ঢাকারবিবার , ৩০ অক্টোবর ২০২২
  1. অনুসন্ধান প্রতিবেদন
  2. আইন ও অপরাধ
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম ও জীবন
  5. কৃষি ও অর্থনীতি
  6. খোঁজ-খবর
  7. জাতীয়
  8. জেলার খবর
  9. তথ্য প্রযুক্তি
  10. দুর্নীতি
  11. নগর ও মহানগর
  12. নির্বাচনীয় খবর
  13. পার্শ্ববর্তী দেশ
  14. ফিচার
  15. ফেসবুক থেকে
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গণমাধ্যমর স্বাধীনতা ও সাংবাদিকতা হুমকির মুখে

আওরঙ্গজেব কামাল
অক্টোবর ৩০, ২০২২ ৩:৩৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকতা নিয়ে সাম্পতিক সময়ে নানা মহলে আলোচনা হচ্ছে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকতা হুমকির মুখে পড়েছে। এসব বিষয়ে দেশ ও দেশের বাইরে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও সমলোচনা অব্যহত রয়েছে।এছাড়া  আওয়ামীলীগ সরকার সব সময় সাংবাদিকদের উপর যেন আড় নজরে দেখছে। প্রতিনিয়ত সাংবাদিক গ্রেফতার করছে। এবং নানা বিধ মামলার শিকার হচ্ছে গণমাধ্যম কর্মীরা।  বর্তমানে অনেক সংবাদ পত্র অর্থ অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অধিকাংশ পত্রিকাগুলি বিজ্ঞাপন নির্ভর হওয়ায় এমটি ঘটেছে বলে মনে করছেন অনেকে। এছাড়া প্রকৃত সাংবাদিকরা এ পেশা ছেড়ে অনন্য পেশায় ঢুকছে আবার নিজেকে বাঁচাতে অপরাধীরা এই পেশায় ঢুকে পেশাকে বিতর্কের মধ্যে ফেলছে। একদিকে সাংবাদিক সংগঠনগুলি নিজেদের বড়ত্ব প্রমান করতে মরিয়া অপরদিকে সাংবাদিকরা নিজেদের মধ্যে আতœদন্দের কারনে নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি করছে। সব দিক বিবেচনায় গণমাধ্যম বা সাংবাদিকতা হুমকির মধ্যে পড়েছে। আমরা জানি গণমাধ্যম বা সংবাদমাধ্যম একটি রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বা ভিত্তি বা অনেকে বলেন রাষ্ট্রের আয়না। আর সকল সাংবাদিক বা সাংবাদ কর্মী হলো এই ভিত্তি বা স্তম্ভের এক একটি ইট বা ক্ষুদ্র একক যাদের মাধ্যমে এই স্তম্ভ দাড়িয়ে আছে বা রাষ্ট্র তার চরিত্র ভালো ভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারে। আমি পরিক্ষা নিরিক্ষা করে দেখেছি একটি রাষ্ট্রের অন্যান্য তিনটি ভিত্তি বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে সামঞ্জ্যতা বা যোগসূত্র বিধান করে সংবাদমাধ্যম আজ এক নম্বর ভূমিকা পালন করছে । একটি রাষ্ট্র ও সমাজে জনগন ও সরকারের কি দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং রাষ্ট্রের কোথায় কি হচ্ছে ইত্যাদি সবার সামনে তুলে ধরে গণমাধ্যম এক মহান দায়িত্ব পালন করে চলেছে। সে হিসেবে গণমাধ্যম বর্তমানে সমাজের গণআদালত, বিবেক ও মূল্যবোধের মানদন্ড সকলের উদ্ধে । কিন্তু সবদিক থেকে বিচার বিবেচনায় গণমাধ্যম কর্মীরা রয়েছেন একেবারে তলানিত । সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য । গণমাধ্যম ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভাব না। গণমাধ্যম সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতু বন্ধন হিসেবে কাজ করে সব সময়। গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ স্বরুপ। স্বাধীন গণমাধ্যম যদি কোন