেলে একবার এই স্কুল ওই স্কুল শেষ কী পাশ করেছে কেউ জানে না।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি মানুষের ঘর দখল করেছে। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে গৃহহীন ও রাস্তায় মানুষকে ঘর করে দিচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, বাংলাদেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না।শেখ হাসিনা আরও বলেন, আমরা আজকে প্রতি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি। যেখানে বিদ্যুৎ নাই আমরা সোলার প্যানেল করে দিচ্ছি। অনেক দুর্গম এলাকায়ও সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে।এর আগে জনসভায় যোগ দিয়ে একযোগে ১০৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে সমাবেশস্থল সার্কিট হাউজ মাঠ থেকে একযোগে ১০৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে প্রায় ৫৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা ৭৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং প্রায় ২ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০টি উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণকাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন সরকারপ্রধান।পরে দুপুর ২টা ৫৮ মিনিটে জনসভা মঞ্চে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী। বিকাল ৩টায় প্রধান অতিথির আসন গ্রহণ করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীকে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ইকরামুল হক টিটু, গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেন। একই সঙ্গে নৌকা প্রতীকের রেপ্লিকা দেওয়া হয়। পরে জাতীয় সংগীত ও কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগীয় জনসভার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। উলেখ্য, সার্কিট হাউস মাঠের জনসভায় প্রায় ১২ লাখ জনসমাগম হয়।পুরো এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ময়মনসিংহ বিভাগের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শনিবার ১০৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন।

