সাভারে আওয়ামী লীগের জনসভা জনসুমুদ্রে পরিনত হয়েছে বললেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শনিবার বিকালে সাভারে জনসভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য কালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি এ সময় অরো বলেন, গোলাপবাগ মাঠে সমাবেশ করতে রাজি হওয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপির আন্দোলনে অর্ধেক পরাজয় হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।বাংলাদেশের অপশক্তির বিরুদ্ধে খেলা হবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, অনেক ছাড় দিয়েছি আর ছাড় দেব না। যারা এই দেশের গণতন্ত্র গিলে খেয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধকে ধ্বংস করেছে, জয়বাংলা স্লোগানকে নিষিদ্ধ করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে খেলা হবে। বিদেশি কূটনীতিকদের অযাচিত মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিদেশি বন্ধুদের বলি, আমরা তো আপনাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করি না। আমাদের সব বিষয়ে কেন আপনারা হস্তক্ষেপ করেন? বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে আপনারা হস্তক্ষেপ বন্ধ করুন। । সেতুমন্ত্রী আরো
বলেন,বিএনপির সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকায় গণসমাবেশ নিয়ে তাদের আস্ফালন উবে গেছে, এটা দেশবাসীর কাছে আজ পরিষ্কার। খালেদা জিয়া এতিমের টাকা আত্মসাৎ করায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদারতায় আজ তিনি বাসায় আছেন, নিরাপদে আছেন। বিএনপি কি আন্দোলন করে তাকে মুক্ত করেছে? ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ১৫ আগস্টের হত্যার মাস্টারমাইন্ড জিয়াউর রহমান। তিনি খুনিদের পুরস্কৃত করেছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িতদের পুনর্বাসিত করেছেন। জেল হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। জনসভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ব্যঙ্গ করে বলেন, ১০ ডিসেম্বর সরকারকে ধাক্কা দিতে গিয়ে, বিএনপি নিজেরাই পিছু হটে গোলাপবাগের মাঠে ঘোড়ার ডিম পেড়েছে। তাদের দাবি, বিদেশি প্রভুরা বিএনপিকে যেমন ক্ষমতায় আনতে পারবে না; তেমনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারও আর ফিরে আসবে না। নির্বাচনে না এলে, দলটির অস্তিত্ব নষ্ট হবে বলেও দাবি করেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
সমবেশে বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম । তিনি বলেন, নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়ার কোনো উপায় নেই। নির্বাচনে না আসলে অস্তিত্ব হারাবে বিএনপি। সমবেশে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, শুনলাম বিএনপির ৭ এমপি পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। আপনাদের পদত্যাগের গণতান্ত্রিক অধিকার আছে। কিন্তু, পদত্যাগ করতে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়, মাঠে নয়। সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা দৌলার সভাপতিত্বে সমবেশে বক্তব্য রাখেন, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য আওয়ামী লীগ পাড়া-মহল্লায়, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সতর্ক পাহারায় রয়েছে। সরকারি দল হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সরকারকে সহযোগিতা করা। যাতে দেশে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন 
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, তিনি বলেন বিএনপি জামায়াতের ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচারে ব্যস্ত সময় পার করছে । এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান এমপি বলেন, বাংলার জনগণ শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল। এই সমাবেশ তার প্রমান । সমবেশে বক্তব্য রাখেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদ এমপি। তিনি বলেন, ‘সাভারে বিজয়ের মাসে আমরা জনসভার আয়োজন করেছি। আমাদের জনসভা দেখে মানুষ বুঝবে এখনো আওয়ামীলীগের সাথে জনগণ রয়েছে।এ সময় ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ বলেন, ‘আমাদের জনসভা সফল ও সার্থক হয়েছে। শান্তিপূর্ণ এই জনসভা মহাসমাবেশ যেন জনসুমুদ্রে পরিনত হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা দৌলা,উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজিব.সাভার পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র হাজী আব্দুল গনি, আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক হাসানসহ স্থানীয় নেতারা। এর আগে দুপুরে সমাবেশস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কেরানীগজ্ঞ,সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে সমাবেশ স্থলে জামায়েত হয়। তাদের
অনেকেই রঙিন পোশাকে সজ্জিত হয়ে আসছেন। অনেকের হাতে নানা রঙ্গের ব্যবনার ফেসটুন ছিলো। ১০ ডিসেম্বর বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে সমবেশ করেছে আওয়ামী লীগ। দুপুর ১১টা থেকে সমাবেশে যোগ দিতে হাহার হাজার নেতাকর্মী বিভিন্ন স্থান থেকে দল ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে রেডিও কলোনী স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে মিছিলসহ কারে জড়ো হয়। শনিবার দুপুর দুইটায় কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে জনসভা শুরু হয়।এর পর কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীর বক্তব্য দিতে থাকেন। সমবেশে আশুলিয়ার ইয়ারপুর থেকে যোগ দিতে আসে সাভার উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংকৃতিক বিষয়ক সম্পাদক হাজী জমাত আলী দেওয়ান। তিনি এ সময় বলেন,বিএনপি জামায়াতের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে নেতা কর্মীদের সাথে নিয়ে সমাবেশে যোগ দিতে এসেছি। আমার এলাকা থেকেই প্রায় হাজারখানেক নেতাকর্মী এসেছি। এই সমবেশ দেখে বিএনপি জামাত ভয়পাবে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ধারাকে বাঁধাগ্রস্থ্য করতে বিএনপি একের পর এক যড়যন্ত্র করছে আমরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে তা প্রতিহত করবে।