ঢাকা প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র দুদিন আগে দেশ ও জাতির স্বার্থে শাহাদাত বরণকারী মহান বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বুধবার সকালে ঢাকা প্রেসক্লাবের সভাপতি আওরঙ্গজেব কামালের নেতৃত্বে বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতিস্তম্ভ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নেতৃবৃন্দ। এ সময় সভাপতি বলেন সাংবাদিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তিনি সাংবাদিকদের উন্নয়নে সবসময় কাজ করে গেছেন। সাংবাদিকতা উন্নয়নের জন্য প্রেস কাউন্সিল গঠন করেছিলেন। কিন্ত সেই সাংবাদিকদের বর্তমান অবস্থা একেবারে নাজেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। কোন ক্রমেই প্রকৃত সাংবাদিকদের জীবন যাত্রার মানউন্নয়ন হচ্ছেনা। অবশ্য সাংবাদিকদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য সরকারকে কাজ করতে হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এ মান্নান। তিনি বলেন ঢাকা প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের উন্নয়নে কাজ করে চলেছে। আমরা সকলরে সহযোগীতা চাই। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: ফরিদুল ইসলাম জুয়েল, এফবি ইউজের সহ সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ চিশতী, রায়হান কাামল রন্টি, মো: শাহাদাত মোল্লা, মোঃ ফাইজুল পাঠান, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের ফজলুল হক বাবু, দৈনিক মুক্ত খবরের আনিস মাহমুদ লিমন, দৈনিক আশ্রয় প্রতিদিনের এমডি সুমন খান, দৈনিক জনতা বাংলার সম্পাদক মনির হোসাইন, দৈনিক নতুন সময়ের বিশেষ প্রতিনিধি মোহাম্মদ মারুফ হায়দার, দৈনিক খবরের আলোর সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার কাজী শরিফ নেওয়াস লায়ন, দৈনিক বিজনেস ফাইলের বিশেষ প্রতিনিধি মোশারেফ হোসেন মনা, দৈনিক মুক্ত খবরের জাহাঙ্গীর আলম, দৈনিক সারা বাংলার কামরুল ইসলাম প্রমূখ। উল্লেখ,৫০ বছর আগে এই দিনে, দেশের স্বাধীনতার চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে, পাকিস্থাÍনি হানাদার বাহিনী তাদের স্থানীয় সহযোগী আলবদর, রাজাকার এবং আল-শামস এর সাথে যোগসাজশে দেশের সবচেয়ে বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল। সদ্য উদীয়মান বাংলাদেশকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে পঙ্গু করে দেয়। ১৯৭১ সালের ১০ থেকে ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে অধ্যাপক, সাংবাদিক, লেখক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও শিল্পীসহ মাটির দুই শতাধিক কৃতী সন্তানকে নিজ নিজ বাসভবন থেকে অপহরণের পর জিম্মি করে তাদের চোখ বেঁধে টর্চার সেলে নিয়ে যাওয়া হয় মিরপুর, মোহাম্মদপুর, নাখালপাড়া, রাজারবাগসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে। পরবর্তীকালে, রায়েরবাজার এবং মিরপুরের বিভিন্ন স্থানে তাদের গণহত্যা করা হয়। ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে যারা খুনিদের রোষানলে পড়ে তাদের মধ্যে ছিলেন ড. আলীম চৌধুরী, ড. ফজলে রাব্বি, সাংবাদিক শহীদুল্লাহ কায়সার, সিরাজুদ্দিন হোসেন, নিজামউদ্দিন আহমেদ, এসএ মান্নান এবং সেলিনা পারভীন এবং সাহিত্যিক মুনীর চৌধুরী। এর পর থেকে দিনটি শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।