কলাপাড়ার পায়রা বন্দর সংলগ্ন টিয়াখালী ইউনিয়নে লবন পানি উঠিয়ে শতশত একর কৃষি জমির ফষল নষ্ট বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে কৃষক ও জন প্রতিনিধিরা। সোমবার সকাল ১১টায় কলাপাড়া উপজেলা পরিষদ কম্পাউন্ডে শতাধিক কৃষক তাদের মাঠের উৎপাদিত তরমুজসহ রবি শস্য রক্ষার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহায়তা চেয়ে এ মানববন্ধন করে।কৃষকরা অভিযোগ করেন, কোটি কোটি টাকার ফষল আর কয়েকদিন পর কৃষকরা বিক্রি করবে। কিন্তু আট লেন সড়ক নির্মানে বালু ভরাট কাজে নিয়োজিত স্পেকট্রা ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানী লবন পানি উঠিয়ে কৃষকদের সর্বনাশ করে দিচ্ছে। সংরক্ষিত মিঠা পানির খালে লবন পানি প্রবেশ করানোর কারনে কৃষকরা সেচ দিতে পারছে না। একারনে তরমুজ, ভূট্রা, মরিচসহ বিভিন্ন রবি শস্য মাঠেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।তাই কৃষকরা উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রেখে বিকল্প উপায়ে বালু উত্তোলনের লবন পানি নিস্কাশনের দাবি জানান।টিয়াখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আঃ খালেক হাওলাদারের সভাপতিত্বে মানববন্ধন পরবর্তী সভায় বক্তব্য রাখেন টিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান সুজন মোল্লা, ইউপি সদস্য মাসুম বিল্লাহ, কৃষক সালাম হাওলাদার, নসু সিকদার, দুধাল মিরা, আল আমিন আকন প্রমুখ।এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শংকর চন্দ্র বৈদ্য বলেন, কৃষকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্পেকট্রা ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানীর প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলেছেন। লবন পানিতে কৃষকদের ফষলের যাতে কোন সমস্যা না হয় সে বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।
এস এম আলমগীর হোসেন, কলাপাড়া: কলাপাড়ায় মহিপুর কো-অপ্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক এবং ছাত্রকে বিদ্যালয়ে পাঞ্জাবী এবং টুপি পড়ে আসতে নিষেধ করায় শতশত শিক্ষার্থীরা সোমবার দুপুর ১২ টার দিকে সভাপতির পদত্যাগ দাবী করে স্কুল ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। পরে সভাপতি পদত্যাগের ঘোষনা দিতে বাধ্য হয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় শিক্ষার্থী অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে সভপতির পদত্যাগের ঘোষনায় পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার মহিপুর কো-অপ্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানজিং কমিটির সভাপতি মো.জাহাঙ্গীর আলম ওরফে জাহাঙ্গীর ম্যানেজার একই স্কুলের শিক্ষক মো.মজিবর রহমান এবং দশম শেনীর ছাত্র মো.পাভেল কে স্কুলে পাঞ্জাবী এবং টুপির পরিবর্তে স্কুৃল ড্রেস পড়ে আসতে বলেন। বিষয়টি শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বলে দ্রুত অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবারের পর সোমবার স্কুল খুললে শতশত শিক্ষার্থীরা টুপি পরিধান করে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো.জাহাঙ্গীর আলমকে নাস্তিক আখ্যা দিয়ে তার পদত্যাগ দাবী করে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে। বিষয়টি অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে সভাপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয় । পরে সভাপতি পদত্যাগের ঘোষনা দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবদুস সালাম মিয়াকে তার মুঠো ফোনে বার বার কল করলেও তিনি তা রিসিফ করেননি। তবে স্কুলের শিক্ষক মো.নাসির উদ্দিন জানান, সভাপতির উক্তিটি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে বলে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। পরে সভাপতি পদত্যাগ করলে শান্ত হয় শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক মজিবর রহমান জানান, পাঞ্জাবী ,টুপি আমার সব সময়ের পোশাক। কিছু শিক্ষার্থীরাও তা পড়ে আসে । এ নিয়ে সভাপতির মন্তব্য মেনে নেয়নি শিক্ষার্থীরা । পরে যদিও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। স্কুল ম্যানজিং কমিটির সভাপতি মো.জাহাঙ্গীর আলম জানান, তাদের স্কুল ইউনিফর্ম পড়ে আসার কথা বলা হয়েছে , এখানে কারো টুপি নিয়ে কথা বলা হয়নি। বিষয়টিকে একটি মহল ভিন্নখাতে নেয়ার জন্য কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এমন ঘটনার উস্কানী দেয়া হয়েছে ষ। পরে স্বোচ্ছায় তিনি পদত্যাগের ঘোষনা দিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।