বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার “এর আয়োজনে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল পদক ২০২২ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে তিনটায় তথ্য ভবন অডিটোরিয়ামে প্রেস কাউন্সিল এর চেয়ারম্যান বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি মো.নিজামুল হক নাসিম এর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড.হাছান মাহমুদ এমপি। এ সময় তিনি বলেন, প্রেস কাউন্সিলের একসময় তিরস্কার করা ছাড়া আর কোনো ক্ষমতা ছিল না । কারণ তখন তিরস্কারই ছিল বড় শাস্তি। কিন্তু সমাজ যখন বস্তুবাদ ও আত্মকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে তাই সমাজে এখন আর তিরস্কার কাজ করছে না। তাই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এখন প্রেস কাউন্সিলের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কাজ চলছে। শিগগিরই তা বাস্তবায়ন হলে প্রেস কাউন্সিলের ক্ষমতা বাড়বে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক, বহুমাত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক সমাজকে শক্তিশালী করতে হলে গণমাধ্যমের বিকাশ যেমন প্রয়োজন তেমনি গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা ও প্রয়োজন। আজকাল কালো টাকার মালিকরা তাদের স্বার্থ রক্ষায় পত্রিকা বের করেন এবং সাংবাদিকরা বাধ্য হন তার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে। এটিই গণমাধ্যমের প্রতিবন্ধকতা। ব্যক্তি স্বার্থে গণমাধ্যম ব্যবহার হবে তা কাম্য নয়৷ লিখতে হবে মালিক পক্ষের বিরুদ্ধেও। তাহলে তা সঠিক হবে। এটি নিয়ে ভাবা দরকার বলে আমি মনে করি।মন্ত্রী বলেন, প্রেস কাউন্সিল পদক গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের উৎকর্ষতা সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই পদকের মাধ্যমে সমগ্র দেশের গণমাধ্যম উৎসাহিত হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ ও আয়না হিসেবে কাজ করে। যারা তথ্যভিত্তিক রিপোর্ট করে তাদের পুরস্কার পাওয়া দরকার। তাহলে সমাজ রাষ্ট্র উপকৃত হবে। সার্বিকভাবে এ পুরস্কার গুলো গণমাধ্যমের উন্নয়নে কাজ করবে এবং গণমাধ্যমে আরও ভালো রিপোর্ট প্রকাশে প্রসার ঘটাবে।হাছান মাহমুদ বলেন, যারা দায়িত্বে থাকবে তাদের বিরুদ্ধে সমালোচনা হবে এটাই স্বাভাবিক। তথ্য সত্যি হলে তা লিখতে হবে। একটি পত্রিকায় আমি পরিবেশমন্ত্রী থাকা অবস্থায় আমার কার্টুন চেপেছিল। পরিবেশ রক্ষায় তারা কাজ করেছিল। আমি সুপারিশ করে তাদের পুরস্কার দিয়েছি।তিনি বলেন, গণমাধ্যমের পরিচয় দিয়ে কেউ যেন অপ-সাংবাদিকতা করতে না পারে সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। ইতিমধ্যে সাংবাদিকদের তালিকা হচ্ছে। কিছু কিছু নামধারী সাংবাদিকদের জন্য পুরো সাংবাদিক সমাজের বদনাম হবে সেটি যেন না হয়। সেজন্য আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এ সময় তিনি বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল পদক ২০২২ পাঁচজন সাংবাদিক এবং দুটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেন । অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেস কাউন্সিলের সদস্য ইকবাল সোবহান চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন সাবেক কৃষি মন্ত্রী ও কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম মতিয়া চৌধুরী, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফারুক আহমেদ, প্রেস কাউন্সিলের সদস্য ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি নুরুল হুদা। এ সময় দেশ বরেণ্য ও প্রথিতযশা সাংবাদিক, দৈনিক সংবাদের সম্পাদক মরুহুম বজলুর রহমান আজীবন সম্মাননা (মরণোত্তর) পদক পেয়েছেন। প্রাতিষ্ঠানিক সম্মাননায় দৈনিক যুগান্তর, আঞ্চলিক প্রাতিষ্ঠানিক সম্মাননায় খুলনার দৈনিক পূর্বাঞ্চল, গ্রামীণ সাংবাদিকতায় দৈনিক ভোরের কাগজের সোনাগাজী প্রতিনিধি সৈয়দ মনির আহমদ, উন্নয়ন সাংবাদিকতায় বাংলা ট্রিবিউনের সিনিয়র রিপোর্টার মো. শাহেদুল ইসলাম (শাহেদ শফিক), নারী সাংবাদিকতায় বিটিভির রিপোর্টার তুলনা আফরিন, আলোকচিত্র সাংবাদিকতায় দি নিউ এজের স্টাফ ফটোসাংবাদিক মো. সৌরভ লস্কর পদক পেয়েছেন।
উলেখ্য,২০১৮ সাল থেকে দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল পদক। শুরুতে ছয়টি ক্যাটাগরিতে দেওয়া হয়েছে এই পদক। ২০১৯ সাল থেকে আঞ্চলিক প্রাতিষ্ঠানিক সম্মাননা নামে আরও একটি ক্যাটাগরি নতুন যোগ করা হয় । প্রথম দুই বছরে প্রতি ক্যাটাগরিতে পঞ্চাশ হাজার টাকার চেক, একটি সনদপত্র ও একটি ক্রেস্ট দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সাল থেকে আজীবন সম্মাননা, প্রাতিষ্ঠানিক সম্মাননা ও আঞ্চলিক প্রাতিষ্ঠানিক সম্মাননা ক্যাটাগরিতে এক লাখ টাকা, একটি সনদপত্র ও একটি ক্রেস্ট দেওয়া হচ্ছে এবং বাকি চারটি ক্যাটাগরিতে পঞ্চাশ হাজার টাকার চেক, একটি সনদপত্র ও একটি ক্রেস্ট দেওয়া হচ্ছে । ২০২২ সালেও একইভাবে এই পদক দেওয়া হয়েছে।