সমাজে/রাষ্ট্রে থাকে তবে সে রাষ্ট্রে কখনো নানা বিভেদ ও দুর্ভীক্ষ হয়না। গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করা খুবই কঠিন। এ জন্য প্রয়োজন পেশাদার ও সাহসী সংবাদিকতা । প্রয়োজন রয়েছে নিরেপেক্ষ সাংবাদ মাধ্যমের। যখন রাষ্ট্রে জবাবদিহিহীন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নাগরিকের অন্যান্য অধিকার, বিশেষ করে মতপ্রকাশের অধিকার যখন সীমিত হয়ে যায়, তখন সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আলাদাভাবে টিকে থাকে না। বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোর, তথা সাংবাদিকতার, স্বাধীনতার প্রশ্ন নিয়ে কোনো বিতর্ক একে বারে কম নয়। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল, সাংবাদিক ও সিভিল সোসাইটির সদস্য, সাধারণ পাঠক, এমনকি রাজনৈতিক দলের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কর্মী পর্যন্ত এই বিষয়ে একমত যে গণমাধ্যমের এবং নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকা অবশ্যই দরকার। কিন্ত গণমাধ্যম ও গণমাধ্যম কর্মীরা এসব থেকে বঞ্চিত। বর্তমানে সাংবাদিকতায় পক্ষপাত ও অপসাংবাদিকতার কারনে মুল সাংবাদিকতা মুখ থুবড়ে পড়েছে। এ ক্ষেত্রে পত্রিকার হকার থেকে শুরু করে সমাজের অপরাধ প্রবনায় জড়িতরা নিজেদের বাঁচাতে সাংবাদিক ও সংবাদ পত্র বা মিডিয়ার মালিক হয়ে পুরো সাংবাদ ব্যবস্থাকে হুমকীর মুখে ফেলেছে। যে কারনে পুরো গণমাধ্যম বা সংবাদপত্র জগত্টাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা হচ্ছে। সংবাদপত্র জগতের এমনতর টানাপড়েনের সময়ের সুযোগ নিয়ে বাজারে যেমন এসেছে অনেক ভুঁইফোড় সংবাদপত্র, তেমনি এসেছে সাংবাদিক নামধারী একধরনের ধান্দাবাজ ব্যক্তি, যারা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সুস্থ গণমাধ্যমকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই ভুঁইফোড় সংবাদপত্র বা ধান্দাবাজ সাংবাদিক ব্ল্যাকমেইল থেকে শুরু করে চাঁদাবাজিসহ এমন কোনো অপকর্ম নেই, যা করতে পারে না। সরকার একটি ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার (জরমযঃ ঃড় ওহভড়ৎসধঃরড়হ) নামের একটি আইন পাস করেছে। এসব ধান্দাবাজ সাংবাদিক নামধারী দুর্বৃত্ত নিয়মিত এই আইনের অপব্যবহার করে এবং সাংবাদিকতা পেশার মতো একটি মহৎ পেশার অপবাদ ঘটায়। এ প্রবণতা প্রতিরোধ করতে পারে শুধু এই পেশায় যাঁরা পেশাদার সংবাদমাধ্যম বা কর্মী আছেন তাঁরাই। গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠতাই হওয়া উচিত একটি ভালো মানের গণমাধ্যমের মানের মাপকাঠি এক জন ভালোমানের সাংবাদিক। সংবাদমাধ্যম শুধুমাত্র তথ্য সরবরাহ করে না। এটি যেমন জনমত তৈরি করে, তেমনি জনগণকে সংগঠিত করে, লড়াইয়ে উদ্বুদ্ধ করে।