ঢাকারবিবার , ২২ জানুয়ারি ২০২৩
  1. অনুসন্ধান প্রতিবেদন
  2. আইন ও অপরাধ
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম ও জীবন
  5. কৃষি ও অর্থনীতি
  6. খোঁজ-খবর
  7. জাতীয়
  8. জেলার খবর
  9. তথ্য প্রযুক্তি
  10. দুর্নীতি
  11. নগর ও মহানগর
  12. নির্বাচনীয় খবর
  13. পার্শ্ববর্তী দেশ
  14. ফিচার
  15. ফেসবুক থেকে
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমা

আওরঙ্গজেব কামাল :
জানুয়ারি ২২, ২০২৩ ১:২৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ৫৬তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। আখেরি মোনাজাতের সময় ‘আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন’ ধ্বনিতে গাজীপুরের তুরাগতীর মুখরিত হয়ে ওঠে। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় লাখ লাখ মুসল্লি মহান আল্লাহের দরবারে আকুতি জানান। বাংলাদেশ ও বিশ্ব শান্তির জন্য দোয়া করেন। রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আখেরি মোনাজাত শুরু হয়ে ১২টা ৪৪ মিনিটে শেষ হয়। প্রায় ২৫ মিনিট সময় নিয়ে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন ইজতেমায় আদি তাবলীগের শীর্ষ মুরব্বি দিল্লির মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ বিন স্বাদ কান্ধলভী।মোনাজাতের শুরুতে আল্লাহ তায়ালার দরবারে মানুষের হেদায়েত কামনা করা হয়। দুনিয়ার মানুষের সুখ, শান্তি, উন্নতি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ প্রার্থনা করা হয়। পরকালে মুক্তি পেতে এবং দুনিয়াতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় লাখ লাখ মুসল্লি চোখের পানি আর হৃদয়ের আকুতিতে মেলে ধরেন তাদের সব আবদার।মাওলানা ইউসুফ কান্ধলভীর সঙ্গে দুই হাত তুলে লাখো মুসল্লির ‘আমিন’, ‘আমিন’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে টঙ্গী এলাকা। ইজতেমার মাঠ ও আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে লাগানো মাইকে সেই ধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে তুরাগ নদের চারপাশের এলাকায়। টঙ্গীর আকাশে-বাতাসে ধ্বনিত হতে থাকে লাখো কণ্ঠের কান্নার ধ্বনি।আল্লাহর দরবার থেকে কেউ খালি হাতে ফেরে না’ – তাই চাওয়াগুলো পূর্ণ করতে সব আকুতি দিয়ে দুহাত মেলে ধরেন নানা বয়সী ও পেশার মানুষ। এমনকি নারীরাও ভিড় ঠেলে মোনাজাতে অংশ নিয়ে আল্লাহর দরবারে মনের আকুতি জানিয়ে কেঁদে বুক ভাসান। আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে মুসল্লিতে ঠাসা ছিল মাঠ। কোথাও তিল ধারণের মতো জায়গা ছিল না। ফলে মাঠের বাইরের সড়কে যে যেখানে দাঁড়িয়ে বা বসেছিলেন সেখান থেকে হাত তোলেন আল্লাহর দরবারে। ১৬০ একরের ময়দান ছাপিয়ে ‘আমিন’ ‘আমিন’ ধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে কামারপাড়া, স্টেশনরোড, টঙ্গী ব্রিজ, বেড়ি বাঁধসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্যদিকে যারা সরাসরি অংশ নিতে পারেননি তারা মুঠোফোন ও স্যাটেলাইট টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের সুবাদে একসঙ্গে হাত তোলেন আল্লাহর দরবারে। এর আগে তিনিই হেদায়েতী বয়ান করেন। তিনি বয়ানে তাবলীগের নানা বিধ বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করেন। বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের মিডিয়া সমন্বয়কারী মো. সায়েম জানান, রোববার সকালে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের মুরুব্বি ও আয়োজক কমিটির ফয়সালা মোতাবেক দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে আখেরি মোনাজাত শুরু হয়। পরে দুপুর ১২টা ৪৪ মিনিটে শেষ হয়। মোনাজাতে বিশ্ব শান্তি, সারা দুনিয়ার মুসলিমদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, পরিপূর্ণ হেদায়েত ও আল্লাহর সব হুকুম মানা আর নবী করীম (সা.)