ঝালকাঠির রাজাপুরে বিশ্ব চিন্তা দিবস-২০২৩ পালিত।আজ সকাল ১১টায় রাজাপুর সরকারী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের হলরুমে স্থানীয় কমিশনার,রাজাপুর গার্ল গাইডস এ্যাসোসিয়েশন ইনুন নাহার বেগম এর সভাপতিত্বে কেক কাটা ও আলোচনা সভা অনুিষ্ঠত হয়। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রাজাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল।বিশেষ অতিথি হিসাবে উপসিাথত ছিলেন রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম,রাজাপুর সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী শিক্ষক আমির খশরু বাবুল, রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাবু নিত্যানন্দন সাহা,সাবেক অধ্যক্ষ শাহজাহান মোল্লা,ইউসুফ আলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক, প্রধান শিক্ষক মো.জামাল হোসেন, মো. জাকির হোসেন, মো. এাইনুল ইসলাম, মো.ফিরোজ হোসেন প্রমুখ। আয়োজনে উপজেলা র্গাল গাইডস রাজাপুর উপজেলা শাখা । এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে শতাধিক র্গাল গাইডস বালিকাদের প্রতিদিন একটি ভাল কাজ করার শপথ করান।

রাজাপুর(ঝালকাঠি) প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠির রাজাপুরে বিশখালী নদীর পাড়ের মাটি কেটে নিচ্ছে উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামানের ইটভাটায়। প্রশাসনের তোয়াক্কা না করে দিনে ও রাতে সমানে চলছে মাটি কাটার কাজ। এতে বেরিবাধ ঝুকিপূর্ণ হলেও উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা কেউ। স্থানীয়রা বলেন যে, উপজেলা চেয়ারম্যান এসবের দেখভাল করবেন তিনিই যদি আইন অমান্য করে নিজের ব্যক্তি স¦ার্থে নদীর চরের মাটি কেটে ইটের ভাটায় ব্যাবহার করেন সেখানে আমাদের চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া কিই বা করার আছে।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার চলিশকাহনিয়া লঞ্চঘাট এলাকায় দক্ষিণ পাশে বিশখালী নদীর তীরে ট্রলার থেকে মাটি উঠিয়ে স্তুপ করে রাখা হচ্ছে। এর থেকে কিছু দূরে নদীর পড়ে দুইটি ট্রলার বাধা। একটি ট্রলারে নদীর পাড় থেকে মাটি কেটে ভরাট করা হয়েছে। অন্যটি প্রতিবেদকের উপস্থিতি টের পেয়ে ইঞ্জিন চালু দিয়ে দ্রæত পালিয়ে যায়।বেরি বাধের বাইরে চরের প্রায় আধা কিলোমিটার জায়গার মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বড় বড় দুইটি পুকুর। একটি কয়েকদিন আগে কেটে মাটি ইট ভাটায় নেওয়া হয়েছে, অন্যটি পুরানো। পুকুর দুটি ছাড়া বাকি পুরো জায়গা থেকে দুই থেকে তিন ফুট করে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের দেখে উপস্থিত উত্তমপুর ব্রিক্সের কয়েকজন কর্মচারী ছবি না তুলে পাশেই তাদের কার্যালয়ে গিয়ে মালিক পক্ষের লোকজনের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। কিন্তু প্রতিবেদক সেটি না করে ছবি তুলতে থাকলে কর্মচারীরা অফিসে ফোন করে মালিকদের বিষয়টি জানায়। এরপর মালিক পক্ষের দুইজন লোক ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে তারাও ছবি না তুলে প্রতিবেদককে অফিসে গিয়ে বিষয়টি আবারও সমাধানের পরামর্শ দেন। কাজ শেষ করে তাদের অফিস কক্ষে যাওয়া হবে জানালে ঘটনাস্থলে আসা উত্তমপুর ব্রিক্সের পার্টনার আহসান কবির হুমায়ুন নদী চরের মাটি কেটে ইট ভাটায় নেওয়ার কথা অকপটে স্বীকার করে বলেন,রাজাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এই ব্রিক্সের দশজন মালিকের একজন। তিনি আমার চাচতো ভাই। তিনি আরও বলেন,চার বছর আগে থেকেই তারা এই চরের মাটি কেটে ইট ভাটায় ব্যবহার করছেন। স্থানীয় জব্বার, কাঞ্চন শরীফ, বেলাল হোসেন, বাদশা মিয়া জানান, বড়ইয়া ইউনিয়নে এই বিশখালী নদীর তীরে রাস্তার উত্তর ও দক্ষিণ পাশে দুইটি ইটভাটা রয়েছে। দুইটিতেই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরউজ্জামানের শেয়ার রয়েছে। চেয়ারম্যানের প্রভাবে কেউ মুখ খুলতে সাহস করেনা। চেয়ারম্যান নিজের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দিনে ও রাতে সমানে ইটভাটার নিজস্ব শ্রমিক দিয়ে বিশখালী নদীর উত্তর ও দক্ষিণ পাশের চর থেকে মাটি কেটে নিচ্ছে। এমনিতেই আমাদের এই এলাকা নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকা, তার পরেও মাটি কাটা থামচ্ছেননা চেয়ারম্যান। নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থে নদী চরের মাটি কেটে বেরি বাধ হুমকিতে ফেলছেন তিনি। এছাড়া চরের মাটি কাটার ফলে হুমকিতে পড়ছে এলাকার ফসলী জমি।
বরইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহাবুদ্দিন সুরু মিয়ার কাছে নদী চরের মাটি কেটে উপজেলা চেয়ারম্যানের ইটভাটায় নেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার হায়ার অথরিটি উপজেলা চেয়ারম্যান এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারবো না।এ ব্যাপারে রাজাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো.মনিরুজ্জামান বলেন, চরের মাটি ভাটায় ব্যবহারের বিষয়টি আমার জানা নেই।মাটি নেওয়া হয় তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে,অনেকটা ঠিকাদারের মতো। তারা যদি চরের মাটি এনে ইট ভাটায় বিক্রি করে তাহলে এটা অবশ্যই বন্ধ করে দিব।ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক ফারাহ গুল নিঝুম বলেন, নদী চরের মাটি কেটে ইটভাটায় নেওয়ার বিষয়টি এর আগে আমার নজরে কেউ আনেনি। যেখানে অপরাধ হবে সেখানেই আমরা ব্যবস্থা নেব। বিষয়টি আমি গুরুত্ব সহকারে দেখছি।