এছাড় নাগরিকের মত প্রকাশের সহযোগীতা করে। সমাজ পরিবর্তনে সংবাদ মাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। গণতান্ত্রিক সামজে যেখানে স্বাধীন সংবাদপত্র রয়েছে, সেখানে দুর্ভিক্ষে মানুষ মারা যায় কম। মূলত যেখানে গণতন্ত্র নেই এবং স্বাধীন সংবাদপত্র নেই, সেখানে অনাহারে মানুষের মৃত্যুর হার বেশি। গণমাধ্যম সমাজের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে বদল আনতে পারে। তবে তা হতে হবে অবশ্যই গঠনমূলক। সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকতে হবে মানব সেবা করা। পৃথিবীতে মানব সেবা করার যতগুলো পন্থা আছে তার মধ্যে লেখার সেবাই সবচেয়ে ঊর্ধ্বে। লেখনীর মাধ্যমে যেভাবে এদেশের সকল মানুষের উপকার করা যায় অন্যভাবে তা করা যায় না। কিন্তু বর্তমানে সাংবাদিকতার নামে অপ-সাংবাদিকতার চর্চাও কম হচ্ছে না । এজন্য গোটা সাংবাদিকতা বিতর্কীত। সাংবাদিকতার নামে কতিপয় গণমাধ্যমে কিছু ধান্ধাবাজ এই মাধ্যম টাকে কজ্বায় নিয়ে ছড়ি ঘোড়াচ্ছে। অনেক সময় দেখা যায়, বাণিজ্যের খাতিরে রাতারাতি স্বার্থ হাসিলের জন্য ভিওিহীন সংবাদ কিংবা হলুদ সাংবাদিকতার অবতারণা করেন সংবাদ মাধ্যমগুলি। যা সম্পূর্ণই নীতি বহির্ভূত। আবার অনেকে সংবাদের বা সংবাদপত্রের কাটতি বাড়ানোর জন্যে অশ্লীলতাকে উসকে দেন। সংবাদের হেডলাইনে কিংবা ইন্ট্রোতে এমনভাবে চাঞ্চল্য ছড়ান যাতে পাঠক পড়তে বাধ্য হয়। কিন্তু সংবাদের ভেতরে গিয়ে তার সঠিক সুরাহা পাওয়াই মুশকিল হয়ে যায়।এছাড়া, আরেকটি বিষয় নিয়ে আমাদের কতিপয় নিউজ পোর্টাল বেশ রং লাগিয়েই সংবাদ পরিবেশন করেন।সাংবাদিকতার নৈতিকতাকে বলি দিয়ে কতিপয় বাণিজ্য-লোভী গণমাধ্যম এমনভাবে সংবাদ পরিবেশন করছে। এর ফলে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হয়ে দাঁড়িয়েছে তা সহজেই অনুমেয়। প্রকৃতপক্ষে সাংবাদিক ও সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা ও নেশা। এটা কেউ বেছে নেয় পেশা হিসাবে। অনেকে আবার নেশা হিসাবে। পেশা এবং নেশা যাই থাকুক, এ পর্ষদে থেকে পাঁঠাকে খাসি, গাধাকে হাতি বলার কোনও সুযোগ সাংবাদিকতার গঠনতন্ত্রের ডিকশনারিতে নেই। তদুপরি কেউ তোষামোদিতা করে কাউকে আকাশসম প্রশংসায় তুলে নেয়া এবং কাউকে ও দোষারোপের তলানিতে আটলান্টিকের তলদেশে নিয়ে যাওয়াটাও সাংবাদিকতার বৈশিষ্ট্য লঙ্ঘন ও অপ-সাংবাদিকতারই নামান্তর। অপ-সাংবাদিকতা, হলুদ সাংবাদিকতা, বেপরোয়া সাংবাদিকতা, দিকভ্রান্ত সাংবাদিকতা ও তোষামোদ মার্কা সাংবাদিকতার সংবাদ, সংবাদ প্রতিবেদন, ফিচার, কলাম যখন কোনও কাগজে বের হয় এবং এ নিয়ে যখন সমালোচনা ও প্রতিবাদের কণ্ঠ উচ্চারিত হয়, তখন একজন নগণ্য সাংবাদিক ও কলাম লেখকের দুঃখ-কষ্টের শেষ থাকে না। মূল কথা ও সাংবাদিকতার থিম হচ্ছে ভয়ভীতি, রাগ উপেক্ষা করে সত্যের অনুসন্ধান, প্রতিফলন ও বেহুঁশকে জাগ্রতকরণ। এ জায়গায় সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্যে মিশ্রিত করারও কোনও সুযোগ নেই। একজন ভাল সাংবাদিক সব সময় সত্য উদঘাটন করতে প্রতিশ্রæতিবদ্ধ। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ একবারেই অনাকাঙ্খিত। ফলে সাংবাদিকতার মাধ্যম হতে হবে নিরেপক্ষ ও জনকল্যান ময়। এগিয়ে আসতে হবে রাষ্ট্রকে সার্বিক সহযোগীতা করতে হবে সংবাদ মাধ্যমগুলিকে। এক্ষেত্রে অবশ্যই আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যাবশ্যক। সাংবাদিকতা একটি সুমহান পেশা, শিক্ষিত সমাজের একটি পেশা, দায়িত্বশীল শ্রেণীর একটি পেশা। এ পেশার মানমর্যাদা সমুন্নত রাখার দায়িত্ব অবশ্যই প্রকৃত সাংবাদিকদের।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।