তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের নেতৃবৃন্দ। সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় কাহরামনমারাস শহরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর এসব তথ্য দেয় নেতৃবৃন্দ। একাধিক সংবাদ মাধ্যমের সোমবার সকালে সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ৩৪ হাজার। কিন্ত প্রকৃতপক্ষে মৃতের সংখ্যা কত তা বলা কারো পক্ষে সম্ভাব নয়। সবশেষ দুই দেশে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ১৮১ জনে। এদিকে সিরিয়ায় প্রচণ্ড ঠাণ্ডার পাশাপাশি বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে।খবর রয়টার্সের। রোববার তুরস্কের জরুরি সমন্বয় কেন্দ্র (এসকেওএম) জানিয়েছে, শুধু তুরস্কে মৃত্যু সংখ্যা ২৯ হাজার ৬০৫ জনে দাঁড়িয়েছে সিরিয়ায় এখন পর্যন্ত মারা গেছেন তিন হাজার ৫৭৬ জন। এর মধ্যে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকায় মৃত্যু সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তুরস্কের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে আহতের সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার ছাড়িয়েছে। খবর আলজাজিরার। দেশ দুটিতে এখনো বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন। তাদের উদ্ধারে প্রাণপণ প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। তবে দুর্ঘটনার একশ ঘণ্টা পার হওয়ার এখন কারও বেঁচে থাকার আশা ক্ষীণ হয়ে এসেছে। ইতোমধ্যে তুরস্ককে সহায়তার জন্য এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন দেশ। তবে উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র ঠাণ্ডা, বৃষ্টি, যোগাযোগে বিপর্যয়সহ নানা সমস্যা। কখনো কখনো তাপমাত্রা নেমে আসছে হিমাঙ্কের নিচে। তীব্র শীত থেকে বাঁচতে আগুন পোহাচ্ছেন গৃহহীন মানুষেরা। আশ্রয়, খাবার, পানি, জ্বালানি ও বিদ্যুতের অভাবে চরম দুর্দশায় রয়েছেন উপদ্রুত এলাকাগুলোর বেঁচে থাকা মানুষেরা। ফলে তাদের মধ্য থেকেও অনেকের মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
এদিকে হিমশীতল আবহাওয়া উপেক্ষা করে হাজার হাজার উদ্ধারকর্মী এখনও তাদের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। বৈরি আবহাওয়ার কারণে গৃহহারা লাখ লাখ মানুষকে চরম দুর্দশার মধ্যে সময় কাটাতে হচ্ছে। তাদের জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, গেল সপ্তাহের মারাত্মক এই ভূমিকম্পে ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কটি হাসপাতালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৬ ফেব্রুয়ারি সকালে তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল তুরস্ক এবং সিরিয়া। তার পর অন্তত ১০০ বার জোরালো আফটার শকে কাঁপে দুই দেশের মাটি। এ ভূমিকম্পের ফলে দেশের নানা প্রান্তে ভেঙে পড়েছে অন্তত ৬ হাজার বাড়ি। তার ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেক দেহ চাপা পড়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