-এর দেখানো পথে জীবন পরিচালনা করার তৌফিকের জন্য আল্লাহর দরবারে আকুতি জানানো হয়। এরআগে বাদ ফজর বয়ান করেন ভারতের মাওলানা মুরসালিন। সকাল ৯টায় মাওলানা মোশারফ হোসেন তালিম করেন। সাড়ে ৯টায় ইজতেমার শীর্ষ মুরুব্বি দিল্লির মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভীর বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী হেদায়েতি বয়ান শুরু করেন। তাদের বয়ান বাংলায় তরজমা করবেন মাওলানা জিয়া বিন কাসিম। আখেরি মোনাজাতে ঈমানি জিন্দেগী, ঈমানি মৃত্যু, উত্তম আখলাক ও ঈমানি হাকিকত বুঝার তৌফিক, অন্তরে আল্লাহর ভয় ও মহব্বত সৃষ্টি, সারা জীবনের গোনাহ মুক্তি, উত্তম রিজিক, দুনিয়া ও আখিরাতের কামিয়াবি, পৃথিবীর মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ, ঈমানি ভ্রাতৃত্ব মজবুত করা ও সারা বিশ্বের সকল মানুষের জন্য আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ চাওয়া হয়। মোনাজাতে মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী প্রথমে সুরা আল ইমরান থেকে তেলাওয়াত করেন। দয়াময় আল্লাহর নামে হামদ পাঠ করেন। মোনাজাতে তিনি সারা দুনিয়ার মুসলমানদের জান-মাল আর সময়কে আল্লাহর জন্য কবুল, জাহান্নামের ভয়ানক আগুন আর পুলসিরাতের কঠিন পথ মুক্তি এবং মুসলিমদের হকের ওপর অটুট রাখা এবং বাতিল শক্তিকে পরাজিত করার আর্জি জানান। কবরবাসী সকল মুমিন নারী-পুরুষকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান, দ্বীনের জন্য যারা মেহনত করছেন তাদের জান-মাল আর সময় কবুল করে তাদের সম্মান বৃদ্ধি, সাহাবিদের মতো ঈমান, ঈমানি শক্তি, ধৈর্য, প্রজ্ঞা আর সম্প্রতির দোয়া করেন। বিশ্ব মুসলমানদের জানমালের হেফাজত, মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ, ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র থেকে ঈমানদার মুসলমানদের রক্ষা, বাতিল শক্তির সমস্ত চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রকে উৎখাত করার মালিক আল্লাহ। হকের রাজ প্রতিষ্ঠা ও বাতিল শক্তিকে চিরতরে নস্যাৎ করে দিতে আল্লাহর কাছে বিশেষ সাহায্য কামনা করা হয়। মোনাজাতে বিশ্ব শান্তি ও কল্যাণের পাশাপাশি আত্মশুদ্ধির জন্য আল্লাহর সাহায্য কামনা করা হয়। এদিকে বিশ্ব ইজতেমার উত্তর পার্শ্বে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কন্ট্রোলরুমে বসে আখেরী মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী এড. আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমপি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যবৃন্দ। অপরদিকে বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে সকাল থেকেই আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষজন ইজতেমায় মাঠে আসেন। লাখো মানুষে মুখরিত তুরাগতীরে অনেকে পৌঁছাতে না পেরে রাস্তাতেই মোনাজাতে অংশ নেন। অনেকেই আবার খোলা মাঠে, যানবাহনে, বহুতল ভবন ও বাসার ছাদে থেকে আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন। এরপর বেলা সোয়া ১২টার পর মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ করেন ইজতেমার এবারের পর্ব। ঐক্যের সুশীতল ছায়ায় সামনের বছর আবারও জমবে মুসলিম উম্মাহর এ মিলনমেলার এমন বাসনা রেখে শেষ হলো এ বছরের বিশ্ব ইজতেমা। প্রতিবছর বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেয় কয়েক লাখ মানুষ। তাদের মধ্যে তাবলীগ জামাতের বিদেশি অনুসারী থাকেন ৩০ থেকে ৪০ হাজার। তাবলিগ জামাতের নিয়মিত অনুসারী নন, এমন অনেকও বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে শামিল থাকতে চান।গত বৃহস্পতিবার বাদ আসর পাকিস্তানের ভাই হারুন কুরেশীর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এর আগে এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি গাজীপুরের টঙ্গীতে তুরাগ নদের তীরে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। এরপর ১৫ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় প্রথম পর্ব।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।